ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

গত বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে ব্লগারদের লেখা গল্প সংকলন কত্থকদের গল্প। গল্প সংগ্রহে ছিলেন এস.এম.পাশা বইটি বাজারে এনেছে ভাষাচিত্র প্রকাশনী। প্রকাশক খন্দকার মনিরুল ইসলাম। প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী হাজরা। বইটির মূল্য ১২০ টাকা। বইটি প্রায় ১মাস সময় নিয়ে পড়লাম তারপর এই পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখলাম। প্রথমেই বলে নিচ্ছি লেখাটা গতানুগতিক বই আলোচনা মত করে লেখা নয়। আর লেখা নিয়ে সমালোচনা করবার মতো ধৃষ্টতাও আমার নেই আমি শুধুমাত্র সাধারণ পাঠক হিসেবে আমার অনুভূতি ব্যাক্ত করলাম।

সর্পরাজের গল্প
লিখেছেন মাহবুব মোর্শেদ কত্থকদের গল্প বইয়ের প্রথম গল্প এটি। গল্পের শুরুটা শ্রীপতিপুর হাট থেকে, সে হাটে হাজার লোকের ভীড়ে মজমা দেখাতে আসে সর্পরাজ। এ সর্পরাজ দশটা সাধারণ মানুষের মতো হলেও তার হাতে থাকে অন্য রকম কারিশমা। ডুগডুগি বাজিয়ে শুরু হয় তার খেল।

লেখার শুরু থেকে শেষ অবদি পড়ে কোন প্যারা চোখে পড়েনি যে, থেমে একটু দম নেব। অনেকটা হাটার উপর দৌড়াচ্ছি টাইপ নিয়ে গল্পটা পড়তে হয়েছে মনে হলো লেখকের লেখনির একটা ষ্টাইল; আর এই ষ্টাইল অনেক কবির লেখাতেই লক্ষ্য করা যায়। যদিও গল্পের বিষয়বস্তু অল্প কিন্তু তার বিস্তার ব্যাপক আকার।

গল্পের নায়ক সর্পরাজ হলেও মূলত তিনি সাপের খেলা দেখাননা। কিন্তু সাপ নিয়ে ঘুড়েন। কথার প্রসঙ্গে জানা যায় তার সাপের খামারও রখেছে।

পথি মধ্যে ভীড় দেখে চোখ কিন্তু থমকে যায়। কি হচ্ছে ওখানে চোখ জোড়া ও পথে পা বাড়ায়। সবার …..ভীড়ে যে লোকের বকবকানি চলে তাকে অনেকটা টেপরেকর্ডারের মতই মনে হয়। আমরা অনেকেই আসি। আমরা টেপরেকর্ডার শোনার আগ্রহী শ্রোতা।

সর্পরাজ শরু করে তার নিজের জীবনের গল্প। কিভাবে সে সর্পরাজ হলো কথিত কামরু-কামাক্ষায় তার জীবন যাত্রার কথা। গল্পের এইক অংশাটা রূপকথার মতো ঝিম ধরিয়ে দিয়েছে। সর্পরাজের নায়ক হয়ে যাওয়ার গল্পটাই দেখতে পাই। সর্পরাজের গল্প যেন শেষ হয়না যদিও এটাইবাস্তব চিত্র; এই চিত্রটাই শেষ পর্যন্ত সর্পরাজ কে মারপিটুনির মতো দুর্ভাগ্য জনক ঘটনায় শামিল করে।
সবশেষে দেখা যায় সর্পরাজ আবারও উঠে দাড়ায় দুরের কোন হাটে শুরু করবে অসমাপ্ত গল্পটা

বরজ
কথকদের গল্প বই ২য় গল্প এটা লিখেছেন মাহাফুজুর রহমান
যদিও পানের বরজ নিয়েই গল্পটার মূল থীম। কিন্তু এই বরজের গল্পটা ভেতরেই রয়ে গেছে জোড় দখলের একটা স-করুন কাহিনী। গল্পের মূল চরিত্রে রয়েছে সুবল আর বড় মিয়া আজমত আলী। সুবলের অতি যতেœ গড়া পানের বরজেই নিজের ছেলের জন্য ঘর তুলতে চায় আজমত আলী। কিন্তু সুবল নিজের জীবন বিসর্জন দিতে প্রস্তুত কিন্তু তবুও সে জমি দেবেনা। গল্পের বুননে কোথায় থমকে যেতে না হলেও গল্পটা যেন অনেকটা তাড়িয়ে নিয়ে গেছে যদিও ছোট গল্পে বিস্তৃত খুব কমই থাকা দরকার। গল্পের ভেতর থেকে ছোট একটা গল্পেও উঠে এসেছে সুবলের মেয়ে মমতা আর কার্তিকের কথা।
শেষ মূহুর্তে এমতাবস্থায় সুবল বাড়ি ফিরবার পথে বড় মিয়ার লোকেরা ওকে হত্যা করে এবং সুবলেরই প্রিয় বরজের জলধারায় পড়ে থাকে সুবলের নিহত দেহ।

