ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমাদের মাননীয় অর্থ মন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন যে এদেশের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডের পিছনে ডঃ ইউনুস ই একমাত্র সমস্যা। অর্থাৎ কোণ উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড করতে গেলে ডঃ ইউনুস তাঁর পিছনে বাঁধা হয়ে দাড়ায়। এর আগেও তিনি অনেক অমিয় বানী জাতিকে শুনিয়েছেন। তাঁর অনেক কথাই এখন মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু তাঁর এই সর্ব শেষ উক্তিটি কেন যেন বেসুরা লাগছে। মনের মাঝে নানান ধরনের প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। উনি কি সত্যি কথাই বলছেন নাকি উদর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। কিছুতেই মেলাতে পারছিনা যে একটা দেশ ও একটা সরকারের চেয়ে একজন মানুষ অধিক শক্তিশালী হয় কি করে! আমেরিকার মতো উন্নত দেশ সমুহ ও তাঁর কথায় উঠে বসে! এমন হওয়াটা কি সত্যিই বাস্তব সম্মত? তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম হ্যাঁ আমাদের নোবেল বিজয়ী ইউনুস এতটাই শক্তিশালী। তাহলে তো সরকারের উচিৎ ছিল এই রকমের একজন মানুষকে সরকারের পক্ষে রাখা। তাঁর ইমেজ কে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে তাকে ব্যাবহার করা। কিন্তু তা না করে তাকে খেপিয়ে আজ আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধুহীন। দেশের উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়েছে।

আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী! আমরা সবাই জানি যে তিনি হল মার্ক কেলেঙ্কারির সাড়ে চার হাজার কোটি টাকাকে কোণ টাকাই মনে করেন না। শেয়ার বাজার সম্পর্কে যার কোণ ধারনাই নাই, মন্ত্রী সভা থেকে যিনি পালিয়ে যেতে চান। তাঁর নেয়া প্রতিটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ভুল প্রমানিত হয়েছে- তাঁর মতো অপদার্থ অর্থ মন্ত্রী যদি দেশের সকল উন্নয়ন মূলক কর্ম কাণ্ডের জন্য একজন মাত্র ব্যাক্তিকে দায়ী করেন তাহলে আমরা তাহা কি করে বিশ্বাস করব। কাজেই একথা দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে নিজের সকল ব্যর্থতা অন্যের উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে কলুষ মুক্ত প্রমান করার শেষ চেষ্টা টুকু করে যাচ্ছেন। কিন্তু মানুষ কি এতই বোকা যে কিছুই বুঝেনা?

অর্থমন্ত্রীর কথা বাদ দিলাম যদি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কথায় আসি তাহলে কি চিত্র আমরা দেখতে পাই। একথা সবার ই জানা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সাধারন একটু ঠুনকো অজুহাত পেলেই বিদেশ ভ্রমনে চলে যান। যেখানে সচিব গেলেই কাজ হয় সেখানেও তিনি, যেখানে রাষ্ট্র দূত দিয়েই কাজ চালান যায় সেখানেও তিনি। তাঁর পরেও যদি দেশের কাজ হত। তা কিন্তু হয়নি। তাঁর এসকল বিদেশ ভ্রমন কেবলই প্রমোদ ভ্রমনে পরিনত হয়েছে। তাঁর অপরিপক্ক পররাষ্ট্র নীতির কারনে বাংলাদেশ আজ একা। এদেশের পক্ষে কেউ নেই। ইসলাম বিদ্বেষের কারনে ইসলামী দুনিয়া আজ বাংলাদেশ কে ত্যাগ করেছে আর ডঃ ইউনুসের কারনে আমেরিকার মতো দেশ আমাদের ত্যাগ করেছে। সরকারের ভেতরকার দুর্বলতা টের পেয়ে সর্বশেষ পরীক্ষিত বন্ধু ভারত ও আওয়ামী লিগকে ত্যাগ করেছে। দেশে আজ কোণ বৈদেশিক বিনিয়োগ নেই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কথা আমাকে না বললেও চলে। এই মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বদল হয়েছে কিন্তু অবস্থার কোণ উন্নতি হয়নি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখল, লুটতরাজ, ছিনতাই, গুম, খুন সহ এমন কোণ অন্যায় নেই যাহা এই আমলে ঘটছে না। এসব অন্যায় যেন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। যে যত বড় খুনি সে তত বড় নেতা। একমাত্র বিরোধী দলের লোকদের ঠেঙ্গানো ছাড়া এদেশের পুলিশ ও র্যাবব বাহিনীর আর কোণ কাজ নেই। তাইতো রাজ পথে দেখা যাচ্ছে পুলিশের কাধে কাঁধ মিলিয়ে অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে আক্রমন করছে সরকারের দলীয় ক্যাডাররা। সবচে সস্তা আজ মানুষের জীবন। কাউকে খুন ও গুম করে ফেলাটা আজকে এক গ্লাস পানি পান করার মতো সহজ ব্যাপার। ঘর থেকে বের হয়ে খুন ও গুম না হয়ে পুনরায় ঘরে ফিরতে পারাটা আজ সবচেয়ে বড় ভাগ্যের ব্যাপার।

শিক্ষা খাত আজকে সবচেয়ে অস্থির খাত। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, সন্ত্রাসের কারনে শিক্ষাঙ্গন দিনের পর দিন বন্ধ থাকা, দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ, প্রতি পক্ষ দলের ছাত্রদের হল থেকে বের করে দেয়া, শিক্ষাঙ্গনের উন্নয়ন কাজের টেন্ডার ছিনতাই- এসব এখন ছাত্র লীগের রুটিন ওয়ার্ক। শিক্ষার মান আজ বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাসে সর্ব নিন্ম পর্যায়ে বিরাজ করছে।
কালো বিড়ালের কথা না হয় বাদই দিলাম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দুর্নীতির কথা না হয় উল্লেখ না করলাম, সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রীর কম খাওয়ার কথা না হয় কমই বললাম, শিল্প মন্ত্রীর শৈল্পিক কথা না হয় ছেড়েই দিলাম- কিন্তু একথা কি আর না বলে পারা যায় যে দুই আবুলের জন্য আমাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ স্বপ্নই রয়ে গেল? অথর্ব অর্থ মন্ত্রীর অযোগ্যতার কারনে শেয়ার মার্কেটে সর্বস্ব হারিয়ে লাখ লাখ মানুষ আজ পথে বসেছে? হল মার্ক কেলেঙ্কারির কারনে দেশের শিল্প কারখানা আজ পঙ্গু হতে চলেছে?

একথা বলাটা কি অতি কথন যে প্রধান মন্ত্রীর বাচালতা, অন্যান্য মন্ত্রীদের দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য আজ দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে? তাইতো দেশের মানুষ আজ শুধু ভাবছেই না বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে অন্য কোণ ব্যাক্তি, গোষ্ঠী, বা দল নয় আওয়ামী লীগ নামক দলটি ই এদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এক নম্বর বাঁধা।