ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

না বেগম সাহেবা, আমারদেশ পত্রিকাকে টিকিয়ে রাখা কিংবা কোন রাজনৈতিক দলের দলীয় সম্পাদককে মুক্ত করার বিষয়টি সাধারণ বাংলাদেশীদের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নয়। ৫টি মৌলিক চাহিদার নামে বহুল ব্যবহৃত যে “শাপমুক্তির দোয়া” মানুষকে শিখিয়েছেন, তার মাঝেই এখনো নাক ডুবিয়ে প্রাণ বাঁচাচ্ছে দেশের জনগণ। আর একজন মাহমুদুর রহমান জেলে থেকে জাতীয়তাবাদী দলের হাতে ব্যবহৃত হোক, ব্যবহৃত হতে হতে তার গায়ে ধর্ষনের যাবতীয় নমুনা লাগুক। এটা একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সাথে তার বেইমানীর শাস্তি। আপনার গৃহপালিত আধুনিক মানুষ শফিক রেহমানের রাজনৈতিক খেলাধুলায় যে এতো বেশি ফাউল, তা আপনার বক্তৃতা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। কেন লোকটা প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার যুক্তিখন্ডনের নথিকে “জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ” বলে চালিয়ে দিতে চাইলেন? মনে হচ্ছে এরশাদের পতনের পর থেকে দেশে আন্ত:রাজনৈতিক দলীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা চলছে। চলতে থাকুক সমস্যা নেই। কিন্তু “জনগণ” আর “প্রিয় দেশবাসী” দের নিয়ে আপনাদের টানাহেঁচড়াতে দেহ থেকে হস্ত খুলে যাচ্ছে আর যাচ্ছে। ও! ভালো কথা- আমারদেশ পত্রিকা আর জাতীয় চাটুকার মাহমুদুর রহমানকে দিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তৃতা প্রদান শুরু না করলেও পারতেন।

প্রেসক্লাবের নির্বাচনে বিএনপি ঘরানার সাংবাদিকদের জয়কে আ.লীগের প্রতি দাঁতভাঙ্গা জবাব বলে চালিয়ে দেয়ার যে চেষ্টা আপনি করেছেন, তা ঠিক নয়। বিশ্বাস করুন, সাংবাদিকদেরকে এভাবে প্রলোভন দেখিয়ে দেখিয়ে দলের কর্মসূচীতে ভেড়ানোর রাজনৈতিক প্রচেষ্টায় কখনোই জনগণের সম্মতি ছিলো না। এসব না করে এক বালতি কাদা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে গিয়ে ছুঁড়ে মারুন। যাবার সময় উনার জন্যও এক বালতি নিয়ে যাইয়েন, যাতে করে উনি আবার আপনার বাড়ির সামনে গিয়ে মারতে পারেন। আমাদের সাবান কেনার টাকা নেই। তবে ভালো লেগেছে শফিক রেহমানের সামান্য প্রচেষ্টায়। তিনি আপনাকে দিয়ে “ইউ টিউব” এর মতো শব্দ উচ্চারণ করিয়েছেন। ভদ্রলোক চাইলে আপনাকে শুদ্ধ করার কাজও করতে পারে। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে তিনি আপনার দালালী করবেনই করবেন।

একটা সত্য কথা একটু ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে স্বীকার করেছেন। দেশে দু’টি পক্ষ শাসক আর শাসিত। এটা নি:শর্ত সত্য কথা ছিলো। তবে আপনি বোধহয় তরুনদের ভেতরের খবর নেয়া এখনো শুরু করেননি। মৌচাকে ঢিল অথবা আমারদেশ পাঠক ফোরামের সদস্যরাই কিন্তু দেশের তরুন না। এরা অতিসামান্য। এসব পড়ে দেখে তরুনদেরকে চিনতে পারবেন না। আপনার জন্য সামনের নির্বাচন আসতে আসতে হয়তো দেশে কেবল একটা পক্ষই থাকবে। জনগন। এছাড়া আর কোন পক্ষ থাকবে না। তবে একটিমাত্র পক্ষের নির্বাচিত কিছু কামলা থাকবে। হা হা হা… আমলা না কিন্তু, কামলা।

আপনার জীবনে স্বামীর নামও এতোবার মুখে নেননি, ৭২ এর অর্থনৈতিক সংকটের নাম যতোবার মুখে এনেছেন। এসব কিছু একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে মানায় না (আমরা দু:খিত যে আপনার নিজস্ব কোন পরিচয় নেই)।

