ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

যারা জনগনের সত্যিকার প্রতিনিধিত্ব করে তারা জনগনকে ভালবাসবে। কারন জনগন তাদেরকে ক্ষমতায় বসায়। কিন্তু জনগন যদি কাউকে ক্ষমতায় না বসিয়ে থাকে তখন সেই জনগনের কি কি হতে পারে তাদের (যদি অন্যকোন বিশেষ মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকে) দ্বারা? হ্যাঁ এবারের বাজেট এরকমই একটি বাজেট হয়েছে। যেখানে সাধারন মানুষের কথা মোটেই ভাবা হয়নি বলে মনে হয়েছে।

আবুল মাল মুহিত জানিয়েছেন, ভালসেবার জন্য ভালো সেবার জন্য একটু রাজস্ব বেশি দিলে মন্দ হয় না। কিন্তু ভাল সেবা বলতে কি বুঝায় এটাই তো আমরা এখন পর্যন্ত দেখলাম না। কোন সেবাকে ভাল সেবা বলা হচ্ছে। এটা পরিষ্কার করলে ভাল হতো।

তিনি আরোও জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের ওপর রাজস্ব বাড়ানোর বিষয়ে -আগে যেমন ট্যাক্স আসতো, তেমন আসছে না এই খাত থেকে। মোবাইল ফোনে যারা কথা বলেন, এটি তেমন কিছু নয় বলে আমি মনে করি। এতে তাদের জন্য অতিরিক্ত কোনো প্রভাব পড়বে না। –আমার বাংলাদেশ

বাজেট ঘোষনার সাথে সাথে তা বাজারে বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। সবজিনিসের দাম বেড়ে গেছে। সাধারন মানুষ যাবে কোথায়? মুহিত সাহেব মনে করেন দেশের সকল মানুষ অনেক অর্থবিত্তের মালিক! কিন্তু উনি মনে হয় জানেন না যে, গত এক বছরে যে পরিমান টাকা বাংলাদেশ থেকে চুরি হয়েছে তা বাংলাদেশের সাধারন মানুষ করেনি যে তারা রাতারাতি অনেক অর্থের মালিক এখন তাদের কাছে যা চাওয়া হবে তাই তারা দিবে। চুরি হওয়া টাকা কোথা থেকে আসবে তার কোন হিসাব নেই। এগুলোতো জনগনের টাকাই ছিল।

মোবাইলে ১০০ টাকায় কথা বলা যাবে ৭৯ টাকার! এটা কি দেবার সামর্থ কি সব মানুষের আছে?

বেতন বাড়ানোর সময় শুধু সরকারী কর্মচারীদেরটা বাড়িয়ে খুশি হলেন বেসরকারী চাকুরেদের কথা একবারও ভাবলেন না। কিন্তু ভ্যাট আরোপের সময় হুট করে সবার উপর চাপিয়ে দিলেন। এটা কতখানি যুক্তিযুক্ত?

আবার হিন্দুদের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন! এটা কাকে খুশি করার জন্য। ৯০ ভাগ মুসলিমের জন্য কি করলেন, খ্রিষ্টানের জন্য কি করলেন, বৌদ্ধদের জন্য কি করলেন, উপজাতিদের জন্য কি করলেন? তাহলে এটাকে সাম্প্রদায়িক বাজেট বলা ভুল হবে না!

বিশেষ ধর্মের মানুষের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে মুহিত সাহেব প্রমান করেছেন তারা বিশেষ রাষ্ট্রকে খুশি রাখতে বদ্ধ পরিকর কারন তারাইতো ক্ষমাত মূল উৎস!

দেশীয় তৈরি বিস্কুট, কেক, বিভিন্ন ধরনের পেপার, পেপার প্রোডাক্ট, জিপি শিট, সিআই শিট, রঙিন শিটসহ বিভিন্ন ধরনের এমএস প্রোডাক্টের নির্ধারিত ট্যারিফ মূল্য ২০ শতাংশ আছে। নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।- সমকাল তার মানে এখন কেক, বিস্কুটের দামও বাড়বে। তাই এখন থেকে কেকের বদলে পাউরুটি কেটে জন্মদিন পালন করব ঠিক করছি!

বাজেট ঘাটতি পূরনে আমার মনে হয় একটি কাজ করা যেতে পারে তা হলো- বাংলাদেশে নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত তাতে বাজেটের ঘাটতি অনেকটা পূরন হবে আর সাধারন মানুষও অকাল মৃত্যু থেকে রেহায় পাবে। কারন এখন নির্বাচন মানেই সংঘর্ষ আর মৃত্যু। এসবা লোকদেখানো নির্বাচনের কোন মানে হয় না। মানুষ কি আর এত বোকা!

বাজেট নিয়ে লেখা শেষ করার আগে বিএনপির কয়েকটি প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করে শেষ করব:-

বাজেট নিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া:

নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের প্রতিনিধিরা জনগণের জন্য বাজেট দিবে, এটিই প্রত্যাশিত। কিন্তু আমরা তো তাদের (ক্ষমতাসীনদের) জনগণের প্রতিনিধি বলেই মনে করি না। আর বাজেটে কী লিখবে তারা? এই যে ব্যাংক ও শেয়ারমার্কেট লুট, এগুলোর কী হবে? শুনলাম, প্রস্তাবিত বাজেটে সবকিছুর ওপরে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। যারা জিনিসপত্র কেনে তারাই তো ভ্যাট দেয়। ভ্যাট দেয় জনগণ, আর পুরস্কার নেয় মালিক। এটা লুটেরা বাজেট।

প্রস্তাবিত বাজেটকে চুরি ও দুর্নীতির বাজেট আখ্যা দিয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংবাদিক বন্ধুরা বাজেটের প্রতিক্রিয়া দিতে বলছেন। কীসের প্রতিক্রিয়া? ভোটারবিহীন অবৈধ সরকারের বাজেট। এর মধ্যে জনগণের কোনো অংশিদারিত্ব নেই, তাদের কোনো সমর্থন নেই। কিসের জন্য এই বাজেট? তিনি আরো বলেন, ‘এটি মিথ্যা ও চোরদের বাজেট, চুরির বাজেট। এখানে মানুষের কোনো অধিকার থাকবে না, জনকল্যাণ হবে না। যে দেশে চোর (চৌর্যবৃত্তি) ও দুর্নীতিবাজরা দেশপ্রেমিক হয়, তাদের বাজেট যে দুর্নীতির বাজেট হবে, দুর্নীতি প্রটেকশনের বাজেট হবে-সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।’ –আমার বাংলাদেশ

slide

ভ্যাট আরোপের বাজেট--সমকালের ছবি