ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

জিপিএ-৫ নিয়ে বিতর্ক শেষ হতে না হতেই নতুন বিতর্ক আমাদের বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বানিজ্য নিয়ে। অযোগ্য প্রার্থীকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগদান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ! নিয়োগ কর্তৃপক্ষের মধ্যে যারা আছেন তারা হলেন, উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আখতার সুলতানা, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুধাংশু শেখর রায় এবং একুশে টেলিভিশনের সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুল।

উপরোক্ত বুদ্ধিজীবীগন (!) যাদেরকে নিয়োগ দিলেন তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন খোলা মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগের বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেননি! অথচ আবেদনকারীদের মধ্যেই শর্ত পূরণকারী প্রার্থীরা ছিলেন।

আবেদনের অযোগ্য চারজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

আবেদনের অযোগ্য চারজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপনে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫-এর মধ্যে ন্যূনতম ৪.২৫ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি অথবা সিজিপিএ-৪-এর মধ্যে ন্যূনতম ৩.৫০ পেতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকদের মধ্যে দুজন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৭০ পেয়েছেন। অপর দুজন স্নাতক সম্মানে সিজিপিএ-৩.৪৫ ও ৩.৪৭ পেয়েছেন। অর্থাৎ এঁদের কেউই বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত আবেদনের শর্ত পূরণ করেননি। শর্ত না পূরণ করার ব্যাপারে তাঁরা নানা যুক্তি দেখালেও তাঁদের কেউই এ অভিযোগ অস্বীকার করতে পারেননি। তার মানে এখন থেকে ঐসব অযোগ্য শিক্ষকদের কাছেই দেশের সেরা ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিতে হবে!

এথেকে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও গ্রামের কলেজ আর স্কুলগুলোর মত নিয়োগ বানিজ্য চলমান।

এভাবে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার কোন অধিকার কারো নেই। দেশে লক্ষ্য লক্ষ্য জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্র-ছাত্রী কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫-এর মধ্যে ন্যূনতম ৪.২৫ চাওয়া হয় কিভাবে? আর যে কোন অজ্ঞাত কারনেই হোক সেটা চাওয়া যখন হলোই তখন এই নিয়ম ভঙ্গ করা হলো কেন? যারা আবেদন করারই যোগ্যতা রাখেননা সেই অযোগ্য চারজন হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। কি আশ্চর্যজনক বিষয়!

যাইহোক এত লিখে আসলে কোন লাভ নেই। কারন কর্তৃপক্ষ যদি জেগে জেগে ঘুমায় তাহলে আর কি করার। তবুও বলতে চাই, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যদি এখনই সঠিক জায়গায় নেওয়া না যায় তবে ভবিষ্যত বাংলাদেশী প্রজন্ম অন্ধকার দেখবে তা নিশ্চিত করে বলা যায়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো