ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডার ও তার একক সমূহ:

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দিন মাস বছর গণনার জন্য ক্যালেন্ডার বা বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করি। মানুষের নাগরিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গই হচ্ছে বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডার। পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্র মেসোপটেমিয়া, ব্যাবিলন, বা মিসরে প্রায় একই সময়ে একই প্রয়োজনের তাগিদে আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে দিন-মাস-বছর গণনা শুরু হয়েছিল। বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডার হচ্ছে মাস, সপ্তাহ ও দিনে বিভক্ত একটি বৎসর ভিত্তিক সারণি; যেখানে দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর একক গুলো ব্যবহৃত হয়। বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডার প্রনয়নের ভিত্তি হলো জ্যোতিবিজ্ঞান ভিত্তিক পর্যবেক্ষন লব্দ উপাত্ত থেকে বছর, মাস ও দিনে ‘কাল একক’ (টহরঃ ড়ভ ঞরসব) নির্ধারণ করা। আবর্তনশীল জ্যোতিষ্ক সমূহ পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য যাদের নিজ অক্ষের উপর ঘূর্ণন ক্রমান্বয়ে দিন, মাস ও বৎসরের হিসাব সৃষ্টি করে। সৌরজগতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য একে অপরের আবর্তনের ফলে আমরা দিন, মাস ও বছরের হিসাব পাই। যেমন:

১. দিন: সৌর জগতে পৃথিবী নিজ অক্ষের মধ্যে প্রতিবার ঘূর্ণন কালকে এক সৌর দিবস ধরা হয়। এ দিবসকে এক সিভিল দিবস নামেও অভিহিত করা হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে সূর্যের মধ্যরাত্রির অবস্থান থেকে পরবর্তী মধ্যরাত্রির অবস্থানে প্রত্যাবর্তনের সময়ের ব্যবধানকে ধরা হয় এক অহোরাত্রি (দিবা-রাত্রি) বা পূর্ণ দিবস। সুক্ষ পরিমাপ থেকে দেখা গেছে যে ঋতু পরিবর্তনের সাথে অর্থাৎ সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর পরিক্রমণ পথে সূর্যের সাপেক্ষে পৃথিবীর অবস্থানের সঙ্গে সৌরদিবসের দৈর্ঘে তারতম্য ঘটে; তাই দীর্ঘদিন ও দীর্ঘসময় পর্যবেক্ষনের উপর গড় পরিমাপে ‘গড় সৌরদিবস’ ধরা হয় যা সময়ের এককে মৌলিক একক হিসেবে গৃহীত।

২. মাস ঃ আকাশে চন্দ্রের গতির কারণে হয় চন্দ্রদশা (চযধংব ড়ভ ঃযব গড়ড়হ) যা থেকে মাসের ধারণা পাওয়া যায়। চন্দ্রের আকাশ পরিক্রমণের সাথে সাথে পানির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। মাস হচ্ছে চন্দ্রের সূর্যের দিকের অবস্থান (অমাবস্যা) থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে একই অবস্থানে প্রত্যাবর্তনের সময়। সাধারণত এই মাস ২৯.৩০৫৫ থেকে ২৯.৮১২৫ সৌরদিবসের মধ্যে পরিবর্তিত হয়। চন্দ্রের গড় প্রদক্ষিণ কাল (খঁহধঃরড়হ) বা চান্দ্র মাসের গড় দৈর্ঘ্য হচ্ছে ২৯.৫৩০৫৮৮১ সৌর দিবস। এই পরিক্রমণ হিসাব থেকে ৩০ দিনে একমাস স্থির করা হয়।

৩. বছর ঃ পৃথিবী সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিন করে আকাশ মন্ডলে আপাত বার্ষিক গতি ঋতুমন্ডলি সৃষ্টি করে এবং এতে আমরা বছরের হিসাব পাই। জ্যোতির্বিজ্ঞানে নানা প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রকৃতির বৎসর হিসাব করা হয় যাদের দৈর্ঘ্যও ভিন্ন। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক পর্যবেক্ষণলব্দ উপাত্ত থেকে পাওয়া তথ্য মতে ক্রান্তি বৎসর অর্থাৎ ঋতুসমূহের বৎসরই (ণবধৎ ড়ভ ঃযব ঝবধংড়হ) প্রকৃত বৎসর। যার প্রকৃত দৈর্ঘ্য ৩৬৫.২৪২২ সৌরদিবস।

