ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

ইদানিং IPO শেয়ারের এনআরবি কোটায় আবেদনের ক্ষেত্রে UAE-Exchange এর ডিডি এর ব্যাবহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এক শ্রেনীর দালাল চক্রের সহায়তায় বাজার সয়লাব হয়ে গেছে UAE-Exchange এর এসব ডিডিতে। রাস্তাঘাটে খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে এই সকল ডিডি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমন কিছু তথ্য যা শুনে স্তম্ভিত না হয়ে উপায় নেই।

যখনই কোন IPO বাজারে আসে তখনই সক্রিয় উঠে মাফিয়া চক্র। দুবাইস্থ’ UAE-Exchang Centre LLC, Satwa Br হতে হাজার হাজার Draft (DD) নিয়ে বাংলাদেশে অবতরন করে। এবারের ডিডিগুলো ইস্যু করা হয়েছে Information Technology Consultant Ltd. (ITCL) এর নামে। প্রতিটি ডিডি বিক্রি হচ্ছে ইউএসডি ১২৯.৩৮*৭৮= ১০,১০০/-+কমিশন৭০০/৮০০=১০,৯০০/- টাকা থেকে ১১,০০০/- টাকা দরে। আর এক শ্রেনীর দালাল চক্রের সহায়তায় হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ। কমিশনের ভাগ পায় এ দেশীয় দালাল চক্র যারা এগুলো বিপননের কাজে ব্যস্ত। ডিডি গুলো ইসলামী ব্যাংক লোকাল অফিসের উপর প্রদেয়। উল্লেখ্য যে অধিকাংশ ডিডি এর রেমিটার হান্নান ভুঁইয়া নামক জনৈক প্রবাসী। কে এই হান্নান ভুঁইয়া? কিই-বা তার আয়ের উৎস?

উদ্বেগের বিষয় হলো যে, সাধারন বিনিয়োগকারীরা যদি ভুঁয়া অথবা জাল ডিডি কিনে প্রতারিত হয় এর দায়ভার কে নেবে? UAE-Exchange ঢাকা অফিস? নাকি ইসলামী ব্যাংক লোকাল অফিস? বাংলাদেশ ব্যাংক? নাকি সরকার? কারন এগুলো Issuer হতে সরাসরি প্রাপ্ত নয় তাই এগুলোর Authenticity নিরুপনও সম্ভব নয়। এমন অপ্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোতেও ডিডি কিনে কেউ যদি প্রতারিত হয় তার দায় নেবে কে? সাধারন বিনিয়োগকারীরা কোথায় পাবে সেই হান্নান ভুঁইয়া নামের মাফিয়া ডনকে?

বিভিন্ন ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায এবার FC একাউন্টের বিপরীতে আইপিও শেয়ারের জন্য ব্যাংকগুলোতেও ডিডি’র চাহিদা নেই বললেই চলে? সবাই ছুটছে দুবাই এর খোলা বাজারের ডিডি’র দিকে ? ফলে একদিকে ব্যাংকগুলো যেমন তাদের প্রাপ্য কমিশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে Terrorist Financing ঝুঁকিও । প্রচলিত নিয়ম বা প্রথা হল Foreign Currency (FC) হিসাবটি যে ব্যাংকে খোলা হয়েছে, সেই ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ডিডি-ই আইপিও এর আবেদনের বিপরীতে জমা দিত হবে। এতে করে একদিকে যেমন Foreign Remittance আসতো FC একাউন্ট গুলোতে সঠিক ব্যাংকিং Channel এর মাধ্যমে অন্যদিকে ব্যাংক গুলোর জন্য সহজতর হয় Foreign Currency হিসাবের মনিটর করা। যেই কারনে অন্য ব্যাংক থেকে ইস্যুকৃত ডিডি দিয়ে আবেদন করে KDS এর IPO ইস্যুতে সেগুলোকে গ্রহনযোগ্য করেনি নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থা। তবে কেন UAE-Exchang এর ডিডি’র এত কদর, যা ব্যবহার করা চলে যে কোন ব্যাংকের হিসাবের বিপরীতে। KDS Accessories এর IPO ইস্যুতে SEC প্রথমে UAE-Exchang এর DD গ্রহনযোগ্য হবে না মর্মে প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে তা নিয়ে আর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। বরং একদিন সময় বাড়িয়ে UAE-Exchang এর DD দিয়ে আবেদনের সুযোগ করে দেয়।

জঙ্গি অর্থায়নের কিংবা সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নে ঝুঁকিপূর্ন দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম শীর্ষে-আমরা সকলেই তা জানি। জঙ্গিবাদের তৎপরতা বিগত দিনগুলোতে সাংঘাতিক ভাবে বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক Money Laundering & Terrorist Financing রোধে আলোচনার টেবিল তোলপাড় করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো CAMLCO, BAMLCO মনোনীত করে অতি তৎপর থাকে CTR, STR, KYC, CDD ইত্যাদি বিষয় নিয়ে। BFIU সাকুর্লার নং ০২,০৭,১০, সবগুলোতেই অধিক গুরুত্ব পায় সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের বিষয়টি ।FC হিসাবটি যে ব্যাংকের শাখায় খোলা হয়েছে সেই ব্যাংক তার গ্রাহক পরিচিতি (KYC), লেনদেন মনিটরিং, সন্দেহজনক লেনদেন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে থাকে।FC একাউন্ট টাচ্ না করেই যদি Remittance বিনিয়োগে চলে যায় কিংবা ব্যাংক শাখা যদি অবগতই না হয় যে কোন FC একাউন্টের বিপরীতে কি পরিমান Remittance এসেছে? কোথা থেকে আসছে? কে পঠিয়েছে? ইত্যাদি ইত্যাদি, তবে ব্যাংকগুলোর এখানে দায় দায়িত্বইবা কী?

বাংলাদেশ ব্যাংক এর উদার বৈদেশিক মুদ্রানীতির সুযোগে বেড়ে চলেছে জঙ্গি অর্থায়ন কিংবা Terrorist Financing এর ঝঁকি। CDBL, SEC এদের কারো মাথা ব্যথা নাই এতদ বিষয়ে । ধরুন ব্যাপারটা যদি এমন হয় যে, কোন জঙ্গিগোষ্ঠী দ্বারা দুবাই হতে কতিপয় হান্নান ভুইয়াদের ব্যবহার করে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতায় অর্থযোগান দিতে এই DD গুলো পাঠানো হয়ে থাকে। তার অর্থ দাড়ালো ১০,০০০ DD তে প্রাপ্ত ১০.৫০ কোটি টাকা জঙ্গি অর্থায়নের জন্য Hard Cash রেডি। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এখনই সোচ্চার না হয়, আমরা কিভাবে রোধ করবো Money Laundering & Terrorist Financing এর মত মারাত্মক হুমকি?