ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭.৩০টায় ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর থানার অন্তর্গত নবীনগর হাউজিং এর ১৩ নম্বর রোডের ১ নম্বর বিল্ডিং এর বাসিন্দা মোঃ শাহজাহান আলী ও ফাহিমা খাতুন জোৎস্নার ছেলে শাহ আলিফ প্রিন্সকে (২৪) শ্যামলী শাহী মসজিদ এলাকা থেকে সাদা পোশাকে র‌্যাব-২ (র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন), সিপিসি-৩ (ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী) এর সদস্যরা ধরে নিয়ে ৪৪ দিন গুম করে রেখে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

শাহ আলিফ প্রিন্স সরকারী তিতুমীর কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ র‌্যাব সদস্যরা আলিফকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করে হেফাজতে রেখে নির্যাতন করে। ৪৪ দিন পর অর্থাৎ ১০ এপ্রিল ২০১২ রাজশাহীতে র‌্যাব-৫ এর রেলওয়ে কলোনী ক্যাম্পের সদস্যরা আলিফকে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। ১৬ এপ্রিল ২০১২ তারিখে আদালত থেকে আলিফ জামিনে মুক্তি পান।

শাহ আলিফ প্রিন্সের ভাষ্যমতে, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬.৩০টায় তিনি শ্যামলীর শাহী মসজিদ এলাকা থেকে বাসায় ফিরছিলেন। পথে কয়েকজন সাদা পোষাকধারী লোক তাঁকে ঘিরে ধরে। সাদা পোষাকধারী একজন লোক তাঁকে জানায়, তারা সবাই র‌্যাব এর সদস্য। আলিফের নামে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা আছে এই কথা বলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পড়ায় তারা। র‌্যাব সদস্যরা তাঁকে র‌্যাব-২ এর সিপিসি-৩ এবং স্পেশাল কোম্পানী মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

এদিকে শাহ আলিফের বন্ধু ওমর শরীফ জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭.০০টায় তিনি শ্যামলীর শাহী মসজিদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। মসজিদের পাশে মুসল্লী ও এলাকাবাসীর জটলা দেখতে পান। তিনি জটলার দিকে গিয়ে দেখেন, সাদা পোশাকধারী দুইজন লোক আলিফকে গ্রেফতার করে হাতকড়া পড়িয়েছে। সে সময়ে উপস্থিত লোকজন সাদা পোশাকধারী দুইজন লোককে ঘিরে ফেলে এবং জানতে চায়, তারা কারা? আলিফকে কেন হাতকড়া পরানো হলো? তখন ওই দুইজন লোক নিজেদের পরিচয়পত্র বের করে সবাইকে দেখায় এবং নিজেদের র‌্যাব-২ এর সদস্য বলে পরিচয় দেয়। একজন র‌্যাব সদস্য আলিফকে উদ্দেশ্য করে বলে, র‌্যাব কার্যালয়ে নেয়ার পর তাকে পেটানো হবে এবং জানায় যে, নিষিদ্ধ প্রচারপ্রত্র বিলি করার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটু পরেই র‌্যাব সদস্যরা আলিফকে মোটর সাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়।

মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ ক্যাম্পে প্রিন্সকে নিয়ে আসার পর একজন র‌্যাব সদস্য তাঁর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে সম্প্রতিকালে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হিযবুত তাহরীর এর কার্যক্রম ও এর নেতাকর্মীদের সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি সেই র‌্যাব সদস্যকে জানান, হিযবুত তাহরীর এর সঙ্গে তাঁর কোন সম্পৃক্ততা নেই। এরপর র‌্যাব সদস্যরা কালো কাপড় দিয়ে তাঁর চোখ বেঁধে ফেলে এবং সারারাত দফায় দফায় লাঠি দিয়ে তাঁকে পেটায়। তাঁকে কোন ভাবেই কান্না বা শব্দ করতে দেয়নি তারা। ভোরের দিকে তাঁর চোখের বাঁধন খুলে দেওয়া হয়। তিনি যে র‌্যাব হেফাজতে আছেন, তা তাঁর পরিবারকে জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ করেন। কিন্তু এতে র‌্যাব সদস্যরা তাঁর ওপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। র‌্যাব সদস্যরা তাঁকে সর্তক করে দিয়ে বলেছে যে, ৪৪ দিন র‌্যাবের হেফাজতে থাকার সময়ের নির্যাতনের কথা কাউকে বললে ঝালকাঠি জেলার লিমনের মত তাকেও পঙ্গু করে দেয়া হবে। তিনি নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

