ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

দেশে প্রতি বৎসর হাজার হাজার মেধাবী ছাত্র- ছাত্রী এইস.এস.সিতে ভালো রেজাল্ট করে পাশ করছে । এদের অধিকাংশরই ইচ্ছে থাকে ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ার । কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক মেধাবী ছাত্র- ছাত্রীদের বিপরীতে সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আছে মাত্র ৪ টি । আর এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আসন সংখ্যা খুবই সীমিত ।বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে যায়, বিগত বছর বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট এবং রুয়েট এ আসন ছিল মাত্র ২ হাজার ৫১১টি। অথচ গতবছর ১০টি র্বোডে এইচএসসি পাস করেছিল প্রায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শুধু জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৮ হাজার ৬৭১ জন। এ বৎসর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বেড়েছে । ফলশ্রুতিতে আসন সংকটরে দরুন বিপুল সংখ্যক মেধাবী ছাত্র- ছাত্রীর সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় । আর প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসারের অভাবে বহি:বিশ্বের সাথে আমাদের দেশও তাল মিলিয়ে অগ্রসর হতে পারছে না। এসবদিক বিবেচনা করে দেশে প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসারের জন্য সরকার প্রতিষ্ঠা করে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ।

শুরুরকথা :
মূল শহর থেকে আনুমানিক ৭কিমি দূরে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে অত্যাধুনিক ডিজাইনের বিশাল বিশাল বেশ কয়েকটি বিল্ডিং নিয়ে ৬.২ একর জায়গায় ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অত্যন্ত আভিজাত্যর্পূণ ও মনোমুগ্ধকর এই ক্যাম্পাস । এ কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের অধিভূক্ত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান । ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ৬০জন ছাত্র- ছাত্রী ভর্তি করানো মাধ্যমে শুরু হয় এই কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম। বর্তমানে এ কলেজে শুধুমাত্র ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু আছে । বর্তমানে কলেজটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এই তিন বিভাগের জন্য তিনটি ডিপার্টমেন্টাল ভবন, ২টি ছাত্রহল, ১টি ছাত্রীহল, শিক্ষকদের আবাসিক ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন ও ১টি লাইব্রেরী ভবন নিয়ে সর্বমোট ১৩টি ভবন রয়েছে । ২টি ছাত্রহল এবং ১টি ছাত্রীহলে প্রায় ৫০০ জন ছাত্র- ছাত্রীর আবাসন সুব্যাবস্থা আছে । ৫ তলাবিশিষ্ট প্রতিটি ডিপার্টমেন্টাল ভবনে রয়েছে অত্যাধুনিক মানের অনেকগুলো ল্যাবরেটরী। ৫ তলাবিশিষ্ট লাইব্রেরী ভবনে রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সভূক্ত শত শত দেশী-বিদেশী বই সম্বলিত ১টি স্টাডি কক্ষ, ১টি সেমিনার কক্ষ, এছাড়াও লাইব্রেরী ভবনে রয়েছে সর্বক্ষণ অনলাইনে পড়াশুনা করার সুবিধা। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাকটিক্যাল ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যে এসে গেছে , ফলশ্রুতিতে আগামী বৎসর থেকে এই ২টি বিভাগ চালু হবার সম্ভাবনা আছে বলে জানা যায় ।বর্তমানে কলেজটিতে শিক্ষক সংকট বিরাজমান । ফলশ্রুতিতে পড়ালেখার মানের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কয়েকজন শিক্ষককে অতিথি শিক্ষক হিসেবে এবং কয়েকজন শিক্ষককে প্রেষণে এখানে আনা হয়েছে । বর্তমানে এখানে মোট ১৭জন শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন । কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড.রতন কুমার নন্দী স্যারের কাছে থেকে জানা গেল, কলেজের যেকোনো সমস্যা নিরসনে এখানকার ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলে মিলে একত্রে আন্তরিক ভাবে কাজ করা হয় । এভাবে নতুন কলেজের অনেক সমস্যার সহজে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে । ছেলে-মেয়েরাও পড়ালেখার ব্যাপারে সচেতন।

বিশেষত্ব:
দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন তথাকথিত নোংরা ছাত্ররাজনীতির করাল গ্রাসে আক্রান্ত তখন ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সেদিক থেকে পুরোপুরি মুক্ত । এ কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বললেন ,’আমরা সকল ছাত্র- ছাত্রী এই কলুষিত ছাত্ররাজনীতির বিরূদ্ধে একত্রিত ’। এ কলেজ পুরোপুরি মাদক এবং ইভটিজিং মুক্ত । এ কলেজের শিক্ষার্থী সংকতে মাহামুদ জানালেন , “এখানে ইভটিজিং করলে কেউ ছাড় পাবে না , ইভটিজারের স্থান এই ক্যাম্পাসে হবে না ”। পাশে দাড়িয়ে থাকা আরিফ এবং শরিফুল ইসলাম সংকতেরে এই উক্তির প্রতি জোরালো সমর্থন জানান ।

ভর্তি প্রক্রিয়া :
এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হতে গেলে ভর্তি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় । এস.এস.সি এবং এইস.এস.সি তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট জিপিএ ৮ (৪র্থ বিষয় বাদে) পেলে এবং এইস এস সি তে গনিত,পদার্থ ও রসায়ন প্রতিটি বিষয়ে পৃথকভাবে জিপিএ ৪ পেলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আবেদন করা যায় । বর্তমানে এ কলেজে শুধুমাত্র ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগ চালু আছে । আগামী শিক্ষাবর্ষে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু হবে বলে জানা যায় বলে জানা যায় । 19-11-2011 ইং তারিখের দৈনিক জনকণ্ঠ পেপারে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে চলতি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে । এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংক্রান্ত যেকোন তথ্য জানতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন নিচের ঠিকানায় :
ফোন : ৮৮-০৯১-৫২১১১ মোবাইল: ০১৯৪৪৪২৬২৮৫
ওয়েবসাইট : http://www.mec.ac.bd
ওয়েবসাইট :http://www.techedu.gov.bd
লিনক: http://www.techedu.gov.bd/admin/Doc/1321687848.pdf