ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন থেকে নীলক্ষেতের রিক্সাভাড়া ছেলেদের জন্য ১০ টাকা হলেও মেয়েদের জন্য ১৫ টাকা, কিছুদিন আগের এক ক্লাসে ভিন্ন প্রসঙ্গের এক আলোচনায় এমন অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক নারী শিক্ষাথী্। তিনি এরজন্য দায়ী করেন পুরুষ রিক্সাওয়ালাদের। ঘটনাটি সত্য হলে এর দায় অবশ্যই রিক্সাওয়ালা এড়াতে পারবেন না। এটা অনৈতিক এবং অগ্রহণযোগ্য। তবে এ আচরনের কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে রিক্সাওয়ালার পাশাপাশি নারীও কম দায়ী নন। তার মানে হচ্ছে, এরূপ আচরনের জন্য উভয়পক্ষই দায়ী। তবে লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে, নারীর দিক থেকে কারণটি সামাজিক আর রিক্সাওয়ালার দিক থেকে কারণটি অথনৈতিক। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, এক্ষেত্রে নারী সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে আচরণ করে। সেটি রিক্সাওয়ালার অথনৈতিক কারণকে ডেকে আনে। সামাজিক কারণটি হচ্ছে, আমাদের নারীদের নারী পুরুষ সবাই ‘কোমল’ হিসাবে দেখে থাকেন। নারী কোমল, তাই তিনি রিক্সায় উঠার আগে ভাড়া জিজ্ঞেস বা দরকষাকষি করতে পারেন না। নারী কোমল তাই তার নিকট থেকে রিক্সা ভাড়া বেশি চাওয়া হলেও হেঁটে যেতে পারেন না। রিক্সায়ই তাকে যেতে হয়।

কোন সেবার চাহিদা যথন এরকম হয়, তথন যোগানদাতা দাম একটু বাড়িয়ে দিবে বইকি…………….রিক্সাওয়ালারা যদি পুরুষকেও এ পরিস্থিতিতে পায়, তবে সেখানেও সে একই ধরণের আচরণ করবে বা করে।
অন্যদিক থেকে বলা যায়, সামাজিক কারণের সমাধান সহজ, অথনৈতিক কারণের ক্ষেত্রে সমাধান সহজ নয়। এমনকি অথনৈতিক কারণ সমাধান অনেক সময় অসম্ভব।এছাড়াও রিক্সাওয়ালা ‌‌’পুরুষদের’ তুলনায় রিক্সায় চড়া ‌’নারীরা’ তুলনামূলক বেশি শিক্ষিত বা সচেতন। তাই পরিবতনের দায় তাদের বেশি। নিজেদের যৌক্তিক বিশ্লেষণও আজ নারীবাদী আন্দোলনের অংশ হওয়া উচিত। নয়ত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ভাঙা কঠিন হয়ে যেতে পারে……………..