ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 
Eggs-Plate

গ্রামে গিয়ে সবার সাথে বসে খোশগল্পে মেতে আছি। কথায় কথার পিঠে এক ছেলে বলল ঢাকায় ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার দাম ৮ টাকা।

আমি বললাম- ৮ টাকায় তোরে মুরগির বাচ্চা দিবে?

ছেলে- আরে ভাই! এত্তটুক বাচ্চার (হাত দিয়ে বাচ্চার সাইজ দেখিয়ে) দাম কয় টাকা হবে?

আমি- ঢাকায় ডিম যদি কিনিস ১০ টাকা করে তাহলে ৮ টাকায় বাচ্চা দিবে কোন দুঃখে?

সবার মাঝে হাসির রোল পড়ে গেল….

একটুপর ছেলেটা আবার বলল-

এগুলা বাচ্চা নাকি মেশিনে (ইনকিউবেটর) ১ ঘন্টায় বানায়? তার কথার সাথে আরও একজন বলল, সবাইতো তাই বলে আর ইউটিউবের ভিডিও দেখেও মনে হয় যে বেশি সময় লাগে না। পরে ওদের ডিটেইলস জানানো হয়েছে।

আমার নিজের আত্মীয়ের একজন বলতেছে সাদা ডিমটা নাকি প্লাস্টিকের। আমি খাইনা ওটা। তবে সিদ্ধ করার পর আবার দুটা ডিম একই হয়। কিছুই বোঝা যায় না।

আমি বললাম- খেয়েও বুঝতে পারলেন না আলাদা কিনা, সিদ্ধ করেও একই পাইলেন, হজমেও সমস্যা করল না, স্বাদেও পার্থক্য হল না, তাহলে যদি ১ টাকা কম দিয়েই কেনা যায় তবে কিনে খান। সমস্যা নাই। (নকল ডিম ও দুধ নিয়ে এই দুটা লিঙ্কও একটু দেখবেন: https://goo.gl/ELQ5yD এবং https://goo.gl/7Z6iKr )।

ঘটনাগুলো এজন্যই বলা যে, গুজব আমার আত্মীয়ের ঘরেও গেছে। আমার ঘরেও গেছে। অথচ আমাকে একটাবার জিজ্ঞেস করারও সময় হয়নি! সঠিক তথ্য খোঁজার অনাগ্রহ আমাদের অনেক বেশি। চিলে কান নিয়েছি শুনেই ছুটছি আর ছুটছি।

যে সকল কারণে বাজারে ডিমের দাম কমে গেছে গরম তার মধ্যে একটি। অথচ গরমকালে ডিম খাওয়া যাবে না কথাটাও ভুল। বেশি গরম পড়লে অনেকে ডিম খেতে দেয় না, কিন্তু গরমের সঙ্গে ডিমের কোনো সম্পর্ক নেই।-ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টারের প্রধান পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার (সূত্র: প্রথম আলো, https://goo.gl/xBp9sU )।

আচ্ছা গরম খাবার বলতে কী বোঝায়? গরম খাবার মানে শরীর গরম করে এটা বোঝাতে চান? আসলে গরম খাবার বলতে বোঝায় যে সকল খাবার সহজে হজম হয় না। একটা ডিমে প্রোটিন থাকে ৭ গ্রাম, ফ্যাট থাকে ৫ গ্রাম। যা হজমে কোনই বাঁধাই নয়। এটুকু যদি হজম করতে না পারেন তবে হয়তো আপনার পেঁটের ভিন্ন কোনো সমস্যা আছে। সুতরাং ডাক্তার দেখান।

গর্ভবতী মাকে ডিম খেতে দেওয়া হয় না, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। গ্রামে এখনো অনেকে মনে করেন, গর্ভবতী মা ডিম খেলে বাচ্চার হাঁপানি হবে। ডাবের পানি খেলে বাচ্চার চোখ ঘোলাটে হবে। ক্ষীরা খেলে বাচ্চার ত্বক ক্ষীরার মতো হবে। কিন্তু এ ধারণাগুলো মোটেই ঠিক নয়। বরং গর্ভবতী অবস্থায় মায়েদের সব ধরনের খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তবে গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়া ঠিক নয়। – পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার (সূত্র: প্রথম আলো, https://goo.gl/xBp9sU )।

ডা. নেহা শানওয়াকা বলেন- সুস্থ থাকতে এই গরমেও প্রতিদিন ১-২ টা করে ডিম খান। আর বডি বিল্ডাররা প্রতিদিন ৪-৬ টা ডিম নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। তিনি আরো বলেন-ডিমে যেহেতু প্রচুর নিউট্রিয়েন্টস থাকে সেগুলো এই গরমে ফ্লুইডের ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যান্ত সহায়ক। (সূত্র: দ্য হেলথ সাইট)।

সুতরাং শীত আর গ্রীষ্মকাল বলে কোনো কথা নেই। শরীরের যথাযথ পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ডিম খান সারা বছর জুড়ে।