ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

ব্যাংক কর্মকর্তা নির্যাতনের পর ঘটে মাদ্রাসার ছাত্র হত্যা যিনি ছিলেন একজন পবিত্র কোরআনের হাফেজ। ব্যাংক কর্মকর্তা নির্যাতনের ঘটনা যিনি ঘটিয়েছেন তিনি একজন আত্মস্বীকৃত মুজিব সেনা ও পুলিশ! মাদ্রাসার ছাত্র হত্যাকান্ড যারা ঘটিয়েছেন তারাও একই শ্রেনীর অংশ। কিন্তু দুটি ঘটনার পর মিডিয়া ব্যাংক কর্মকর্তা নির্যাতনের ঘটনাটা যেভাবে গুরুত্ব দিল ঠিক উল্টোটি করলো মাদ্রাসার ছাত্র হত্যাকান্ডের ক্ষেত্রে! মাদ্রাসার ছাত্র হত্যাকান্ডের ঘটনাটি মিডিয়ার কাছে অনেক তুচ্ছ একটি ঘটনা বলেই মনে হলো। মাদ্রাসার ছাত্রটি টুপি-পাঞ্জাবী পরে, নামাজ পরে, কোরআনের হাফেজ এটাই কি তার দোষ? মাদ্রাসার ছাত্রটির জায়গায় যদি কোন চেতনাজীবি নিহত হতো তবে কি মিডিয়ার আচরণ এমন হতো?

এভাবে মিডিয়ার দ্বি-মূখী আচরণের মাধ্যমে আমাদের দেশে দুটি শ্রেণি তৈরী হচ্ছে একটি নির্যাতনকারী শ্রেনি আরেকটি নির্যাতিত শ্রেণি। আর যখনই একাধিক শ্রেনী তৈরী হবে তখনই শ্রেনী সংগ্রামের পথও সেখানে খুলে যাবে। যার দায় দায়িত্ব আমাদের মিডিয়ার গায়েই বর্তাবে। হয়তো মিডিয়কেও নির্যাতিত হতে হবে। মিডিয়া যে এখন নির্যাতিত হচ্ছে না তা নয় , তবে এখন বেছে বেছে এক শ্রেনীর মিডিয়া নির্যাতিত হচ্ছে একটা সময় আসবে যখন সকল মিডিয়াই নির্যাতিত হবে।

একটি নিউজে দেখলাম ব্যাংক কর্মকর্তা নির্যাতনের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পুলিশের আইজিপির কাছে বিচার দাবি করেছেন।-সূত্র এই ক্রেডিট নিশ্চয় মিডিয়ার। কারন তাদের সোচ্চার হওয়ার কারনেই এটা সম্ভব হয়েছে। মাদ্রাসার ছাত্র হত্যাকান্ডের ঘটনার জন্য কে কার কাছে বিচার দাবী করবে? কারন সচেতন (?) মিডিয়াইতো মাদ্রাসার ছাত্র হত্যাকান্ডের ঘটনাটিকে তুচ্ছ বলেছে ব্যাংক কর্মকর্তা নির্যাতনের ঘটনার তুলনায়! এটা তাহলে নিশ্চয় মিডিয়ার ডিসক্রেডিট।

মিডিয়া কেন সকল সত্য ঘটনার পাশে একযোগে দাড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে? মিডিয়া কেন সকল সত্য ঘটনার পাশে একযোগে দাড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে? সংবাদ মাধ্যম কি তাদের নীতি বিসর্জন দিয়ে ফেলেছে। তারা শুধু যেদিকে পানি পড়বে সেদিকে ছাতা ধরবে এমন সাংবাদিকতাই করে যাবে। যদি তাই হয় তাহলে আমাদের দেশের ভাগ্যে চরম দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে।