ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, শিল্প-সংস্কৃতি

পুরো নাম মাসুদ রানা হলেও নিজেকে  রকস্টোন মাসুদ নামে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন ২৮ বছর বয়সী এই আঁকিয়ে। অভাবের কারণে মাঝে মাঝেই পড়াশোনায়  ব্যাঘাত ঘটেছে তার। ২০০২ সালে এসএসসি পাশ করার পর এইচএসসি পরীক্ষা দেন ২০০৬ সালে।  এরপর ২০১৬ সালে  ঢাকা আর্ট কলেজে বিএফএ প্রি-ডিগ্রিতে ভর্তি  হন।

পড়াশোনার পাশাপাশি  অনেকের ‘পোট্রেইট’ এঁকে দেন মাসুদ।  হুবহু নিজের ছবি দেখে মাসুদের প্রতি খুশি হয়ে কেউ কেউ ৫০০-১০০০  টাকা পর্যন্ত সম্মানি দিয়ে থাকেন।

গত ২৯ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঠাকুরগাঁও আগমন উপলক্ষ্যে রঙতুলিতে বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে ফুটিয়ে তোলার চিন্তা করেন শিল্পীমনা মাসুদ রানা। প্রথমে ৪:৬ ফুটের ১০টি ক্যানভাস নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে থাকলেও, পরে ৪.৪৫ ফুটের একটি ক্যানভাসে কাজ শুরু করতে হয় তাকে।

দশটি ক্যানভাসে কাজের জন্য খরচ হতো ২০ হাজার টাকা। অর্থাভাবে পাঁচ হাজার টাকায় একটি ৪.৪৫ ফুটের ক্যানভাসেই নিজের ইচ্ছেকে রঙ আর তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলার কাজটি করেন মাসুদ। তার চিত্রকর্মে স্থান পায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ।

তবে অনেক চেষ্টা করেও ঠাকুরগাঁওয়ে  জনসভার দিন ৪.৪৫ ফুটের ওই চিত্রকর্মটি প্রধানমন্ত্রীকে দেখাতে ব্যর্থ হন এই আঁকিয়ে। মাসুদের দু:খ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কতটা ভালোবাসা নিয়ে এসেছিলেন তিনি সেদিন তা জানাতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

এরপর ভগ্নমনে পীরগঞ্জে ফিরে এলেও আবারো স্বপ্ন দেখেন মাসুদ রানা;  চিত্র প্রদর্শনী করতে চান তিনি। কীভাবে আয়োজন করবেন সেজন্য অনেকের শরণাপন্ন হয়েও কাজ না হলে স্থানীয় এক নেতার সহায়তায় জনসাধারণের জন্য তার চিত্রকর্মটি প্রদর্শন করা সম্ভব হয়।

পীরগঞ্জের পশ্চিম চৌরাস্তার মোড়ে আইপজিটিভ কার্যালয়ের সামনের বড় দেয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হয় মাসুদ রানার চিত্রকর্মটি। এই জায়গাটি জনবহুল হওয়াতে চিত্রকর্মটি অনেক মানুষের চোখে পরে।  স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার মানুষ তার প্রশংসা করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে ‘একটি সাদামাটা উন্মুক্ত চিত্র প্রদর্শনী’ শীর্ষকে এই চিত্র প্রদর্শনীর প্রতিপাদ্য ছিল  ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ-বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু এবং শেষ মুহূর্তের চেতনা’।

প্রতিপাদ্য নিয়ে এই তরুণ আঁকিয়ে বলেন,  “বঙ্গবন্ধু জন্ম নিয়েছিলেন বাংলাদেশের জন্য আর বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্য। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল মুক্তিকামী মানুষের সাহস বা শেষ মুহূর্তের চেতনা। বাংলাদেশকে জয়ী করার জন্য সবাই ওই শেষ মুহূর্তের চেতনায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে।”

 

আক্ষেপ নিয়ে মাসুদ রানা বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষ্যে আঁকা এই চিত্রকর্মটি তিনি দেখতে পেলেন না।  পীরগঞ্জের অনেক বিজ্ঞ সাংবাদিকগণ আমার চিত্রকর্মটি তুলে ধরেননি।  আইপজিটিভের প্রতিষ্ঠাতা শফিক পারভেজ পরাগ এগিলে এলেন এবং এরপর কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল তা প্রচার করে।  সবাই এগিয়ে এলে হয়তো তা প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়তো।”