ক্যাটেগরিঃ চারপাশে, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

সকাল নয়টায় ব্লগার আবু সুফিয়ানের বাসায় গিয়ে উপস্থিত ব্লগার মাহবুব। সেখান থেকে মাহবুব ফোন করে আমাকে জানালেন “আমরা প্রেসক্লাবের দিকে যাচ্ছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিতে”।
আমি সকাল থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। সকাল সাড়ে দশটায় সেগুন বাগিচার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) অফিসে ঢুকে দেখি আমার আগেই উপস্থিত আবু সুফিয়ান ও মাহবুব।

কিছুক্ষণ পর আসলেন আরিফ। সাথে আরো কয়েকজন ব্লগার। ক্র্যাব এ ঠান্ডা পানি পান করে উপস্থিত হলাম আমরা প্রেসক্লাবের সামনে। দেখা হলো ফটোসাংবাদিক মেহেদী, ফটোসাংবাদিক নাসিরুল আর অন্য অনেক সাংবাদিকের সাথে।

সিদ্ধান্ত ছিলো সচিবালয় ২ নম্বর গেইটে অবস্থান নিবেন সাংবাদিকরা। আবদুল গনি লিংক রোডের দুই দিকে তাই সকাল থেকেই কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করা হয় পথ। মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা পুলিশ।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংবাদিকদের একটি দল অবস্থান নিলো ২ নম্বর গেইটে।

আর অন্য এক দলের সাথে ব্লগাররা উত্তপ্ত রাজপথে নামলেন মিছিলে। (মিছিলের ছবি ব্লগার আরিফ পোস্ট করবেন)।

মিছিলটি তোপখানা রোড হয়ে পল্টন মোড় যেতেই বাধা দিলো পুলিশ। তাতে কি!

এই যৌবন জলতরঙ রুধিবি কিয়া দিয়া, বালির বাঁধ?

তেতে ওঠা রাজপথে শ্লোগান তুললেন বিডিব্লগ এর ব্লগার আবু সুফিয়ান।

ঘেরাও ঘেরাও ঘেরাও হবে।।।
সম্মিলিত কণ্ঠে ধ্বনিত হলো —
সচিবালয় ঘেরাও হবে।

প্রথম বাধা ডিঙোলেন সাংবাদিক আর ব্লগাররা। পুলিশি বাধা ডিঙিয়ে পল্টন মোড় হয়ে জিপিও’র দিকে আগাতে লাগলো মিছিল। জিপিও’র মোড় থেকে ডানে সচিবালয় এর দিকে আগাতেই আবার মিছিলে বাধা দিলো দাঙা পুলিশ।

বুকে লাঠি দিয়ে গুতা দিতে লাগলেন পুলিশের অতি উৎসাহী কয়েকজন।

“আমাদের প্রতিপক্ষ বানাবেন না। সহযোগিতা করুন,” পুলিশের উদ্দেশ্যে বললাম।

কে শোনে কার কথা!

এখানে প্রায় ১০ মিনিট পুলিশের সাথে চললো বাকবিতন্ডা আর ধ্বস্তাধ্বস্তি। তেতে ওঠা গরমে এ বাধাও ডিঙোলেন সাংবাদিক আর ব্লগাররা।

মুহুর্মুহু শ্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে সচিবালয়ের গেইটে সাংবাদিকদের সাথে প্রথমবারের মতো কোন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে হাতে হাত মিলিয়ে যোগ দিলেন বাংলা ভাষার অনেক ব্লগার।

আরো জানতে ক্লিক করুন:

লিংক ১
লিংক ২

***
ফিচার ছবি: ব্লগার আরিফ হোসেন সাঈদ