শাহ আলিফ প্রিন্স জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সকাল আনুমানিক ৭.০০টায় র‌্যাব সদস্যরা তাঁর চোখ বেঁধে একটি গাড়ীতে তোলে এবং গাড়ীটি কিছুক্ষণ চলার পরে এক জায়গায় থামে। র‌্যাব সদস্যরা তাঁকে একটি জায়গায় নিয়ে চোখের বাঁধন খুলে দেয়। তিনি দেখতে পান, একটি আবছা অন্ধকার কক্ষ, একটি টয়লেট। এটি অন্য একটি র‌্যাব ক্যাম্প বলে তিনি ধারণা করেন। কখনও দিনে আবার কখনও রাতে র‌্যাব সদস্যরা এসে তাঁকে বের করে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যেত এবং হিযবুত তাহরীর এর কার্যক্রম ও এর নেতাকর্মীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতো। তিনি কিছুই জানেন না বলে জানালে তাঁকে পোটানো হত। এভাবে দিনের পর দিন সেই কক্ষেই থাকতে থাকতে তিনি কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।

৯ এপ্রিল ২০১২ দুপুর আনুমানিক ১২.০০টায় একজন র‌্যাব সদস্য তাঁর কাছে আসে এবং কালো কাপড়ে তাঁর চোখ বাঁধা হয়। তিনি র‌্যাব সদস্যের কাছে জানতে চান, তাঁকে কোথায় নেয়া হচ্ছে। র‌্যাব সদস্য তাঁকে বলে যে, তাঁর ভয়ের কোন কারণ নেই এবং এরপর তাঁকে একটি গাড়ীতে তোলা হয় এবং গাড়ীটি কিছুক্ষণ চলার পর অজ্ঞাত স্থানে থামলে তাঁকে নামানো হয়। তাঁকে সেখানে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা হয়। পরে তাঁকে আবার অন্য একটি গাড়ীতে তুললে কয়েক ঘন্টাব্যাপী সেটা চলতে তাকে। সন্ধ্যার দিকে গাড়ীটি এক জায়গাতে থামে। গাড়ী থেকে নামিয়ে এবং সিড়িঁ বেয়ে উঠিয়ে একটি ভবনের একটি কক্ষে তাঁকে নেয়া হয়।

