ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

গত কয়েকদিন আগের কথা। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের এক ছাত্র খুন হলো তারই একজন সহপাঠীর হাতে। কেন খুন হল? কারণ খুঁজতে গিয়ে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্যের মুখোমুখি হতে হয়। এর পেছনে উঠে আসে ছাত্রলীগের অন্তঃকোন্দল, গ্রুপিং এবং আরো অশুভ সব ভয়ঙ্কর তথ্য।

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র আদনান ইসফার (১৫)। মঙ্গলবার বিকালে নগরীর জামালখান আইডিয়াল স্কুলের সামনে ছাত্রলীগের অপরপক্ষের ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হন আদনান ইসফার

Adnan-Asfer

যদিও অনুমোদনহীন তাই কোন পদ না থাকলেও, ছাত্রলীগ অনুগামী তার ব্যাপক সংখ্যক অনুসারী রয়েছে। যারা বেশ দোর্দণ্ডপ্রতাপে ক্ষমতার ব্যবহার আর অপব্যবহার দুই-ই করছে। শোনা যায়, বিভিন্ন কলেজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের তথাকথিত বড়ভাইদের ছত্রছায়ায় তারা এই ধরনের কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছে। অদ্ভূত শুনায় না ব্যাপারটা? স্কুলের কিছু ছেলে মারামারি খুনোখুনি করছে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্যে। এর আগে সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের নবম শ্রেণির ছাত্র নাকি শিক্ষককে মেরেছে! এমন অভাবনীয় ঘটনার কেনই-বা জন্ম হচ্ছে?

ছাত্রলীগ কি ছাত্রশিবিরকে অনুসরণ করতে গিয়ে তার ঐতিহ্যকেই ধুলিস্যাৎ করে দিচ্ছে? এসব প্রশ্ন করতে করতে অভিযোগের খাতা ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু অরাজকতা থেমে নেই। যেই রাজনীতি ভার্সিটিগুলোকে অচল করে দিচ্ছে, সেই রাজনীতির আমদানী যদি স্কুল পর্যায়ে শুরু করতে হয় তাহলে বোঝাই যায়, যত বড় চেহারা, তত না গভীর না দলীয় ভিত্তি। ছাত্রশিবিরকে প্রশমন করতে গিয়ে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে গোড়া থেকে পঁচন ধরিয়ে দেয়া- না পড়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশের রূপকল্পের সাথে, না যায় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সাথে। বাংলাদেশে আদর্শ থেকে অণুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি করছে এমন শিক্ষার্থী কয়জন সেটার হিসেব নাইবা করলাম।

কিন্তু হলের সীট পেতে হবে তাই এই দলে নাম লিখিয়েছি- এই ধরনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অগণিত। শুরুতেই সে রাজনীতিতে ঢুকছে একটা ফায়দা লুটার জন্যে না হয় বাধ্য হয়ে। কারণ গ্রাম থেকে এসেছে, হলে থাকতে হবে। অগত্য কি আর করার, যাক রাজনীতির খাতায় নাম লিখিয়ে আসি, কিছু বেনিফিট তো পাব! এই যে শুরু, সেই থেকে চাঁদাবাজি, মারামারি, খুনোখুনি কোনটাই জড়িয়ে পড়েনি এই নামসর্বস্ব চেতনাধারীরা?

স্কুলে একটা ছাত্রের যখন বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে পড়ালেখা করা, খেলাধূলা করার সময়, যখন সে দুনিয়াকে বুঝতে শিখেনি, তখন তার হাতে তুলে দেওয়া হল স্কুল ছাত্রলীগের কমিটি! তাও যদি তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপ্রসূত হয়ে দলে যোগ দিতো! বরং ক্ষমতাশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেও ক্ষমতাশালী হওয়ার প্রচেষ্টায় বিপথে পা বাড়াচ্ছে টিনএজ বয়সের হিরোইজম, স্টারডমে ভোগা এই বোকা ছেলেগুলো। আমার সন্দেহ হয়, তারা কি ভার্সিটি অবধি পৌঁছাবে, না তার আগেই এভাবে ঝড়ে যাবে? আজকে একটা আদনান ইফসার খুন হল, কালকে আরেকজন হবে। এভাবেই চলতে থাকবে। চট্টগ্রামে কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যে অন্তঃদ্বন্দ্ব পুরো চট্টগ্রামবাসীকেই নাজেহাল করে দিচ্ছে।

অথচ এই দীর্ঘ দিনের সমস্যা স্বত্ত্বেও জাতীয় পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগ এই সমস্যা সমাধান করতে পারেনি। এই সমস্যা যদি স্কুল অবধি পৌঁছে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কি হবে তা ভেবে সংকিত হই। সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে। যাদের হাতে বই পুস্তক থাকার কথা, তারা আজ অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যাদের থাকার কথা জ্ঞানের গরিমা, তারা আজ ক্ষমতার মোহে পথভ্রষ্ট!

স্কুলে রাজনীতির আমদানি কি খুব দরকার ছিল? অফিশিয়াল না, শুধু আনঅফিশিয়াল রাজনীতিও দূর করা দরকার। একটা খারাপ কে প্রতিহত করতে গিয়ে আরেকটি খারাপের জন্ম দেওয়ার কি প্রয়োজন ছিল!