ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

এতবড় একটা ন্যক্কারজনক ধর্ষনের ঘটনার বিচার আমি চাই না! কারন গত কয়েক বছরে অনেক ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে কিন্তুু কোনটারই বিচার চোখে পড়েনি। সাধারন মানুষ প্রতিবাদ করেছে কিন্তু তা কারো গায়ে লেগেছে বলে মনে হয় না। বগুড়াতে যে ঘটনা ঘটে গেল তা যে কোন সচেতন মানুষকে মর্মাহত করবে।

বগুড়ার ধর্ষনের ঘটনা যেমন ছিল, নির্যাতিতা বগুড়া শহরের বাদুড়তলা এলাকায় বসবাসকারী এক চা বিক্রেতার মেয়ে। সে শহরের জুবিলি ইনস্টিটিউশন থেকে এবার এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। প্রতিবেশী আলী আজম দিপু তাকে বলে, শ্রমিক লীগ নেতা তুফান এ কাজে সাহায্য করতে পারবে। পরে তুফান সরকার দিপুর মাধ্যমে মেয়েটিকে চার হাজার টাকা দিয়ে একটি কলেজে ভর্তির জন্য পাঠায়। কিন্তু ভর্তি হওয়া সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন মিডিয়ার শিরোনাম

১৭ জুলাই তুফান স্ত্রী-সন্তান বাসায় না থাকার সুযোগে মেয়েটিকে বাসায় ডাকে এবং দিনভর আটকে রেখে কয়েক দফা শ্লীলতাহানি ঘটায়। মেয়েটি রক্তক্ষরণ নিয়ে বাসায় যায় এবং তার মা ঘটনাটি জানতে পারেন। কিন্তু তুফান সরকার মুখ না খুলতে শাসিয়ে দেওয়ায় তারা বিচারপ্রার্থী হয়নি। এদিকে ধর্ষণের কথা জানতে পেরে তুফানের স্ত্রী আশা খাতুন, তার বড় বোন পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের নারী কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি এবং মা রুমী বেগম মেয়েটির বাড়িতে যায়। তারা ধর্ষণের বিচার করে দেওয়ার কথা বলে মেয়েটি ও তার মাকে রুমকির চকসূত্রাপুরের অফিসে নিয়ে আসে। তারা দুজনের বিরুদ্ধে যৌন ব্যবসার মিথ্যা অপবাদ দেয়। এরপর তুফান সরকারের লোকজন দুজনকে লাঠিপেটা করে এবং একপর্যায়ে নাপিত ডাকে। প্রথমে মা-মেয়ের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে তুফান সরকারের স্ত্রীর নির্দেশে দুজনকে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এরপর ২০ মিনিটের মধ্যে বগুড়া শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য শাসিয়ে দুজনকে রিকশায় তুলে দেওয়া হয়।

এই সোনার ছেলে তুফান সরকারের কক্ষ থেকে ২০১৫ সালে র‌্যাব ১৭০০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করেছিল। নিশ্চয় সেই বিচারও হয়নি! যদি সে বিচার হতো তাহলে মানুষরুপি পশুটা আজ জেলে থাকার কথা। আর সে জেলে থাকলে এধরনের একটা ধর্ষনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

ধর্ষিতা ও তার মাকে ধরে এনে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় তুফান সরকারের স্ত্রী, স্ত্রীর বড় বোন ও শাশুড়িকে খুজেঁ পাওয়া যাচ্ছে না। ধর্ষনের ঘটনায় ধর্ষিতার ছবি প্রকাশ না করে ধর্ষক ও তার সহযোগীদের ছবি প্রকাশ করা উচিত বলে আমার মনে হয়। এটা তাদের জন্য একধরনের শাস্তি।

একটি রাজনৈতিক পরিচয় ঐ পশুদের এধরনের কাজ করতে উতসাহিত করেছে। যদিও অনেক সুযোগ-সন্ধানী মিডিয়া ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয় কৌশলে গোপন রেখেছে। এটা ঐ মিডিয়া গুলোর নীতি। অন্য রাজনৈতিক দল হলে খুব দ্রুতই সবার আগে রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করত!

মূল ঘটনা: দৈনিক কালের কন্ঠ থেকে নেওয়া