৪৪ দির পর অর্থাৎ ১০ এপ্রিল ২০১২ ভোর রাত আনুমানিক ৩.০০টায় সাদা পোশাকধারী একজন র‌্যাব সদস্য তাঁর কাছে আসে এবং তাঁকে বলে যে, “প্রিন্স তুমি কি এভাবেই সারাজীবন থাকবে, না মুক্ত জীবনে ফিরবে। মুক্তি পেতে চাইলে আমরা যা বলবো তা তোমাকে করতে হবে। একটি আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তোমাকে ছাড়া হবে। একটু ভেবে আমাকে জানাও”। তিনি র‌্যাব সদস্যদের সব শর্ত মেনে নেয়ার জন্য রাজি হন। ভোর রাত আনুমানিক ৪.০০টায় কয়েকজন সাদা পোষাকধারী র‌্যাব সদস্য আবারও তাঁকে চোখ বেধে একটি গাড়ীতে তোলে। গাড়ীটি কিছুক্ষণ চলার পর এক জায়গাতে থামে এবং তাঁর চোখের বাধন খুলে দেয়া হয়। কিছু কাগজপত্র ভর্তি একটি ব্যাগ তাঁর কাধে ঝুলিয়ে দিয়ে গাড়ী থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। একজন র‌্যাব সদস্য তাঁকে দূরে কোথাও না গিয়ে ঐ এলাকায় ঘোরাফেরা করতে বলে। তিনি হাঁটাহাঁটি করার সময় রাস্তার পাশের সাইন বোর্ডের লেখায় দেখেন যে, এলাকাটি রাজশাহী জেলার মতিহার থানার তালাইমারী। একটু পরেই দুইজন র‌্যাব সদস্য সেখানে আসে এবং তাঁকে নানা কথা জানতে চেয়ে ব্যাগ তল্লাশি করে এবং ব্যাগের ভেতর থেকে কিছু হিজবুত তাহরীর এর কাগজপত্র বের করে। র‌্যাব সদস্যরা চারদিকে সাক্ষী বানাবার জন্য মানুষ খুঁজতে থাকে। কিছুক্ষণ পর দুইজন লোক ধরে এনে সাক্ষী বানায় এবং তাঁকে হিজবুত তাহরীর এর সদস্য বানিয়ে স্বাক্ষর নেয়। আলিফকে সেখান থেকে র‌্যাব-৫ এর কার্যালয়ে নিয়ে টেবিলের সামনে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলে এবং সেখান থেকে তাঁকে মতিহার থানায় নিয়ে যায়। মতিহার থানা থেকে তাঁকে সকাল আনুমানিক ৮.০০টায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বোয়ালিয়া মডেল থানা কর্তৃপক্ষ তাঁকে হেফাজতে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন র‌্যাব সদস্যরা তাঁকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করে এবং এরপর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ সদস্যরা তাঁকে থানা হাজতে নিয়ে রাখেন। তিনি থানা হাজতে থাকার সময় একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে জানান, র‌্যাব-৫ এর রেলওয়ে কলোনী ক্যাম্পের ডিএডি একেএম মিজানুর রহমান বাদী হয়ে তাঁকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে যার নম্বর-২১; তারিখঃ ১০/৪/২০১২। ধারাঃ ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৯(৩)। পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বিকাল আনুমানিক ৪.০০টায় ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে চালান করে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করে তাঁকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। ১৬ এপ্রিল ২০১২ তারিখে রাজশাহী মূখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে শাহ আলিফ প্রিন্স জামিনে ছাড়া পান।

মোঃ শাহজাহান আলী (৫৬), আলিফের পিতা
মোঃ শাহজাহান আলী একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর মুক্তিবার্তা নম্বর-০৪০৬০১০০৬০, গেজেট নম্বর-১৪৭, কল্যাণ ট্রাষ্ট নম্বর ৫০৩৪। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর সংসার। বড় ছেলে শাহ আলিফ প্রিন্স ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত মোবাইল ফোন কোম্পানীর এয়ারটেল কাষ্টমার সার্ভিসে চাকুরী করতো। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তিনি ব্যবসার কাজে বাসার বাইরে ছিলেন। রাত আনুমানিক ১১.০০টায় তাঁর ছোট ছেলে মোঃ শাহ ইয়াহ মোবাইল ফোনে ফোন করে তাঁকে জানায় যে, শাহ আলিফ প্রিন্স কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরেনি। তিনি তখন আলিফের মোবাইল ফোনে ফোন করে তা বন্ধ পান। সে সময়ে তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও আলিফের বন্ধুদের কাছে ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানান।

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তিনি আলিফের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (জিডি) করতে যান। মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার তাঁকে বলেন, এলিফ্যান্ট রোড যেহেতু নিউ মার্কেট থানা এলাকায় তাই তাঁকে নিউ মার্কেট থানায় জিডি করতে হবে।

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ বিকাল আনুমানিক ৫.০০টায় তাঁর স্ত্রী ফাহিমা খাতুনের মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে আলিফ জানায়, র‌্যাব-২ এর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে রেখেছে। এরপরই মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তাঁর স্ত্রী ফাহিমা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে নিউ মার্কেট থানায় যান এবং আলিফ নিখোঁজ হয়েছে উল্যেখ করে একটি জিডি করেন। যার নম্বর ৯৩৮। তারিখঃ ২৬/০২/২০১২। নিউ মার্কেট থানার ডিউটি অফিসার তাঁকে জানান, নবীনগর হাউজিং এলাকাটি মোহাম্মদপুর থানার আওতায় পড়েছে তাই তাঁকে মোহাম্মদপুর থানায়ও একটি জিডি করতে পরামর্শ দেন।

