ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাগ করার পর শহরে বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড-পোস্টার ইত্যাদির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন সম্ভাব্য তিন প্রার্থী। এদের মধ্যে হাজী মোহাম্মদ সেলিম ও সাঈদ খোকনের হাসিমাখা মুখের বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টারের মতোই চাঞ্চল্য তৈরি করছে তুহিন মালিকের পোস্টার আর দেয়াল লিখন। আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে হাজী সেলিম আর সাবেক মেয়র হানিফের ছেলে হিসেবে খোকনকে শহরবাসী ভালোই চেনেন।

কিন্তু কে এই তুহিন মালিক?
ঢাকায় বাচতে, ঢাকাকে বাচাতে- এই ‘মিশনে’ মাঠে নেমেছেন তুহিন মালিক।

হাজী সেলিমের ‘বিশ্বাসে বিশ্বাসী’ আর সাঈদ খোকনের ‘সুন্দর ঢাকা গড়তে’ মূল সুরের প্রচারণার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে তুহিনের ‘ঢাকায় বাঁচতে ঢাকাকে বাঁচাতে’ শীর্ষক প্রচারণা। হাজী সেলিম আর সাঈদ খোকনের প্রচারণা সম্প্রতি শুরু হলেও তুহিন মালিক এ কাজে মগ্ন টানা পাঁচ বছর ধরে। সিটি করপোরেশন দুই ভাগ হবার অনেক আগে থেকে, সেই ২০০৭ সাল থেকে নিজের নাম আর ছবিসহ নানা সচেতনতামূলক পোস্টারিং ও দেয়াল লিখন করে আসছেন ঢাকার মেয়র হতে আগ্রহী তুহিন মালিক। এরই মধ্যে তার ছবি ও নামের সঙ্গে পরিচিত হয়ে গেছে শহরবাসী।

হাজী সেলিম এবং সাঈদ খোকন দুজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ। ঢাকা মহানগরের নেতা। একজন ঢাকার একটি আসন থেকে সাবেক সংসদ সদস্য, আরেকজন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে। কিন্তু এমন কোনো দলীয় রাজনৈতিক পরিচয় নেই তুহিন মালিকের।

তুহিন মালিকের ডিগ্রীগুলো দেখে নেওয়া যাকঃ
British Chevening Scholar

Dhaka University LLB(Hons)
LLM

University of Essex UK LLM in International
Human Rights Law

California, USA Ph.D in International
Human Rights Law

HEAB PG Diploma in
Human Rights Law

Higher Diploma in
Intl. & Com. Law

Research Diploma in
Eco-Socio-Cult Rights

National Law School/ of India University— University Grant Commission Course for Law Teachers Bangalore, India

United States Naval Justice School Intl. Detachment Training, USA

Asia Pacific Centre for Security Studies, Hawaii, USA—– Training on Democracy Governance & Administrative Separation

National University Law Teachers Course

Coordinator, Human Rights Training Programme for Lawyers, Bangladesh Bar Council and Royal Netherlands Government

Coordinator, Regugee Law Training Programme for Lawyers, members of Arms Forces, BDR, Police, NGO Activist, Bangladesh Bar Council and UNHCR

Coordinator, Bar Vocational Course (BVC), Bangladesh Bar Council

Consultant, Bangladesh Press Council

Resource Person- Police Staff College, National Institute of Local Government (NILG), Legal Education and Training Institute

Advocate, Supreme Court of Bangladesh
Head of the Chamber, Malik Law Associates (Advocates & Barristers) House- 15, Road-128, Gulshan, Dhaka. Room No. 215, Annex Building, Supreme Court Bar, Shahbag, Dhaka.

Director, Dhaka Chamber of Commerce & Industry

Arbitrator, FBCCI Tribunal

Represented Bangladesh Bar Council in 7th SAARCLAW Conference, Colombo, Sri Lanka in 1998.

Founder and General Secretary of DUCSU Shangraha Shala ( being a non political student elected by the Vice-Chancellor of Dhaka University)

Secretary, Dhaka College Cultural Society

Advisor, Dhaka Heritage

Advisor, Human Rights Observation Association

British Chevening Scholar 1999

Awarded Human Rights Gold Madel-2007

Bangladesh Bar Council Resource Person Award

Bangabanthu Award 2009

Awarded Osmani Gold Madel

Awarded Distinctions in Diploma, Higher Diploma and Research Diploma on Human Rights Law

Supreme Court Bar Association
Dhaka Metro Bar Association
Gulshan Society (life member)
Baridhara Society (life member)
Bangladesh Ain Samitee (life member)

House-29, Road-12, Block-H, Banani, Dhaka

E-mail- malik.law.associates@hotmail.com

Author of “Human Rights Law” published by Bar Council and Royal Netherlands Government

Author of “International Refugee Law” published by Bar Council and UNHCR

Editor of Human Rights মনিটর

শহরের আইনজীবীরা অবশ্য ঢাকার স্বঘোষিত ‘সৎ ও যোগ্য মেয়র প্রার্থী’ তুহিন মালিককে অনেক আগে থেকেই চেনেন। সুপ্রিম কোর্টে তিনি আইন পেশায় রয়েছেন প্রায় দুই দশক। তার পোষ্টারে দাবি করা আছে যে তিনি সাবেক জিএস, ডাকসু। মাঝখানে ছোট করে লেখা ‘ডাকসু সংগ্রহশালা’। মালিক ল’ অ্যাসোসিয়েটস এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তার এ আইন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষানবীশি করে আদালত অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত সফল আইনজীবী।

