ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

একজন নার্সারি শিক্ষার্থী কি অকৃতকার্য হতে পারে? হ্যাঁ, বাংলাদেশে তাও সম্ভব! আপনাকে ডেকে নিয়ে স্কুল শিক্ষক কিংবা শিক্ষিকা বলতে পারে আপনার ছেলে/মেয়ে পড়ালেখায় অমনোযোগী, খেলাধুলায় মনোযোগী বেশি! অমনোযোগী হিসেবে কারণ দেখিয়েছে পরীক্ষায় ৮০ ভাগ নম্বর না পাওয়া। না ‘বি প্লাস’ পেলে হবে না, ‘এ’ কিংবা ‘এ প্লাস’ পাওয়া লাগে সঠিক ভাবে কৃতকার্য হওয়ার জন্য।

উপরের প্রশ্নটা কাল্পনিক নয়, বাস্তবতা থেকে নেয়া। যে কারণগুলোর জন্য ওই শিক্ষক একজন নার্সারির ছাত্র/ ছাত্রীকে পাসের অযোগ্য মনে করেন, আমার ধারণা সেই কারণগুলোর জন্য তার পাস করা উচিত এবং অবশ্যই উচিত। যদি ফেলও করে থাকে এর সম্পূর্ণ দায়ভার ঐ শিক্ষকের।

শিক্ষা ব্যবস্থা কতটুকু খারাপ হলে একজন নার্সারি শিক্ষার্থীকে এভাবে মূল্যায়ন করা যায়! একজন বাচ্চা শিক্ষার্থীকে কেন মুখস্ত করতে হবে? কেন পরীক্ষা দিতে হবে? কেনই বা তাকে এভাবে মূল্যায়ন করতে হবে? একটা বাচ্চাকে এত প্রেসারে রেখে আমরা তাদের নরমাল মানবিক বিকাশে বাধা দিচ্ছি!

এবার আমাদের প্রিস্কুলিং সিষ্টেমের সাথে বিদেশের একটু তুলনা করি! বিদেশে এক থেকে পাঁচ বয়সী বাচ্চাদের প্রিস্কুলিং সিস্টেম আছে। সেখানে পরীক্ষা নেয়া তো দূরের কথা কখনও কোনো শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্টভাবে বলা হয়না যে তুমি কিংবা তোমার বাচ্চা কোনো কিছুতে খারাপ। ছোটদের যে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকলকেই পুরস্কৃত করা হয়। ওদেরকে ছড়া মুখস্ত করা শেখায় না, ওদের শেখায় লাল বাতিতে রাস্তায় চলাচল করা যায়না, সবুজ বাতি জ্বললেই চলাচল করা যায়।

ওদের দেখায় কিভাবে বীজ থেকে চারাগাছ হয় এবং কিভাবে তাতে ফল হয়। একেবারে প্রাক্টিক্যালি দেখানো হয় কিভাবে ডিম থেকে মুরগির জন্ম হয় এবং তার জন্য কি কি করতে হয়। ওদের দেখানো হয় কোন ডাস্টবিনে কোন ধরনের ময়লা ফেলতে হয়। ওদের শিখানো হয় কিভাবে একসাথে কাজ করতে হয়, কিংবা কিভাবে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়ে যেমন, ঠান্ডার মধ্যে বাইরে নিয়ে যাওয়া।

আমি জানি, আমাদের দেশের বড় বড় শিক্ষাবিদের কিংবা শিক্ষা আইন প্রয়োগকারীদেরও অনেকের এ নিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু কেন উনারা এই সিস্টেম পরিবর্তনের কথা চিন্তা করেন না, তা আমি ভেবে পাইনা। আমার একমাত্র প্রত্যাশা তারা যেন আমাদের কোমল শিশুদের কষ্টটা অনুধাবন করতে পারে।