আ.লীগ সরকারের দু’বছর পূর্তিতে যুগান্তর এর শিরোণাম, সিরাজুল ইসলাম স্যার এর মন্তব্য, হায়দার আকবর খান রণোর মন্তব্য উল্লেখ করে মজা লুটতে চাইলেন। কেউই মিথ্যা বলেননি। অথচ আপনি তাদের মত শক্তিশালী সত্য বলা শিখলেন না। কেন শিখলেন না? তাদের মন্তব্য বক্তব্যকে মই বানিয়ে কোথায় উঠতে চান? আমরা লজ্জিত যে আমাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেত্রী একজন ভালো বিশ্লেষক না। অথচ আমরা তার হাতে দু’দুবার পুরো দেশের দ্বায়িত্ব দিয়েছিলাম। আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত এমন বোকামির জন্য।

বিদ্যুত নিয়ে একটি কথাও বলবেন না। পুরো বিদ্যুত সেক্টর ধ্বংস করেছে আপনার সরকার। একেরপর এক বিদ্যুত কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়েছে আপনার সরকারের সময়। প্লীজ বেগম সাহেবা আপনি বিদ্যুত নিয়ে কথা বলে আমাদের শোকের মাত্রা বাড়াবেন না। দেশের জনগণের হার্টের প্রতি কিলোবাইটে একটা করে ব্লক পড়েছে। আপনি দয়া করুন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কথা বলার সাহস হলো না! কেন হলো না? আপনি যে দেশের মাটির কাছে সার্বভৌমত্বের কাছে অপরাধী সে দেশে রাজনীতি করার মতো দয়া এদেশের মানুষ ভুলেভালে করে ফেলেছে। এ কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে হলেও এবার ভালো হবার চেষ্টা করুন। না হয় আমরা লজ্জিত হতে হতে আপনাদের মান সম্মান নিয়ে চিনিমিনি খেলা শুরু করে দিবো।

আমরা অভাবে আছি, আমাদের নিরাপত্তা নেই, বিদ্যুতের অভাবে হাঁড়ের ক্যালসিয়াম শুকিয়ে যাচ্ছে, সীমান্তে মানুষ মারা যাচ্ছে, বিদেশের শ্রমবাজার হাতছাড়া হচ্ছে, গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে, ঢাকা শহরের যানযটে বসে বসে বয়স হারিয়ে ফেলছি- এরকম হাজারো সমস্যায় প্রতিদিন আমরা ভুগছি। আপনি দেখি সতীনের মতোন সেসব সমস্যা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য কানের কাছে এসে ভনভন করছেন। এসবের একটা ফলাফল পাবেন- এমন আশায়তো!! আপনার শুটকী তরকারির ঢাকনা দিয়ে রাখুন। গন্ধ বেরুচ্ছে। গদিতো! লঙ্কা বহুদূর।

বেগম সাহেবা, ভাঙা রেকর্ড দয়া করে আর বাজাবেন না। আ.লীগের ব্যর্থতার কারণে আপনাকে ক্ষমতা উপহার দিলে সফল হবার দশমিক কতভাগ নিশ্চয়তা আছে? অতীতের রেকর্ড কি? হাওয়া ভবনের খবরাখবর কি হাওয়ায় উড়িয়ে গেছে?

ক্ষমতা হয়তো আপনাকে দেশের মানুষ আবার দেবে। এদেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি কম। তবে এবার আস্তে স্মার্ট হবার চেষ্টা করুন, একটু ইতিবাচক চিন্তা করুন। মানুষের অভাবের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় আসার কল্পনা করার আগে একবার ভাবুন, অভাবক্লিষ্ট মানুষের সমর্থনে কয় বেলা উপোষ থেকেছেন? একটি বাড়ি হারানোর শোকে সারা দেশে হরতাল ডেকে মানুষের ভোগান্তির কথা এখনো স্মৃতিশক্তিহীন মানুষ ভোলেনি।

আপনার আল্লাহ আর মেজর জিয়ার দোহাই লাগে বুঝার চেষ্টা করুন, আমাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলার মতো যোগ্যতা আপনার নেই। আমরা চাই আপনি সে যোগ্যতা অর্জন করুন। (আমিন)

জয় বাংলা, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।