ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

গত বছর কালিংম্পং ডেলো হিলে প্যারাগ্লাইডিং করার সময় নীচে তাকিয়ে সিকিমের ঝলক দেখে গ্যাংটকে যাওয়ার তীব্র বাসনা হয়। ভারত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য সিকিম ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় সিকিম এখন ভ্রমণ পিপাসুদের পছন্দের গন্তব্য।

দুই দেশের ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও সীমান্ত রক্ষীদের রীতি শেষে যাত্রা করলাম শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে। ওপার বাংলার মাঠ-ঘাট, ফসলী জমি, চা বাগান, জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি ইত্যাদি পার করে ভর দুপুরে পৌঁছে গেলাম শিলিগুড়ি বাসস্ট্যান্ডে।

সিকিম ভ্রমণে সঙ্গীদের অধিকাংশই ছিল বাংলাদেশি। আমরা শিলিগুড়ি বাসষ্ট্যান্ড থেকে জিপে যাত্রা করলাম গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে।

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে উপরে উঠতে থাকা শিলিগুড়ি – গ্যাংটকের এই পথটিই অসম্ভব সুন্দর। পথের শুরু শিলিগুড়ি-শেভক রোডের করনেশন ব্রিজ থেকে। কালিঘাট, তিস্তা বাজার, তিস্তা ব্রিজ, মেল্লিকে পেছনে ফেলে আমাদের গাড়ি চলতে থাকলো উপরের দিকে।

তিস্তা বাজার এলাকায় রিভার র‌্যাফটিং করার ব্যবস্থা আছে। পাহাড়ের এক পাশে আঁকাবাঁকা রাস্তা, অন্য পাশে বহমান তিস্তা। সবুজ পাহাড়ের সঙ্গে চলতে থাকা মেঘের লুকোচুরি মধ্যেই চোখ জুড়িয়ে দেবে তিস্তার জলস্রোত।

হিমালয়ের এই অঞ্চলের ছোট ছোট গ্রামগুলিতে বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের লোকের বসবাস। তাই ভাষা-খাদ্য ও সংস্কৃতির বৈচিত্র রয়েছে এখানে।

মধ্যাহ্ন ভোজ মেল্লিতে এসে সেরে নিলাম। তারপর  ভ্রমণ শুরু আবারো।

গভীর বনভূমি অঞ্চলে রাস্তার উপর বণ্যপ্রানীর আসা-যাওয়ার মধ্যে বিকাল গড়িয়ে তখন গোধূলী বেলা। পাহাড়ি পথে গাড়ির হেড লাইটে জ্বালিয়ে এগুতো এগুতো  মনের ভেতর দারুণ অনুভর। সঙ্গে বাড়তি প্রাপ্তি ছিল বাসু চ্যাটার্জীর হঠাৎ বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ভেজা আঁকাবাঁকা উপরে ওঠার পাহাড়ি পথের এই রোমাঞ্চকর যাত্রা বাকি ভ্রমণকারীরাও নিশ্চুপ হয়ে উপভোগ করছে।

সারা পথে ড্রাইভার মাত্র দুবার হর্ন বাজিয়েছে।

গ্যাংটক যত কাছে চলে আসছে ততই বাড়ছে পাহাড়ের বিশালতা। সেই সঙ্গে বাড়ছে পাহাড়ের কোলে লোকালয়ের সংখ্যা। পাহাড়ের জনবসতিগুলো দেখলে মনে হয় এ যেন শিল্পির তুলিতে আঁকা কোনো ছবি।

নেপালি ড্রাইভার প্রসূন বললো,  “সামনে রংপু চেক পোস্ট।”

রংপুই হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের শেষ সীমানা এবং গ্যাংটকের শুরু। আমাদের পাসপোর্টগুলো এখান থেকে  দেখিয়ে নিতে হবে। রংপুতে পার্সপোর্ট এন্ট্রি করে ঘন্টা খানেক চলার পর  স্বপ্নের গ্যাংটকে হাজির হলাম সবাই।

এমজি মার্গ থেকে তিন-চার মিনিটের হাঁটা পথ। আপার ডেভেলপমেন্ট এরিয়াতে হোটেল বুক করা ছিল। আমরা সিকিম জিপ স্ট্যান্ড থেকে ট্যাক্সি নিয়ে সোজা চলে যাই হোটেলে।

হোটেলে পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় রাত দশটা। ততক্ষণে গ্যাংটকের রাস্তায় লোকজন কমে আসছে।

আমরা হোটেল ম্যানেজারকে কাগজপত্র দিলাম অনুমতি নিয়ে রাখার জন্য। পরেরদিন আমরা যেতে চাই লাচুং – ইয়ামথাং ভ্যালিতে।

মন্তব্য ২ পঠিত