২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে পুনরায় মোহাম্মদপুর থানায় যান এবং আলিফকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে একটি জিডি করেন। যার নম্বর ১৮৫১; তারিখঃ ২৭/০২/২০১২।
২৯ ফেব্রুয়ারী ২০১২ সকাল আনুমানিক ১১.৩৫ টায় তিনি র‌্যাব-২ এর শিয়া মসজিদ ক্যাম্পে জানান। তিনি বলেন, ক্যাম্পের গেটে কর্তব্যরত র‌্যাব সদস্যের কাছে আলিফের নিখোঁজের ব্যাপারে জানান এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান। কিন্তু গেটে কর্তব্যরত র‌্যাব সদস্য তাঁকে গেটের ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে অভিযোগ বক্সে অভিযোগ দায়ের করতে বলেন। তিনি তখন তাঁর ছেলেকে উদ্ধারের জন্য একটি অভিযোগপত্র লিখে অভিযোগ বক্সে রেখে চলে আসেন।

তিনি আরো জানান, র‌্যাবের ওয়েবসাইটটিতে উল্যেখ আছে যে, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২, ঢাকার একটি অভিযান দল গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মোহাম্মদপুর থানাধীন শ্যামলী শাহী মসজিদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে শ্যামলী শাহী মসজিদের সামনে থেকে হিজবুত তাহরীর এর এক সক্রিয় সদস্য মোঃ শাহাজাহান আলী, পিতা-তালতলা, থানা ও জেলা চুয়াডাঙ্গা’কে ৫০টি লিফলেট ও একটি মোবাইল সেটসহ গ্রেফতার করা হয়”। এই খবরটি দেখে তিনি নিশ্চিত হন যে, আলিফ র‌্যাব হেফাজতেই আছে। কেননা র‌্যাব সদস্যরা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য ছেলের নামের জায়গায় তাঁর নাম এবং পিতার নামের জায়গায় গ্রামের নাম লিখেছে। তিনি আরও বলেন, পড়াশুনার পাশাপাশি আলিফ এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত মোবাইল ফোন কোম্পানী এয়ারটেলের কাস্টমার সার্ভিসে চাকুরী করে তাঁর পরিবারকে সহায়তা করতো।

১০ এপ্রিল ২০১২ সকাল আনুমানিক ১০.০০টায় দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে তিনি জানতে পারেন, র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা আলিফকে গ্রেপ্তার করে রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় সোর্পদ করেছে। তিনি তাঁর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে থানায় খবর নিয়ে আলিফের গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত হন। ১৬ এপ্রিল ২০১২ তারিখে আলিফ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। তিনি বলেন, বিনা কারণে আলিফকে ৪৪ দিন র‌্যাব সদস্যরা গুম অবস্থায় রেখে নির্যাতন করেছে।

এসআই আব্দুল হালিম খান, নিউ মার্কেট থানা, ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকা
এসআই আব্দুল হালিম খান অধিকারকে জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ নবীনগর হাউজিং থেকে জোৎস্না বেগম নামে এক মহিলা থানায় আসেন এবং একটি জিডি করেন। যার নম্বর ৯৩৮। তারিখঃ ২৬/০২/২০১২। জিডিতে জোৎস্না বেগম উল্যেখ করেন, জোৎস্না বেগমের ছেলে শাহ আলিফ প্রিন্স ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। জিডিতে জোৎস্না বেগম আরও উল্যেখ করেন, বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও তাঁরা আলিফকে পাননি। এসআই আব্দুল হালিম খান অধিকারকে আরও জানান, তিনি জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা হওয়ায় জোৎস্না বেগম জিডি করার পর সব থানায় আলিফের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে তিনি বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি আলিফের কোন সন্ধান পেলে নিউ মার্কেট থানাকে অবগত করার জন্য বলেন।