আমাদের মধবিত্ত শূন্যতা
শামিম রহমান লিখেছেন এই গল্পটা। গল্পটা অনেকটা কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এর ষ্টাইলে লেখা…..হুমায়ুন বলতে গেলেই চোখে ভাসেই অন্যরকম লেখা। আমি সেই রকম করে একটু লিখছি

‍‍টগর আজ খাবেনা। টগরের খেতে ইচ্ছে করছেনা। দেয়ালের ক্যালেন্ডারের ফরিঙটা ওর দিকে রেগে তাকিয়ে আছে। এই রকম ফরিঙ সেজ খালা ইফতি আরমানের বাসার বারান্দায় দেখা যায়। ওনার বারান্দায় আবার বিড়ালের উৎপাত ইফতি খালা বিড়াল খুব ভালোবাসেন। উনার বিড়ালের চোখ নীল এই রকম নীল চোখওলা বিড়াল আমি জন্মে দেখিনি। আমরা খালাকে বলেছিলাম কোত্থেকে আনলেন এটা উনি বলবেন না এটা উনার ঢং, উনি খুব ঢঙের মানুষ নামের মাঝেই কেমন যেন ঢঙ আছে ইফতি আরমান…….. আরমান তো ছেলেদের নাম হয় ? উনি বলেন এটার একটা মাজেজা আছে বড় হলে বুঝবি
সেদিন পিকু স্যার বলেছে টগরা তুই আর বড় হবিনা; বেশি বিটলামি করিস তো তাই।
ছোট মামা নঙ্কুও তো অনেক বিটলা কিন্তু সে তো ইয়া লম্বু। বড় হয়ে গেছে। আমিও হব”

আমার মনে হলো শামীম রহমানের লেখাটা ঠিক তেমন ষ্টাইলেই খানিকটা তুলে দিলাম……………………………………
“ আশ্চর্যজনকভাবে আমাদের বাসায় মানুষ কমে যাচ্ছে। এই বছর দশেক আগেও বাসায় মানুষে গিজগিজ করতো। গিজগিজ শব্দটাতে আপনাদের কারও কারও ভুরু কুঁচকে উঠতে পারে, ভাবতে পারেন গিজগিজ কথাটা কেবল ছুটির সময় ফার্মগেট বা মতিঝিলেই মানায়, কিন্তু আমাদের বাসার ক্ষেত্রেও শব্দটা সে রকম হবে”

গল্পের মুল চরিত্রে যে মেয়েটি সে তার অতীত থেকে বর্তমানের কথা রোমন্থন করে এটাই মুল বিষয় তবে শব্দচয়ন বা গল্পের বর্ননা অদ্ভুত রকমের সুন্দর পড়লেই বুঝা যাবে। গল্পের কোথাও পাঠক থামতে পারবেনা লেখক গলায় রশি দিয়ে পুরোটা পড়িয়ে ছাড়বে। মুল কাহীনি কিন্তু অল্প, সেটাকে পেচিয়ে করা হয়েছে বড়। এই গল্পটাও প্যারা ছাড়া পড়তে হবে নিমগ্ন ভাবে।

