ক্যাটেগরিঃ চারপাশে, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি হত্যাকান্ডের পর মাননীয় স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর বেধে দেওয়া ৪৮ ঘন্টা সময় উত্তীর্ন হয়ে পেরিয়ে গেছে আজ পর্যন্ত ৮৯টি দিন। গত ৮ ই এপ্রিল সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ঘেরাও কর্মসূচি পন্ড হয়ে গেছে ৭ ই এপ্রিল স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর চা এর ‘দাওয়াত’ খেয়ে হাসিমুখে ফেরা সাংবাদিক নেতাদের কারনে। সাংবাদিক নেতারা পূর্বনির্ধারিত ৮ই এপ্রিল তাদের কর্মসূচি ৫ ই মে পর্যন্ত স্থগিত রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘আশ্বাসে’। ৫ ই মে আবার তারা আন্দোলন ১৫ই মে পর্যন্ত স্থগিত করেন।

অপরদকে তদন্তের দ্বায়িত্বে প্রথমে পুলিশ থাকলেও তাদের ব্যর্থতার কারনে বর্তমানে তদন্তে আছে RAB। তারা তদন্তের দায়িত্ব গ্রহনের পরপরই পুনঃময়নাতদন্ত করার জন্য আবার লাশ তুলেছেন কবর থেকে। RAB থেকে বলা হচ্ছে ‘ভিসেরা টেষ্ট’ করার জন্যই আবার লাশ উত্তোলনের দরকার হয়েছে!

ওপরের দুইটি পক্ষের ক্রমানুসূচিক ধারাবাহিকতায় তদন্তের ফলাফল নিয়ে আমরা সাধারন জনতা সন্দিহান হতেই পারি।

তবে কি ছোট্ট মেঘ জানবে যে বাংলাদেশ হলো এমন একটি দেশ যেখানে খুনির বিচার হয়না! তবে কি মেঘেরা প্রতিনিয়ত ঝরিয়েই যাবে অশ্রু?

এদিকে, ৭ তারিখে চা খেয়ে আন্দোলন পেছালেও বাংলা ভাষাভাষী ব্লগাররা ৮ই এপ্রিল মানব বন্ধন, ২০ এপ্রিল সাগর-রুনির চিত্র ও প্রতিবাদলিপি প্রদর্শনী, ২৭শে এপ্রিল রোড পেইন্টিং সহ ধারাবাহিকভাবে তাদের উন্মুক্ত কর্মসূচি চালিয়ে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আগামী কর্মসূচি:

পথ সঙ্গীত এবং সাগর-রুনি স্মরনে ও বিচারের দাবিতে মোম প্রজ্বলন।
স্থানঃ শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গন।
তারিখঃ শুক্রবার, ১১ই মে ২০১২।
সময়ঃ বিকেল ৪টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

একটি বিনীত অনুরোধ:
আমরা যারা বাংলা ব্লগার আছি, তাদেরকে আমি অন্তত সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে করি। তারা ‘চা’ খেয়ে আন্দোলন পেছান না। তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে লিখে যান, প্রকাশ করেন সুচিন্তিত মতামত। ব্লগাররা যৌক্তিক সমালোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সদা সচেষ্ট। এই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমার একান্ত অনুরোধ, আসুন কি-বোর্ড ছেড়ে উঠে এসে হাতে হাত মিলিয়ে দাঁড়াই রাজপথে। প্রতিবাদে গর্জে উঠি। প্রমান করে দেই আমরা কি-বোর্ড সর্বস্ব নই। প্রয়োজনে আমরাও পারি খুন, গুম, অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাতে। আমরা শুধু ‘MANGO-PEOPLE’ বা আমজনতা নই। আমরা জাতির জাগ্রত বিবেক।

বিবেক কি প্রয়োজনের মুহূর্তে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে চা খেয়ে দিবাস্বপ্নে বিভোর হতে পারে? কক্ষনো নয় নিশ্চয়। আসুন, যোগ দিন ১১ তারিখের কর্মসূচিতে। প্রমান করে দিন, আমজনতা অসচেতন নয়, অবিবেচক নয়, দায়িত্বজ্ঞানহীন নয়, বিবেক বিবর্জিত নয়।