ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

বাংলাদেশে দেখা যায় যখন যে দুর্যোগ শুরু হয় সেটা মহামারী আকার ধারন করে। কিছু দিন আগে এরকম দেখা গেছে শিশু নির্যাতনে এখন দেখা যাচ্ছে শিক্ষক নির্যাতনে। আমারা প্রতিবাদী জাতি কোন সন্দেহ নেই তবে সেটা কেমন জানি নিরপেক্ষ হয় না। এর কারন কি?

এর দুটো সূত্র থাকতে পারে বলে মনে হয়-

সুত্র:১- আমরা সকল ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ নই-এটা হতে পারে আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ের কারনে
সুত্র:২- আমারা কারো বেলায় সত্য বলাটাকেই নিরপেক্ষতা মনে করি আবার কারো বেলায় মিথ্যা বলাটাকেই সত্য হিসাবে চালিয়ে দেওয়াকে নিরপেক্ষতা মনে করি!

সাম্প্রতিক কিছু শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা-

১. কোনো কারণ ছাড়াই, ময়মনসিংহ গৌরীপুর কলেজ শিক্ষক মোঃ ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে শুধু অপমানই করেনি।বয়োবৃদ্ধ এই শিক্ষককে উলঙ্গ করে ছেলে/মেয়ের বয়সী ছাত্র-ছাত্রীর সামনে ক্যাম্পাসে ঘুরিয়েছিলো।!
.
-এই ঘটনায় প্রতিবাদ করার প্রয়োজনবোধ করিনি আমরা (হয়তো এই কারনে যে কান ধরার প্রতিবাদ কান ধরে করা যায় কিন্তু উলঙ্গ হওয়ার প্রতিবাদ করতে গেলে তো উলঙ্গ হতে হবে তাই!)
.
২. ঢাবিতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভোট দিতে যেয়ে স্ত্রী-সন্তান ছাত্রলীগের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলো ঢাবিঃর সাবেক প্রফেসর, এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক,ডঃ এমাজউদ্দিন আহম্মেদ!!
.
৩. যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুব উল্যাহ স্যারের উপর হামলা করে আহত করা হয়েছিল, জামা ছিড়ে ফেলা হয়েছিলো তখনো কেউ বলেনি বাংলাদেশ ছিঁড়ে গেছে।
.
.
৪. পরিমলরাও ধর্ষণের সেঞ্চুরি করলে, শুধু কিছু ছাত্রীই ধর্ষিত হয়, বঙ্গদেশ ধর্ষিত হয় না!!-পরিমলের ঘটনার সময় কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার প্রয়োজনবোধ করেনি!
.
৫. শিক্ষক শ্যামল কান্তির জন্য প্রতিবাদ ভাল কথা কিন্তু শিক্ষক শ্যামল কান্তি ধর্মীয় অনুভূতিতে যদি আঘাত করে থাকেন তবে সেটা অপরাধ (কিন্তু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কারনে তাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা আমি মোটেই সমর্থন করিনা) যাকে আমি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না। একজন শিক্ষক কখনো কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে না। সে শিক্ষক নয়, শিক্ষক নামটিকে অপমান করছে।

১,২,৩ নং শিক্ষক নির্যাতনের ক্ষেত্রে আমরা ২ নং সুত্রের ব্যবহার করেছি (সুত্র:২- আমারা কারো বেলায় সত্য বলাটাকেই নিরপেক্ষতা মনে করি আবার কারো বেলায় মিথ্যা বলাটাকেই সত্য হিসাবে চালিয়ে দেওয়াকে নিরপেক্ষতা মনে করি!)

৪,৫ নং শিক্ষক নির্যাতনের ক্ষেত্রে আমরা ১ নং সুত্রের ব্যবহার করেছি (সুত্র:১-আমরা সকল ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ নই-এটা হতে পারে আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ের কারনে)

যতদিন আমরা বাংলাদেশীরা সবার ক্ষেত্রে সমান আচারন করতে না পারব ততদিন এসব নির্যাতন বন্ধ হবে না। একই সাথে সকল ঘটনার দুটি পক্ষ তৈরী হয়ে যাবে। যেমনটি বর্তমান ঘটনায় ঘটেছে। সকল শিক্ষক নির্যাতনের নিরপেক্ষ প্রতিবাদ যদি না হয় তাহলে বর্তমান শ্যামল কান্তি নির্যাতনের পক্ষে – বিপক্ষে যেমন মানুষ ভাগ হয়ে গেছে এভাবে সকল ক্ষেত্রেই তাই হবে।

কিন্তু সত্যের পক্ষে ভাগ হয়ে যাওয়াটা কোন সভ্য দেশের মানুষের উচিত নয়।