পুরান ঢাকাইয়া তুহিন!
তুহিন মালিক পুরান ঢাকার অধিবাসী। জন্মের পর তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা ওখানেই। আরমানিটোল স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু। তবে পুরান ঢাকায় অনুসন্ধান করে জানা গেছে, পোষ্টারে ছাড়া সরাসরি তুহিন মালিককে দেখার ‘সৌভাগ্য’ হয়নি কারো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক করেছেন। বৃটেনের অ্যাশেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার আইনে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

পরে দেশে ফিরে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। বাংলাদেশে আইন নিয়ে বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন তিনি। দেশে ফেরার পর সংগঠক হিসেবে তার কাজ শুরু হয় বৃহত্তর ঢাকা যুব ফোরাম গঠন করার মাধ্যমে। ওল্ড ঢাকা কমিউনিটি’র সভাপতিত্ব করছেন এখন।

তেজগাঁও ল’ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন বেশ অনেক দিন। ব্যবসায়ী হিসেবে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির পরিচালক ছিলেন। এখন জড়িত আছেন বাংলাদেশ আইন সমিতি, ঢাকা সমিতি ও গুলশান সোসাইটির সঙ্গে।

তুহিনের ঢাকা হবে ‘কোম্পানির শহর’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী তুহিন মালিক ‘সম্মিলিত নাগরিক কমিটি’র ব্যানারে নিজেকে পরিচিত করাতে চাচ্ছেন। কমিটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেউ নেই। তার লক্ষ্য তরুণ ভোটাররা। তিনি মনে করেন, তরুণরা পরিবর্তন চায়। প্রতিনিয়ত বলা হচ্ছে, পরিবর্তন নিয়ে আসবে তরুনরাই। তবে তার মতে, গত ২০ বছর ধরে তরুনদের দ্বারা পরিবর্তনের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে তরুনদের কর্মসংস্থানের কোনো ব্যাবস্থাই করা হয়নি।

সকল সমস্যার টোটকা অষুধ ‘প্রাইভেটাইজেশান’:
মেয়র হলে বিশেষ কি পরিকল্পনা আছে আপনার? এমন প্রশ্নের জবাবে তুহিন মালিক জানালেন তিনি বেসরকারিকরণে বিশ্বাসী। ব্যক্তিগত জীবনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ভক্ত তুহিনের বিশ্বাস, ‘‘বেসরকারিকরণের মাধ্যমে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ঢাকার চেহারা পাল্টে দিতে পারবো আমি।’’ ঢাকার প্রতিটি রাস্তা, ছোট ছোট এলাকা তিনি বিভিন্ন কোম্পানির হাতে ছেড়ে দিতে চান।” কোন কোম্পানিগুলো এই এই দ্বায়িত্ব পাবে এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আইডিবি থেকে শুরু করে প্রয়োজনে ইসরাইলের কোনো কোম্পানিও পেতে পারে- দক্ষতার ভিত্তিতে।

ঢাকা শহরকে প্রাইভেটাইজেশান করবেন তুহিন মালিক। ঢাকা শহরের সকল সমস্যার টোটকা অষুধ প্রাইভেটাইজেশান বলে মনে করেন তুহিন মালিক। রাস্ট্র থাকলেই দুর্নীতি, রাস্ট্র কখনো ব্যবসা করবে না বলে তিনি মনে করেন।
তার পরিকল্পনার মধ্যে ‘নগর ভবনে’র কোনো জায়গা নেই। তিনি তার সাক্ষাতকারে বলেন,”উন্নয়নের শুরুতের উচিত নগরভবনকে উড়িয়ে দেওয়া”। তিনি মনে করেন করপোরেশনের মেয়রের জন্য এত বিশাল স্থাপনার কোনো দরকার নাই। তিনি বললেন, ঢাকার মেয়র হবে চাকরের মতো। জনসেবার জন্য যা যা দরকার মেয়ররা তাই করবেন।

পরিশেষঃ
তুহিন মালিকের সাক্ষাতকারে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কোনো ক্লাব বা বারে রিফ্রেশ হতে যান না। অথবা ধুমপান এবং ড্রিংক্স করেন না তিনি। কাজই তার মানসিক ‘রিফ্রেশমেন্ট’। কিন্তু পুরো সাক্ষাতকারের সময় জুড়ে সহ্য করতে হয়েছে তার মুখ থেকে ভকভক করে বের হওয়া অ্যালকোহোলের গন্ধ। একই সাথে তার চেম্বার থেকে বের হবার সময় তিনি আবার জায়নামাজ নিয়ে গাড়িতে উঠেছেন। তার টেবিলে দেশি বিদেশী ইসলামী সংস্থাগুলোর ফাইল সাজানো ছিল। তিনি এও বলেন যে, তার নির্বাচনী খরচ দেবার ব্যাপারে স্বয়ং আইডিবি চেয়ারম্যান তাকে অনুদানের আশ্বাস প্রদান করেছেন এবং প্রয়োজনে আইডিবি তার ৫০% শেয়ার মার্কেটে ছেড়ে দিয়ে হলেও তুহিন মালিককে সয়াহতা করতে প্রস্তুত আছে। প্রায় একঘন্টারও বেশি সময় ধরে সাক্ষাতকার দিয়েছেন তিনি। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যায়ে ‘সমস্যা’ নেই। মেয়র নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, তার প্রচারনা ততই বৈচিত্রপূর্ন কৌশলে এবং জোরেসোরে করা হবে বলে জানান তিনি।

তুহিন মালিকের ঘন্টাব্যাপী নেওয়া ইন্টারভিউ অডিও আকারে পোষ্টে যুক্ত করার চেষ্টা করলাম, বিধি বাম। স্বল্প গতির ইন্টারনেট কানেকশান অনেক সময় নিচ্ছে। কি আর করা?

বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ আলী আসিফ শাওন