ব্যাক্তিগত নদীনালা
গল্পকথকদের গল্প বইয়ের চতুর্থ গল্পটা লিখেছেন সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র। কয়েকটি ছোট ছোট সঞ্চিত প্যারা রয়েছে গল্পটার প্রথমেই রয়েছে বাদলা পর্ব। তারপর চেরাগের আগুন, এই দিকে শহর, শহরে চেরাগ জ্বলেনা ইত্যাদি। পুরো গল্পেজুড়ে পাঠকের খেই হারিয়ে ফেলবার মতো একটু অবস্থা রয়েছে। রয়েছে ভাষার ব্যাপক ব্যবহার বাঙ্গালী কালচারালের সেন্সরড কিছু শব্দ আর সব কিছু নিয়ে দুর্দান্ত বেগে গল্পটা চলেছে। আঞ্চলিক শব্দেরও সমাহার রয়েছে। গল্পের মূল চরিত্রে রয়েছে বাদলা যে চেরাগ বানায়। চেরাগের ভেতরেই তার সকল কিছু। মেঘুলা বাদলার বোন যে শরীর বেচে চলে ওদের এই জীবন চিত্রটাকে নদীর মতো সাজিয়েছে লেখক। কিছু সত্যি আর অন্তরালে মুখচাপা কথা দিয়েই সাজানো হয়েছে গল্পটা।

নদীর পারের এই মানুষ গুলোর জীবন চিত্রই ফুটে উঠেছে এক রাত্রে নালা নদী হয়েছিল। গল্পের শেষাংশে দেখা যায় নদী মেঘুলাকে নিয়ে গেছে। বাদলা তার দাদার সাথেই থাকে পূর্বের মতো চেরাগ বানায়। গল্পটা পড়তে গেলে প্রথমে খটকা লাগতে পারে তবে পড়তে হবে মননে তাতেই বুঝতে পারা যাবে। সাধারণ পাঠকের দিকে নজর দিলে বলা যায় এই জাতীয় গল্প সাধারণরা এড়িয়ে যায়।

গন্তব্য
চমৎকার কথাশৈলী দিয়েই গল্পের বুনন আর এই গল্পটা লিখেছেন তনুজা ভট্টাচার্য্য।
শাহানা বেগম বিধবা, নিঃসন্তান বেসরকারী জুনিয়র স্কুলের শিক্ষক। অল্পেতেই যিনি সুন্দর সব অনূভূতি থেকে বিছিন্ন হয়েছেন। যিনি কলেজে পড়ার সময়ই নিজের ইচ্ছা শক্তিকে মুঠোতে চেপে অনিচ্ছায় বিয়ে করেছেন বিবাহীত জীবনে শীতল ভূমিকা পালন করেই তার দিন কেটেছে।

একসময় পরিচয় সাইফের সাথে যে, একজন অর্গানাইজার শাহানা মনে মনে নিজেকে একটু রঙ্গীন করে ভাবতে চায় কিন্তু সেটা আর হয়না।
সে আপা হয়েই থেকে যায়। পুরো গল্পটা জুড়ে শাহানার অনুভুতি। গল্পটার পরিধি আছে বেশ কিন্তু বিষয়বস্তু অল্প। আর এই অল্প বিষয়বস্তু দিয়েই লেখক জন্ম দিয়েছেন চমৎকার গল্প। এই গল্পের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে আবেগ। আমার কাছে মনে হলো এটা অনুভূতির গল্প।

সোনাপুর অথবা ফরিদার গল্প
এস.এম. পাশার লেখা গল্প এটি। গ্রাম্য পটভুমি নিয়েই গল্পটা। লালফিতে বাধা কিশোরীর সৌন্দর্য
সকল অনুভূতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো শহর থেকে আসা গল্পের নায়কের চোখে।
হাতে ক্যামেরা নিয়ে সেই সুন্দরকে ক্যামেরা বন্দি করতে গিয়েই বিপত্তি বাধলো। কিশোরী কন্যার পিতার কাছে অনেক প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হলো। মন বিষন্নতায় শেষে বাড়ি ফিরবার সময় ঘাটের নৌকাটাকেও পাওয়া গেলনা। শেষ পর্যন্ত সেই কিশোরীর বাড়িতেই পুনরায় যেতে হলো।
কিশোরীর নাম ফরিদা।

