ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

এত মামলার উদ্দেশ্য কি? আসলেই ক্ষতিপূরণ আদায় বা শাস্তি দেওয়া নাকি অন্য পােষ না মানা সাংবাদিকদের ভয় দেখানো? যদি ক্ষতিপূরণ আদায় বা শাস্তি দেওয়াই উদ্দেশ্য হয় তবে মাহফুজ আনাম গ্রেফতার হচ্ছেননা কেন? কারন গত কয়েক দিনে সারা দেশে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির মোট ৭৬টি মামলা হয়েছে। মামলা কি এতই সস্তা বাংলাদেশে!

বিবিসি বাংলা তাদের একটি প্রতিবেদনে বলেছে- বাংলাদেশে ইংরেজী দৈনিক দ্যা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে একের পর এক মানহানির মামলা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা ভিন্ন ভিন্ন মতামত দিচ্ছেন।

এদের একাংশ বলছেন, একজন সম্পাদকের বিরুদ্ধে এই মামলা সরকার ও দলের জন্য অস্বস্তি তৈরি করছে। অন্য অংশটি মামলার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

শেখ রেহানার স্বামী শফিক সিদ্দিকী একের পর এক মামলা করাকে বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন:
”আমার অবাক লাগে – এটা নিয়ে একটু বাড়াবাড়ি হয়েছে। জয় কিন্তু কথা বলে ছেড়ে দিয়েছে। জয় কোনো কেস করে নাই। প্রধানমন্ত্রী কোনো কেস করে নাই। অন্য লোক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করছে। মাহফুজ আনাম দেশদ্রোহী না। ভিন্নমত হইতে পারেন।” বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিসনে নিউজ অ্যান্ড ভিউজ নামে অনুষ্ঠানে বলেন শফিক সিদ্দিকী।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন,
“যেহেতু আমাদের দলীয় নেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা খবর ডেইলি স্টার প্রকাশ করেছিল, সেকারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কী ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল এবং কারা তা করেছিল, এসব আইনগতভাবে তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।”

অন্যদিকে, আনবিটেবল মাহমুদুর রহমান ৭০ মামলায় মুক্তি পেয়েও মুক্তি পাচ্ছেন না! আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ককটেল মারার এক অদ্ভুত মামলায় নতুন করে তাকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। সেই সময় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা অফিসেই অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

এখন প্রশ্ন হলো মাহমুদুর রহমানকে ভয় কেন? ঐার বিরুদ্ধে ৭০টি মামলা করার পর এখন যখন সেই সকল মামলাগুলো থেকে জামিন পেলেন তখন তাকে আবার শ্যােন এরেষ্ট দেখানো হাস্যকর ছাড়া কিছু নয়। শুধু কি মাহমুদুর রহমান বন্দী হয়ে আছেন সাথে তার সম্পাদিত জনপ্রিয় পত্রিকা ‘আমার দেশও’ বন্ধ।

এাহমুদুর রহমান সম্পর্কে ড: তুহিন মালিক তার একটি কলামে বলেছেন, ক্ষমতাসীনের কাছে মাহমুদুর রহমান যে কতটা আতঙ্কের নাম সেটার প্রমাণ হচ্ছে, দীর্ঘ ১২০ দিন ধরে নিজ পত্রিকার অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় যখন এই মানুষটির বিরুদ্ধে ককটেল মারার অভিযোগ আনা হয়। স্কাইপ কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর ২০১২ সালের ১২ই ডিসেম্বর মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা করা হয়। কিন্তু মামলার পর থেকেই মন্ত্রীদের ক্রমাগত হুমকিতে তিনি বুঝে যান তাকে হয়তো গুম করা হতে পারে।

সে কারণেই তিনি দীর্ঘ চার মাস ধরে তার পত্রিকার অফিসে স্বেচ্ছা অবরুদ্ধ ছিলেন। আর এই অবরুদ্ধ অবস্থাতেই ডিবি পুলিশ ২০১৩ সালের ১১ই এপ্রিল কারওয়ান বাজার অফিস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। অথচ এখন নতুন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ককটেল মামলার রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করে, ঘটনার সময় ২৮শে জানুয়ারি ২০১৩ সকাল আনুমানিক ৮:৩০, ঘটনাস্থল- শাহবাগ, মামলা নং ৫০(১) ২০১৩।

এজাহারভুক্ত সর্বমোট আসামির সংখ্যা ৪৪ জন। যেখানে মাহমুদুর রহমানের কোনো নাম নেই। তার মানে সরকার কতটা দুর্বল, ভীত ও হতাশাগ্রস্ত হলে পুরো দেশবাসীর সামনে নিজ কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ একজন মানুষকে এহেন হাস্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত করা যেতে পারে! মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারের একের পর এক মামলা দেয়া হয়তো একদিন শেষ হবে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সরকারের আক্রোশের সীমা কি শেষ হবে কখনও?

এই দুই জনের মামলার পর্থক্য যেখানে: মাহফুজ আনাম সত্য স্বীকার করে বিপদে পড়েছেন। বেচার বিষয়টা আগে আচঁ করতে পারলে ভুলেও এ কাজ করতেন না। তারপরও আশাকরি, তার মামলাগুলো লােক দেখানো হয়েই থাকবে। তার ডেইলী স্টার পত্রিকাও নিরাপদ থাকবে।

অন্যদিকে মাহমুদুর রহমান যে ভুলটা করেছেন তা হলো, সত্য প্রচারে কোন বাধা মানেননি। যার জন্য তাকে এত মাশুল দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কােন সাংবাদিক এত নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন বলে আমার জানা নেই। তবে, মাহমুদুর রহমান ও তার সম্পাদিত জনপ্রিয় পত্রিকা আমার দেশ নিশ্চয় একদিন মুক্তি পাবে।

এই পোষ্টটি লিখতে দুটি লিংকের সাহায্য নেওয়া হয়েছে:
১.বিবিসি বাংলা

২. মানব জমিন