ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

এত উন্মুক্ত আর নৃশংস হত্যাকাণ্ড যেন পৃথিবীর কোথাও নেই। যে কেউ ইচ্ছা করলেই মুসলিমদের হত্যা করতে পারে মায়ানমারে, তাও আবার নিজ দেশের জনগনকে! সেদেশের প্রশাসন ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা মিলে আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে সে দেশের সরকার অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বার্মায় রাখাইন গণহত্যা এভাবেই হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। আমাদের পশের দেশে এমন নৃশংস ঘটনা হলে আমাদের সরকার এসবের বিরুদ্ধে কোন ধরনের প্রতিবাদ করছেনা। এটা আরো দু:খজনক। সরকারিভাবে বাংলাদেশের প্রতিবাদ জানানো উচিত এই গণহত্যা বন্ধের জন্য। আর প্রতিবাদ জানাতে না পারলেও কমপক্ষে সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের শরনার্থী হিসাবে থাকার সুযোগ দেওয়া হোক। রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যা বন্ধ করা হোক।

বিবিসি বাংলার মাধ্যমে জানা যায়, জাতিসংঘ বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেওয়ার অনুরোধ করে বলেছে, “মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের জন্য বাংলাদেশ যেন নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে সে সম্পর্কে বলেছে সংস্থাটি, এদিকে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে আজ আরো তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। মিয়ানমারের সরকারকে সেখান মানুষদের নিয়ম অনুযায়ী রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে সেখানকার সহিংস পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে যারা বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছে তাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার যেন নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে সে বিষয়ে আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে নাফ নদী পারি দিয়ে বাংলাদেশের ঢোকার সম্ভাব্য সব পথে নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড।বিজিবির দুই এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আবু জার আল জাহিদ বলছিলেন আজ আরো তিন প্লাটুন সৈন্য মোতেয়েন করা হয়েছে নজরদারি বাড়াতে। তিনি বলছিলেন শতভাগ নি:ছিদ্র করা না গেলেও সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পথ গুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবির এই সদস্য বলছিলেন গত বুধবার রাতে ১৬ জনের একটি দল নদীপথে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করলে তারা তাদেরকে ফেরত পাঠান। তারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কিনা সেটা নিশ্চিত করেন নি তিনি।

তবে স্থানীয় সূত্র গুলো বলছে গতকাল রাতেও ৭৮ জনের একটি দল প্রবেশ করার চেষ্টা করলে করলে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমারের মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন প্রদেশের গ্রামগুলোতে ৯ই অক্টোবরের পর অন্তত ৬৯ জনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে দেশটি সেনাবাহিনী। রাখাইন প্রদেশে সম্প্রতি শুরু হওয়া বিদ্রোহ দমনের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করছে সেনাবাহিনী।”

বাংলাদেশের উচিত সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের শরনার্থী হিসাবে থাকার সুযোগ দেওয়া। যেটা বাংলাদেশের সাধারন মানুষ প্রত্যাশা করে। তা নাহলে এই বিষয়ে সাধারন মানুষের ক্ষোভ বাড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাই সময় থাকতে সঠিক সিদ্ধন্ত নেওয়াই শ্রেয়।