গল্পের এ অবদি এসে দেখতে পাই ও বাড়িতে ফরিদার ভাই মিলনের ডায়রিয়ার দেখা দেওয়ার অবস্থা খারাপের দিকে শেষ পর্যন্ত গল্পের নায়ক তাদের সহযোগিতা করলেন। তাতে রাতে থাকার একটা ব্যবস্থাও হলো।
বাড়ি ফিরে ছবি প্রিন্ট করে ফরিদাকে দেখার তৃষ্ণা আরো বেড়ে গেল। পুনরায় আবার সেই গ্রামে ছবি দেবার উছিলায় যাওয়া হলো। নাহ্ ফরিদাকে দেখা হলোনা সামনা সামনি। শেষ বেলায় দেখা হলো দূর থেকে। বড় পরিতাপের বিষয় এই যে মনকে ভীষণ ভাবে নাড়া দিয়ে গেল যখন গল্পের শেষে জানা হলো ফরিদা বাকহীন। লেখায় লেখক নিজস্ব স্বকীয়তা যেটা তুলে ধরেছেন সেটা পুরোনো……..পাঠকরা চায় লেখায় একটু হলেও নতুনত্ব থাকবে।

দৃশ্যের অন্তরালে দৃশ্যহাট
কবির য়াহমদ ভাষার দক্ষকতা আর শব্দ বিন্যাস দিয়েই গল্প লেখেন। এই বইয়ে তিনি লিখেছেন তেমনি একটা গল্প। যদিও গল্পের নামে কিছুই আন্দাজ করা যায়না গল্পটা কি হতে পারে।
বিষয়বস্তু প্রেম হলেও এই প্রেমটা অপরিনিত এক প্রেম তার মানে এই নয় যে এটা একতরফা ভালোবাসার গল্প। গল্পের মূল চরিত্রে আছে হাসান মিয়া যিনি গল্পের নায়িকা অদিতির জন্য অনেক কিছু করেন প্রেম পাবার জন্য সকল আবদার রক্ষা করেন। তিনি আবার কবিতাও লিখেন কিন্তু গল্পে আমরা দেখতে পাই যিনি গল্পটা বলে চলেছেন তিনিও অদিতিকে ভালবাসেন তার সুন্দর অবয়ব তাকে কাছে টানে। এভাবেই শেষ হয় গল্পটা।

উপস্থাপনা সুন্দর হলেও গল্পের শুরুতে যে সকল চরিত্র ছিল শেষে সেসব চরিত্র সবকটা আর থাকেনি। বলা যায় এটা এই গল্পের পূর্নতার জন্যই। তবে পাঠক হয়তো চায় গল্পটা আরেকটু বিস্তৃত হোক শেষ পর্যন্ত যেন গল্পটা গল্প হয়ে থাকে যেন আফসোস করতে না হয়।

নিতুনের দিন
অষ্টম গল্পটা লিখেছেন আফরোজা হক। উনি খুব গুছিয়ে গল্প লিখতে পারেন। আর গল্প মানেই গোছানো ছিমছাম একটা শব্দ সাগর।
বারো বছরের নিতুন ঘুমের মাঝে স্বপ্নে চলে যায় পৃথীবির সুন্দর সবুজাভ এক স্থানে। যেখানে প্রকৃতি কথা বলে, পাখি কিচির মিচির করে। যেখানে সবুজের সমারোহ। এমনি আরো অনেরক স্বপ্নময় দৃশ্য ভাসে ওর চোখে সর্বশেষ দেখা হয় সন্ধ্যা প্রদীপ সেজুতির সাথে।
শেষ পর্যন্ত কথাচ্ছলে মধুগাছের মধু খেতে গিয়েই নিতুনের ঘুম ভেঙ্গে যায়, ছোট ভাইয়ের পানি থেরাপির কল্যানে। ঘুম ভেঙেই সেজুতির অভাব সে ভীষণ ভাবে অনুভব করে।
গল্পটা শিশুতোষ গল্প।

স্বপ্নের সেই তুমি
মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী লিখেছেন একটি অসমাপ্ত প্রেমের গল্প।
স্বপ্ন দিয়েই যে গল্পের শুরু। স্বপ্নের নায়িকা অপ্সরীকে কাছে পাবার বাসনায় মত্ত গল্পের নায়ক মাহমুদ। রোজ ট্রেন যাত্রায় তহার পথের আঙ্গিনায় এক জোড়া চোখ তাকে ফলো করে প্রতিদিন কোন ভ্রক্ষেপ থাকেনা। মাহমুদ সেই স্বপ্নের অপ্সরীর কথাই ভেবে চলে। স্বপ্ন তার চোখ ভেজায়।
এই গল্পের দ্বীতিয় নায়িকা ঐশ্বর্য ভীন জাতের মেয়ে হয়েও দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভালোবাসে মাহমুদকে কিন্তু মাহমুদ সেই প্রেমকে আগ্রাহ করে। একদিন ঐশ্বর্যের চোখের পানি আর বৃষ্টির পানিকে একত্রিত করে বিদায় দেয় তাকে। সে শুধু অপ্সরীকেই চায়। স্বার্থক ভালবাসা খুজেই গল্প শেষ হয়।

