ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

মনসা শব্দটি বিশ্লেষণ করলে অর্থ দাঁড়ায় ‘মনে চিন্তন’। আমাদের মনের মধ্যে বিষ থাকতে পারে, সেই বিষ অবশ্যই মনকে বিষাক্ত করে এবং চিন্তার খোরাক যোগায়। মনকে বিষ মুক্ত অর্থাৎ চিন্তা মুক্ত করতেই মনসা পুজা! মনসা মন্ত্র মনকে ঊর্ধ্বগামী করতে পারে।মন যদি কোনো কারনে বিষক্রিয়ায় জর্জরিত হয় তবে সমগ্র দেহই বিষাক্ত হয়ে যাবে। আর এই অবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্য আর্যঋষিগন মনসা দেবীকে বিষহরী দেবী রুপে দেখিয়েছেন।

সাপের দাঁতে বিষ আছে কিন্তু নিজে যখন খায়, তাতে কোনো বিষ লাগে না। কিন্তু হিংসায় কিংবা আত্মরক্ষার্থে যখন দংশন করে তখন দংশিত স্থানে বিষ ছড়ায়। তাই মনে বিষ হলে হিংসা, ক্রোধ, লোভ এসব দূরীকরনের নিমিত্তে মনসা পূজা করা হয়। অন্যভাবে বললে, আমরা নিজেরা অনেক সময় চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে পারিনা। তবে চিন্তা যাতে নিজের কিংবা অন্যের খারাপের কারন নাহয়, সেই শিক্ষাই দিয়েছে দেবী মনসা।

পাঁঠাবলি প্রথাঃ
ধর্মের নামে এই বিভৎস পশুবলি ও প্রাণিহত্যা প্রথা হিন্দুদের বেদ, উপনিষদ, পুরান, চন্ডি, গীতা বা কোন ধর্ম শাস্ত্রে উল্লেখ নাই এবং কোন ঋষিরাও এর উপেদেশ দেননি। ঈশ্বরকে যদি সন্তুষ্ট করতেই হয় তাহলে ফুল বা মিষ্টি দিয়েও তা করা যায়, পশুর রক্তই নিবেদন করতে হবে এমন তো কোনও কথা নেই। হয়তো শত শত বছর আগে কোনো এক রাজা এই প্রথার চালু করেছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটের কথা চিন্তা করলে মনে হয় এই প্রথা বন্ধের সময় এসেছে।

সেই ছোটবেলার ঘটনা! আমাদের যথারীতি পাঁঠা কিনেছিল আর আমরা সবাই মিলে আনন্দের সহিত তাকে মাঠে নিয়ে ঘাস খাওয়ানো থেকে শুরু করে যত রকমের আনন্দ নেয়া যায় সবই করেছিলাম। কিন্তু যেদিন বলি দেওয়া হবে সেইদিন আর কিছুই করা যায়না, মন খারাপ! সবাই আনন্দ করছে, চারিদিকে উৎসবের আমেজ কিন্তু আমার মাঝে স্বতঃস্ফূর্ততা নেই, বিষণ্ণতা কাজ করছে। এখন মনে হয় যেভাবে শিশু বৃদ্ধ সবার সামনে ঢাক, ঢোল, কাসর বাজিয়ে, আসুরিক উন্মত্বতায় খড়গের এক কোপে ধড় থেকে মাথাটাকে বিচ্ছিন্ন করা হয় সেটা নৃসংশতা ছাড়া আর কিছুই নয়!
চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু অঞ্চলে এই পাঁঠাবলি প্রথা চালু আছে। বাংলাদেশের অন্যান্য বিভাগে এই প্রথা নেই। এমনকি ভারতে আইন প্রয়োগ করে এই প্রথা বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও সেটা সম্ভব! কিছু সামাজিক উদ্বেগ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা পারে এই ধরনের পশুবলিকে সামাজিকভাবে অনুৎসাহিত করতে এবং পশুবলির মতো নিষ্ঠুর ও বর্বর প্রথার অবসান ঘটাতে।