এসআই শাহ আলম, মোহাম্মদপুর থানা, ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকা
এসআই শাহ আলম জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ নবীনগর হাউজিং থেকে জোৎস্না বেগম নামে এক মহিলা থানায় আসেন এবং একটি জিডি করেন। যার নম্বর ১৮৫১; তারিখঃ ২৭/০২/২০১২। জিডিতে জোৎস্না বেগম উল্যেখ করেন, তাঁর ছেলে শাহ আলিফ প্রিন্স ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। জিডিতে তিনি আরও উল্যেখ করেন, বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেও আলিফকে খুঁজে না পেয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ঢাকা মহানগরীর নিউ মার্কেট থানায় আরও একটি জিডি করেছেন। এসআই শাহ আলম জিডির তদন্তকারীর দায়িত্বে থাকায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ-খবর নিয়েছেন কিন্তু আলিফের কোন সন্ধান পাননি বলে জানান।

সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মোস্তফা, সিনিয়র ডিএডি, র‌্যাব-২, সিপিসি-৩, মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ ক্যাম্প,
ঢাকা

সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ মোস্তফা জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে মোহাম্মদপুরে নবীনগর হাউজিং এলাকা থেকে র‌্যাব সদস্যরা আলিফ নামে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। তবে আলিফের নিখোঁজের ব্যাপারে খোঁজ নেবেন বলে জানান।

এএসপি সাফিউল সারওয়ার, কোয়াটার মাস্টার, র‌্যাব-২, শের-ই-বাংলা নগর কমিউনিটি সেন্টার, আগারগাঁও, ঢাকা- ১২০৭
এএসপি সাফিউল সারওয়ার জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ র‌্যাব সদস্যরা মোহাম্মদপুরে নবীনগর হাউজিং এলাকা থেকে শাহ আলিফ প্রিন্স নামে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। র‌্যাবের ওয়েবসাইটে আলিফের বাবার নাম উল্যেখ করে এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মর্মে একটি খবর আছে বলে তাঁকে জানানো হয়। এর উত্তরে তিনি যারা র‌্যাবের ওয়েবসাইট তৈরি করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সালাউদ্দিন, মিডিয়া উইং, র‌্যাব-৫, রাজশাহী
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সালাউদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৯ এপ্রিল ২০১২ র‌্যাব র‌্যাব-৫ রাজশাহীর রেলওয়ে কলোনী ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা ভোরে রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার তালাইমারী মোড়ে একটি অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর এর সক্রিয় সদস্য শাহ আলিফ প্রিন্স (২৪) নামের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। আলিফ নিজেকে ঢাকার সরকারী তিতুমীর কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেয়। আলিফের দেহ তলাশী করে সংগঠনটির ১৫০ পিস লিফলেট উদ্ধার করা হয়। আলিফ চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর থানার তালতলা গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে। আলিফ ঢাকা থেকে বাসে করে রাজশাহী এসেছিল দলীয় কার্যক্রম ও নতুন সদস্য সংগ্রহ করার জন্য। ডিএডি মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দিয়ে আলিফকে বোয়ালিয়া মডেল থানায় সোপর্দ করেন।

এসআই মাহবুব আলম, বোয়ালিয়া মডেল থানা, রাজশাহী মহানগর পুলিশ, রাজশাহী
এসআই মাহবুব আলম জানান, ১০ এপ্রিল ২০১২ সকাল আনুমানিক ৮.০০টায় র‌্যাব-৫ এর রেলওয়ে কলোনী ক্যাম্পের ডিএডি একেএম মিজানুর রহমান থানায় আসেন এবং নিজেই বাদী হয়ে ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৯(৩) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর-২১; তারিখঃ ১০/৪/২০১২। একই সঙ্গে ঐ মামলার আসামী হিসেবে শাহ আলিফ প্রিন্স নামে এক ছেলেকে সোর্পদ করেন। তিনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আলিফকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠান। আদালত রিমান্ডের আবেদন না মঞ্জুর করে আলিফকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। ৪৪ দিন আগে আলিফকে ঢাকা থেকে র‌্যাব-২ এর সদস্যরা আটক করেছিল বলে তাঁকে জানানো হয়। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত চলছে এ বিষয়ে আর কিছু বলেননি।
তথ্যসূত্রঃ অধিকার।