গল্পের বুনন ভালো লাগলেও কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে কমন ডায়লগ। কিছু নতুনত্ব থাকলে গল্প আরো ভালো লাগতো মনে হলো লেখক কার্পন্য করেছেন।

জীবন
তাশনিম মাহমুদের লেখা এই গল্পটি অন্যরকম একটি গল্প।
মা ও ছেলের গল্প। লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে হারাবার শোকে জর্জরিত মায়ের মুখের আকুতি আর মৃত্যু পথযাতীে সোহানের ভয়ভীতি এই হলো গল্পের মূল বিষয়। গল্পটা সাবলীর ভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।
গল্পের মাঝখানে দেখতে পাই সোহানের দ্বীতিয় স্বত্তা আয়নাধারী হয়ে তার মৃত্যু থেকে বাচঁবার উপায় বাতলে দেয়। কিন্তু সেই উপায় মেটাতে গিয়ে সে ব্যার্থ হয়।
শেষ পর্যন্ত ওর মা আত্নহত্যা করে সোহানের জীবন বাঁচায়। যদিও গল্পটার বিষয়বস্তুর সাথে মৃত্যু ফেরানোর ব্যাপারটা কাল্পনিক, তবে লেখক তার লেখনিতে সেটা ভালোভাবেই শেষ করতে পেরেছেন।

ভুল মানুষের খোজে
সহজ ভাললাগা একটি গল্প। লিখেছেন জেড.এইচ.সৈকত।
ভালোলাগা আর ভালোবাসার গল্প এটা। পাঠককে পুরো স্তম্ভিত করে দেওয়া একটা গল্প। গল্পটা যে এতো অল্পতেই শেষ হয়ে যাবে সেটা শুরুতে বোঝার উপায় নেই। রচনাশৈলী মনে রাখবার মতোই।

অরন্য গল্পের নায়ক। ছবি তোলা যার শখ। এক এক্সিবিশনে দেখা হয়ে যায় চকিত্ হরিনী তরুনীর সাথে। সুন্দরের ভালোলাগায় বেশ কয়েকটা ছবিও তুলে নেয়। কিন্তু সেই তরুনীর নাম-ধাম তার জানা হয়না। শুধু নিজের ফোন নাম্বারটাই দিয়ে আসে। ছবি প্রিন্ট করবার পর অধীর আগ্রহে তার দিন কাটে মনে মনে তাকে সে ভালোবেসে ফেলে। এভাবেই দিন কাটে সময় যায়। গল্পের শেষান্তে এসে দেখতে পাই সমার্বতন অনুষ্ঠানে অরন্যর প্রিয় শিক্ষক তার স্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় আর সদ্য পরিচিত হওয়া সেই মুখটির পানে তাকিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় অরন্য। এই তো সেই মুখ!!!!!

প্রিয় নকশী কাথা

অনেকদিন আগে খুব সম্ভবত ৯০ সালের দিকে আমরা তখন ভাড়া বাড়িতে থাকি সে, বাড়ির বুড়ো মতিন মিয়া বড্ড আনমনা মানুষ ছিলেন। তিনি প্রায়ই একটা গান শুনতেন খুব সম্ভবত রবি বর্মনের গান। গানটি ছিল মনে পড়ে রুবী রায় কবিতায় কত কর তোমাকে ডেকেছি………. তার এই এক গান প্রতিদিন শুনতে শুনতে আমরা অতিষ্ট হয়ে গিয়েছিলাম সেই সুবাদেই তাকে প্রশ্ন করে জানতে পারি তার ভালোবাসাটা অন্যের কাছে চলে গেছে তার যত্নে গড়া গাছে আজ অন্য কেউ পানি দেয়। সেই প্রথম আমি বিরহ কাকে বলে জানলাম।

