ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

৩০.০৫.২০১০
বরাবর
মহাব্যবস্থাপক
ছারপোকা উন্নয়ন অধিদপ্তরনীলক্ষেত, ঢাকা-১০০০।

বিষয় : রক্ত-চুক্তির জন্য আবেদন।

জনাব,

নিবেদন এই যে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের একজন আবাসিক ছাত্র। আমি বিগত ৪ বছর যাবৎ আপনার হলের ১০৯ নম্বর রুমের (গ) নম্বর বিছানায় ঘুমাই। আমি যতদুর জানতে পেরেছি : এই হলে ছারপোকার মধ্যে যে গুলো বিবাদমান পক্ষ আছে তার মধ্যে আপনার পক্ষটি সবচেয়ে শক্তিশালী। আমরা আপনার সৈন্যদের আক্রমনের জন্য রাতে ঘুমাতে পারেনা। এছাড়া আমারা হলে যে মানের খাবার খাই তা থেকে আপনারা যদি আমদের রক্ত পান করেন তাহলে অপুষ্টির শিকার হয়ে আমরা খুব দ্রুতই অক্কা পাব। এদিকে নিচ থেকে আপনাদের ভালোবাসার স্পর্শ আর উপর থেকে মশা মামাদের ঘুমভাঙ্গনি গানে আমরা অতিষ্ট। মশা তাদের সর্ব শক্তি দিয়ে আমাদের উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায় আর আপনারা এমন করে নিচে থেকে আমাদের আঁকড়ে থাকেন । এই দুয়ের মাঝখানে আমাদের অবস্থা যে কী হয় তা নিশ্চয় আপনার উন্নত মস্তিষ্কে খুব ভালোভাবেই ঢুকেছে। তাই এব্যাপারে আমরা রুমবাসী আপনার কাছে একটি রক্ত চুক্তির আবেদন জানচ্ছি।

চুক্তির শর্ত নিম্নরূপ :
১. আমাদের শরীর থেকে চুষে চুষে রক্ত পান করতে নিশ্চয় আপনাদের কষ্ট হয় । তার উপর এটি অনেক সময় আপনাদের মৃত্যুরও কারণ হয়। তাই আমরা যদি প্রতি মাসে এক ব্যাগ করে আপনাদের ভাণ্ডারে জমা দেই তাহলে তা উভয় পক্ষের জন্যই কল্যান বয়ে নিয়ে আসাবে।
২. হলে মাঝে মাঝে আপনাদের অত্যাচারে আমারা ঘুমাতে পারি না। এতে প্রায়ই আমাদের সকাল আটাটার ক্লাস করা সম্ভব হয় না । এতে বছর শেষে আমাদের জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে হয়। তাই আপনারা যদি আপনাদের কামড়ানোর সময়ে পরিবর্তন এনে রাত ১১ টার মধ্যে সব রকমের কামড়া কামড়ি শেষ করে ফেলেন তাহলে আমরা বড়ই কৃতার্থ হব।
৩. আপনারা মাঝে মধ্যেই আমাদের প্রেমিকাদের সামনে বাইরে বের হয়ে এসে আমাদের জামাকাপড়ের উপর দিয়ে রাজকীয় ভঙ্গিতে হাঁটাহাঁটি করেন। এটা আমাদেরকে বড়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেয়। তাই আপনাদের কাছে আমাদের বিনীত আর্জি : আপনারা আমাদের ঘরের মানুষ দয়া করে তাদের সামনে দিনের আলো দেখার ইচ্ছা পোষণ করবেন না।

অতএব ,এমতবস্থায় আমাদের এই নিবেদন অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বিবেচনা করে আমাদের শর্ত গুলো মেনে নিয়ে এবং মনে নিয়ে আমাদের বাধিত করবেন। নিবেদক আশিকুর শ্রাবণ ১০৯ নম্বর রুমের ভুক্তভোগীদের পক্ষে…