ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

নানা বাধা ডিঙিয়ে হয়ে গেলো বাংলাভাষার ব্লগারদের প্রতিবাদী সঙ্গীতের আয়োজন। পুলিশের “কমিশনারের অনুমতি লাগবে” টাইপের বক্তব্য, বিদ্যুতের লাইন টানায় বাধা আর সন্ধ্যার কিছু ভাগে “হঠাৎ বৃষ্টি”।

তবে, সব বাধা ডিঙিয়ে প্রতিবাদী এই সঙ্গীতে যোগ দেন ব্লগার, সাংবাদিক আর ছাত্র-ছাত্রী আর সাধারণ মানুষ। চলুন দিনটার দিকে একটু তাকাই।

সকাল ১২ টা: জাতীয় জাদুঘরের সামনে উপস্থিত হন ব্লগার আরিফ হোসেন ও ব্লগার মাহবুব। এরপর একে একে ব্লগার জাহেদ, চঞ্চল আর মঞ্জুর মোর্শেদ, আইরিন, কৌশিক।

আর সকাল ১১টা থেকে ছবিরহাটে বসে ছিলেন ব্লগার আবু সুফিয়ান।

বেলা ১: ৩৫: সাউন্ড সিসটেম নিয়ে হাজির রকব্যান্ড স্পিড ব্রেকার। জাদুঘরের দ্বিতীয় ফটকের পাশে রাখা হলো ভারী ভারী সব যন্ত্রপাতি।

বেলা ১:৪০: সাউন্ড সিস্টেমের পাশে এসে দাঁড়ালো পুলিশের একটি ভ্যান। থাকলো বেলা ৪টার কিছু পর পর্যন্ত।

রকস্টার স্পিডব্রেকার পরিবেশন করতে প্রস্তুত গণসঙ্গীত। শুরু হলো বিদ্যুতের লাইন টানার প্রস্তুতি।

কোথা থেকে নেয়া যায়?

গেলাম শাহবাগ থানায়। ওসি সিরাজুলকে জানাতেই বললেন, কোন প্রোগ্রাম হবে না। আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম তার কথায়।

বেলা ২:৩০: আমার কাছে খবর পেয়ে ওসির রুমে ঢুকলেন আবু সুফিয়ান। একই কথা তাকেও জানালেন ওসি। “পুলিশ কমিশনারের অনুমতি ছাড়া কোন প্রোগ্রাম হবে না”। “আমরা সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি করছে,” ওসির কথার জবাবে জানালেন নির্ভিক সাংবাদিক আবু সুফিয়ান।

“যে প্রোগ্রামই করেন কমিশনারের অনুমতি লাগবে। আর আমরা কোন বৈদ্যুতিক লাইন দিতে পারবো না। আপনারা এসব করতে পারবেন না,” ওসি ঘোষণা করলেন।

আমি আর আবু সুফিয়ান বেরিয়ে এলাম ওসির রুম থেকে। মনে শংকা। “প্রোগ্রাম পন্ড করে দিলো পুলিশ,” বললাম আবু সুফিয়ানকে।

“হবে। ফাইট উইথ মাইট,” শান্ত কণ্ঠে বললেন আবু সুফিয়ান।

তাহলে?

“দাঁড়ান। চিন্তা করবেন না,” জবাব দিলেন আবু সুফিয়ান।

স্পিড ব্রেকার এর সাথে কথা বললেন। তারপর আমাদের দরাজ কণ্ঠে আবু সুফিয়ান জানালেন, খালি গলায় গান হবে।

শুরু হলো প্রতিবাদী গান। “তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর,” “আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে,” “নোঙর তোল তোল”— শত প্রতিবাদী কণ্ঠে ধ্বনিত হলো গান। কেঁপে উঠলো শাহবাগ চত্বর।

‘স্পিডব্রেকার’ তাৎক্ষনিক ব্লগারদের সাথে সঙ্গহতি প্রকাশ করে। গান খালি গলাতেই হয়। ইলেক্ট্রিসিটি বন্ধ করলেও রুদ্ধ করা যায়নি ব্লগারদের প্রতিবাদী কন্ঠকে। স্পিডব্রেকার সহ ব্লগাররা একসাথে গেয়ে ওঠেন,’তীরহারা এই ঠেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’।

এরপর মোমবাতি প্রজ্বলনের পালা। কিন্তু এবার বাঁধ সাধলো “হঠাৎ বৃষ্টি ও ঝড়”। কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেলো সবকিছু। তবে তা একদমই সাময়িক। হলো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন। তবে সে কথা শুনবো অন্য ব্লগারের কাছে।

আর ছবি? সেটাও পরে যুক্ত করছি।

[ব্লগারদের আজকের কর্মসূচী নিয়ে ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন লিংক]

***
ফিচার ছবি: ব্লগার আইরিন সুলতানা