ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

গতকাল ঢাকার শ্যামপুরে রাস্তার পাশে সুয়ারেজে পড়ে নীরব নামে পাঁচ বছরের এক শিশু বুড়িগঙ্গায় ভেসে উঠেছে। নীরব ভেসে উঠেছে চিরতরে নীরব হয়েই। সে আর কোন দিন রাস্তার পাশে খেলবে না। বাবা -মাকে ডাকবেনা। আমরাও আর তাকে মনে রাখবনা তাকে। আমাদের এই ব্যক্তিক জীবনে কী দাম আছে তার? খবর দেখার সময় পড়ার সময় সরকারের দোষারোপ করেই শেষ। কিন্তু আসলেই শেষ?

১. রাস্তার পাশের সুয়ারেজ লাইনের কিছু অংশ ফাঁকা আছে, কয়েকটা ম্যান হোলের ঢাকনা নাই- এটা সরকার বা রাষ্ট্রের জন্য বিশেষ কিছু নয় (এটাই বাস্তবতা, যদিও যৌক্তিক নয়, দায়ও এড়াতে পারে না সরকার)। কিন্তু আমাদের কি দায় নাই বরং আমার ত মনে হয় একজন নীরব মারা গেলে সরকার বা রাষ্ট্রের কিছু এসে যায় না। কিন্তু আমাদের ত সবই যায়।আমার সন্তান পড়ে ব্যথা পেলে আমি কতটা কষ্ট পাই তাতেই বুঝতে পারি নীরবের বাবা-মার কতটা গেল। তাই মনে হয় আমাদেরও দায়িত্ব আছে। নীরব খেলতে খেলতে যে উন্মুক্ত স্যুয়ারেজ লাইনে পড়েছে, তা ত আগে থেকেই (সম্ভবত বর্ষার পানি দ্রুত সরানোর জন্য স্লাব সরানো হয়েছিল) খোলা ছিল। এ রাস্তা দিয়ে শত শত মানুষ যাতায়াত করেছ কেউই সেখানে কয়েকটা বাঁশ বা গাছের ডাল-পালা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে নি। আমরা এতটাই উদাসীন এবং সরকারের উপর নির্ভরশীল।

২. নীরবকে যখন বুড়িগঙ্গায় পাওয়া গেল তখন সে দৃশ্য টিভি চ্যানেলগুলো সরাসরি দেখাচিছল। আমি অবাক হয়ে গেলাম সাংবাদিকগণ নীরবকে হাসপাতালে দ্রুত নেয়ার জন্য সহযোগিতা না করে ছবি তোলার জন্য তাদেরকে দাঁড় করিয়ে ‘ফটোসেশন’ করছে। কেউ ত নীরবের গায়ের পানি মুছে দিল না, গরম কাপড় জড়িয়ে দিল না- সবাই ব্যস্ত ছবি তুলতে (অনেকে মনে করতে পারেন যে, নীরব তখন মৃত কিন্তু আমি কি আমার সন্তানকে সে মূহুর্তে বাঁচানোর চেষ্টা না করে ফটোসেশন করাতে পারতাম? )। সে দৃশ্য আমাকে খুব মর্মাহত করেছে।সত্যই আমরা কি তাহলে প্রথমেই মানুষ নয়?