ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

(কোথায় যেন পড়েছিলাম যে তুমি ঘুমিয়ে যাবার পর যা দেখ তা স্বপ্ন নয়। বরং, স্বপ্ন হলো তাই যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না- জাগিয়ে রাখে নতুন ভোরের আশায়। আমার হয়েছে বেহাল দশা! আমি যদি কখনো আত্মজীবনী লিখি তাতে হলের জীবন থাকবে, আর হল লাইফের বড় অংশ জুড়ে থাকবে ছারপোকার কামড়ে বিনিদ্র রজনী…আহারে। দিনের আলোয় ছারপোকারা ঘুমুতে যায়, জেগে ওঠে আধারে। আমিও ছারপোকা হয়ে জোসনা ভরা আকাশের নিচে বসে লিখছি। এই বিনিদ্র রাতের উদ্ভট রূপকথায় অনেকে মর্মাহত হবেন। কারন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো বাদ দিয়ে ছাইপাশ লিখছি। তাদের কাছে আগেই বিনম্রভাবে মাফ চেয়ে নিচ্ছি)

অনেক অনেক কাল আগে একদেশে এক রাজা ছিল। রাজার বেশ কিছু দোষ ছিল, সে অন্যসব রাজার মত যুদ্ধ বিগ্রহ করত না, সেনাদল লালন পালনেও ছিল তার অনীহা। রাজা মশাই কবিতা লেখেন, ছবি আকেন, রাজ-কবিদের তারিফ করেন, ঠাট্টা তামাশা প্রতিনিয়ত চলতে থাকে। ফলে বাধ্য হয়েই প্রজারা সুখে শান্তিতে দিন অতিবাহিত করতে থাকে। রানীমা মারা গেছেন একমাত্র রাজকন্যার জন্মের সময়, দিনে দিনে রাজকন্যার বয়স ১৬ হয়, রাজার সে দিকে খেয়ালই নাই। তিনি আছেন তার আমোদের জগতে।

রাজকন্যার যত্নে ত্রুটি নাই, তবুও বেচারী কোনো এক কারনে সারাদিন মনমরা হয়ে ঘোরে। চোখের নীচে জমেছে বিষাদের কালিমা। একাকী ঘুরে বেড়ান তিনি রাজবাগানে, ছুয়ে দেন ফুলগুলো বিষাদমাখা আঙ্গুলে। ব্যাপারটা একদিন অবশেষে রাজামশাই খেয়াল করেন। তিনি রাজকন্যাকে কাছে ডাকেন, আদর মাখা কন্ঠে বলেন, “মা, কেনো এ আনাচার নিজের ওপর, কি তোমার কষ্ট, কি তোমার ব্যাথা? কি চাই তোমার, শুধু বল আমাকে। পুরো সাম্রাজ্যের বিনিময়ে হলেও তোমার ইচ্ছা পূরন করবে না, আমি সে পিতা নই। ”

রাজকন্যা তার বিষাদমাখা চোখদুটো তুলে পিতার পানে চায়। মৃদু হেসে বলে, “বাবা, আমার একটা রক্ত পদ্ম চাই।“ রাজা বলে এ আর এমন কি? আমি এখন ই লোক পাঠাচ্ছি। রাজকন্যা বলেন,”না, পিতো। আমার ইচ্ছা আপনি নিজে তার কন্যার জন্য এ রক্ত পদ্ম সংগ্রহ করে আনবেন। আর একটা শর্ত, আপনি যতদিন আমাকে রক্ত পদ্ম এনে না দেবেন ততদিন আমি অন্ন জল কিছুই স্পর্শ করব না।“

শর্তের কথা শুনে রাজা চিন্তিত হলেন, তবুও তিনি বের হলেন সন্ধানে। এ রাজ্যে যান, ও রাজ্যে যান। দূর্ভাগ্যবশত কোথাও মেলেনা রক্ত পদ্ম। কেউ কেউ বলে,”মশাই, আর দুটোদিন আগে এলে পেতেন, কেউ বলে আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। তখন ফুটবে এ ফুল। ”

এভাবে চলতে চলতে দীর্ঘ এক মাস পর, অনেক কষ্টে, কাটার আঘাত সহ্য করে রাজন নিজের হাতে পঙ্ক থেকে তুলে আনেন কাঙ্খিত লাল পদ্ম। কিন্তু রাজ্যে ফিরে এসে দেখেন, তার আদরের কন্যা আর জীবিত নেই।

গভীর আঘাতে রাজা মুষড়ে পড়েন, তিন দিন তিন রাত্রি তিনি রাজকন্যার মৃতদেহ কোলে নিয়ে আঝোর ধারায় কাদতে থাকেন। তার কান্না সইতে না পেরে ঈশ্বর তার দেবদূতকে পাঠান রাজার কাছে। দেবদূত রাজার পাশে এসে বসেন, সান্তনার ভাষা নেই মুখে। দেবদূত রাজাকে ঈশ্বর প্রদত্ত একটি বীজ় দেন, বলেন বীজটি নিজ হাতে রোপন করতে, নিয়ম করে দুবেলা পানি দিতে।

রাজা দেবদূত এর কথা মত বীজটি রোপন করেন, নিজ হাতে রোজ দুবেলা পানি দেন। তিন দিন পর বীজ থেকে উকি দেয় একটি কুড়ি আর দুটো পাতা। কুড়ি আর পাতা একটু ঈষত গরম জলে সেদ্ধ করতেই জল ধারন করে স্বর্গীয় কোমল বরন। একটি পেয়ালায় জল টুকু নিয়ে তা ধরেন রাজা রাজকন্যার অধরে। অমৃত পানীও ঠোটে ছোয়াতেই রাজকন্যা জীবিত হয়ে ওঠেন, কপট রাগে, মৃদ্যু হাস্যোচ্ছলেই জিজ্ঞেস করেন, ”বাবা, তুমি কি অনেক কেদেছিলে?”

……………এভাবে আমরা পেলাম সেই স্বর্গীয় পানীও, চা।

ছবিটি প্রতীকি।

বন্ধুরা, অনেকদিন কেউ মমতা নিয়ে এক কাপ চা খেতে ডাকলো না। কেউ হয়ত ডাকবে, ডাকবে অনেক মায়া ভরা কন্ঠে, এক কাপ চা খেয়ে যেতে। সেই দেবদূত হয়তো তোমাদেরই কেউ। আমি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি, কবে আসবে সেই ডাক??? কে হবেন সেই বন্ধুরূপী দেবদূত, যে দুদণ্ড বসে কইবে সুখ-দুখের কথা। আমি অপেক্ষা করি…