আরিফ ভূঈয়ার লেখা প্রিয় নকশী কাথা গল্পটি মুলত বর্তমান সময়ের প্রেম বদলের চিত্র। প্রেম যেন এক প্রজাপ্রতি যে হাতে যায় সেই হয়ে যায় মোতি। গল্পের মূল চরিত্রে আছে মিলা নামধারী জৈনিক প্রেমিকা। পোষাক পাল্টানোর মতোই যার প্রেমিকা পাল্টাতে হয়। সুমিন কে দিয়ে তার প্রেম শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত সেটা আর থাকেনা অন্য আরেক জনের সাথে শেষ হয়।
লেখক গল্পটাকে তাড়িয়ে নিয়ে গেছেন, থামার লক্ষণ কম ছিলো। গল্পের নাম নকশীকাথা হলেও নকশীকাথাটা পাওয়া গেছে সামন্য ভাবে। বর্তমান সময়ের প্রেমের গল্প এটা। কারো জন্য হাহাকার করে পুরোনো প্রেমের কাছে ফিরে আসাটা আজকাল আর হয়না। এটাই লেখক বুঝাতে চেয়েছেন।

আমার ভালোবাসা

তুমি- তুমি আর তুমিতে বিদ্যমান যে গল্পটা, সেই গল্পটাই লিখেছেন ফারহানা নুসরাত। গল্পটা স্বপ্ন দিয়েই শুরু তারপর এক এক করে গল্পের মূল বিষয়ের অনুভূতি গুলো ছড়িয়েছে। আকুতি স্পষ্ট ! কিন্তু অনুভূতিটা একার।
লেখায় রবীন্দ্রনাথের “প্রহর শেষের………………..” দু’লাইন পড়ে মনে পড়ে গেল নিমাইদার মেমসাহেবে কথা। ওব্বইতে এমনি করেই বলা হয়েছিলো। গল্পের কিছু কিছু জায়গায় বিন্যাস ভালো লেগেছে। কিছু জায়গায় খাপছাড়া মনে হলো।
তবে লেখাটা কিছু পাঠক নিজে মনের অনুভূতির সাথ মিশিয়ে ফেলতে পারেন।

দুরের আকাশ

এই বইয়ের ১৪তম গল্পটা লিখেছেন শামীম আরা চৌধুরী।
পাগলা বাবুলকে নিয়ে তার মার আকুলতা। গল্পে কিছু কিছু অংমের নির্মন অত্যান্ত সুন্দর হলেও কিছু কিছু অংশ সহজাত নয় যেমন জাহানারা বেগমের স্বামীর অর্ন্তধান এর বিষয়টা।
দুরন্ত একরোখা বাবুল পানিতে ডুবে মারা যায়। ছেলের স্মৃতি মনে করে জাহানার বেগমের আকুতিটা দুর্দান্ত মূল বিষয়বস্তু থেকে গল্পটা হারিয়ে যায়নি।
আর দশটা সাধারণ গল্পের মতই গল্পের ধরণ।

তিতি

সর্বশেষ গল্পটা লিখেছেন পদ্ম
মানুষ পাখির গল্প। অনেকটা রুপক গল্পের মতো। পৃথীবির সুন্দর সব প্রানীকুল কে কিছু মানুষ অকারনেই হজম করে ফেলতে চায়।
তিতি, পিও আর ধলা নামক ধনেশ পাখির জবিন চিত্রই এ গল্পের চিত্রপট। মানুষ সুন্দর এই ধনেশ পাখিকে কিভাবে নিজেদের কব্জায় হত্যা করে সেই চিত্রই সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।

পরিশেষে
ছোট গল্পের সংজ্ঞা কি হবে? এই নিয়ে অনেক বির্তক আছে তাই সেইসব নিয়ে আমি ভাবিনা। আমি পড়তে ভালোবাসি গল্প তাই সব রকম গল্পই পড়ি। ভালোর তো শেষ নেই; তাই গল্প কেমন হলো সেটা পাঠকরাই বলতে পারবে। যদি পাঠক প্রিয়তার জন্য কেউ গল্প লিখতে চায়? তাহলে আমি মনে করি গল্পে সহজভাবে মূল বিষয়টা উপস্থাপন করতে হবে আর গল্পে একটা আকর্ষন রাখতে হবে। গল্পে জড়ানো বাক্যের আধিক্য বেশি থাকলে পাঠক পড়তে অনাগ্রহী হয়ে পড়ে…….ভালো লেখা লিখুন সেটা বলছি না কেননা প্রত্যেকরই লেখা যথেষ্ট সুন্দর তাই লক্ষ্য রাখুন পাঠক কেমন গল্প চায়।