৪. সপ্তাহ ঃ সর্বপ্রথম প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় সপ্তাহের ব্যবহার শুরু হয়। তৎকালীন মেসোপটেমিয়া ছিল মন্দির পুরোহিতের দেশ। তারা ৩০ দিনের মাসকে চাঁদের চার রূপ ধরে চার দিয়ে ভাগদিয়ে ৭ দিনে সপ্তাহ স্থির করলেন। এতে দেখা গেল চার সপ্তাহ পরে কোন মাসে একদিন আবার কোন মাসে দুই দিন অতিরিক্ত থেকে যায়। পুরোহিতরা মাসের চার সপ্তাহের অতিরিক্ত দিন গুলোকে উৎসবের দিন হিসাবে ব্যবহারের চেষ্টা করলেন। মেসোপটেমিয়ার ব্যবসায়ীরা ৭ দিনের সপ্তাহ মেনে না নিয়ে মাসকে ৬ ভাগ করে ৫ দিনে সপ্তাহ সৃষ্টির পৃথক নিয়ম চালু করেন। ফলে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় দুটো মাসপঞ্জিই চালু হলো। ব্যবসায়ী ও সরকারী কাজ কর্মে থাকলো ‘৫’ দিনে সপ্তাহ এবং ধর্মীয় কাজে থাকলো ‘৭’ দিনের সপ্তাহ।

অবশেষে মাসকে দিনের পরের আরো একটি ক্ষুদ্রতম এককে ভাগ করতে ব্যবহৃত ৭ দিনের সপ্তাহই সকল ক্ষেত্রে টিকে রইল।

বর্ষপঞ্জি গণনা পদ্ধতি ঃ
গণনা পদ্ধতি অনুসারে পৃথিবীতে প্রধানত তিন শ্রেণীর বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডার দেখা যায়। যথা:
১. সৌর ক্যালেন্ডার
২. চান্দ্র ক্যালেন্ডার
৩. নাক্ষত্রিক ক্যালেন্ডার ।

সৌর বৎসর ঃ
সূর্য্যরে বার্ষিক গতি অনুযায়ী সৌর বৎসর (ঝড়ষধৎ ণবধৎ) প্রতিষ্ঠিত। সূর্যের পথকে ক্রান্তিবৃত্ত (ঊপষরঢ়ঃরপ) বলা হয়। সূর্যপথের (ক্রান্তিবৃত্তের) কোন এক বিন্দু থেকে সূর্য যাত্রা করে ঐ বিন্দুতে তার প্রত্যাবর্তন কালকে এক সৌর বৎসর বা ক্রান্তি বৎসর বলা হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক পর্যবেক্ষণলব্দ উপাত্ত থেকে পাওয়া তথ্য মতে ক্রান্তি বৎসর অর্থাৎ ঋতুসমূহের বৎসরই (ণবধৎ ড়ভ ঃযব ঝবধংড়হ) প্রকৃত বৎসর। সূর্যের এই আবর্তন কাল ধ্র“ব নয়, অতি ধীরে হলেও এই আবর্তন কাল হ্রাস পাচ্ছে। একারণে একটি বিশেষ সময়ের সূর্য পথকে ঐসময়ের প্রমান পথ (ঝঃধহফধৎফ ঊপষরঢ়ঃরপ) হিসাবে গণ্য করা হয়। ১৯০০ খৃষ্টাব্দে সূর্য যে পথে প্রদক্ষিণ করেছিল সে পথটিকে ধরা হয় ‘প্রমান ক্রান্তি বৎসর’ (ঝঃধহফধৎফ ঞৎড়ঢ়রপধষ ণবধৎ)। প্রমান ক্রান্তি বৎসরের সৌর দিবসের সংখ্যা ৩৬৫.২৪২২ যা আগামী ১০০০ বছর নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যাবে। প্রায় ৩০০০ খৃষ্টপূর্বাব্দে অর্থাৎ আজ থেকে পাঁচ হাজার বৎসর পূর্বে এই দৈর্ঘ্য ছিল ৩৬৫.২৪২৫ সৌরদিবস।

চান্দ্র বৎসর ঃ
চন্দ্রের বর্ষ পরিক্রমার ভিত্তিতে এই সন গণনা করা হয়। চান্দ্র মাস হচ্ছে চন্দ্রের সূর্যের দিকের অবস্থান (অমাবস্যা) থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে একই অবস্থানে প্রত্যাবর্তনের সময়। সাধারণত এই মাস ২৯.৩০৫৫ থেকে ২৯.৮১২৫ সৌরদিবসের মধ্যে পরিবর্তিত হয়। চন্দ্রের গড় প্রদক্ষিণ কাল (খঁহধঃরড়হ) বা চান্দ্র মাসের গড় দৈর্ঘ্য হচ্ছে ২৯.৫৩০৫৮৮১ সৌর দিবস। চন্দ্রের হিসাবে ৩৫৪ দিন ৯ ঘন্টায় এক চান্দ্র বৎসর (খঁহধৎ ণবধৎ)। অর্থাৎ চান্দ্র বৎসরের দৈর্ঘ্য ৩৫৪.৩৬৭০৫৭২ সৌরদিবস।

নাক্ষত্রিক বৎসর ঃ
একটি স্থির নক্ষত্রের অবস্থার সাপেক্ষে সূর্যের ঐ অবস্থানে প্রত্যাবর্তনের কালকে বলা হয় নাক্ষত্রিক বৎসর (ঝরফবৎধষ ণবধৎ)। রাশিচক্রের ভিতর দিয়ে চন্দ্রের সাতাশটি নক্ষত্র পরিক্রমনের হিসাবে নাক্ষত্রিক বৎসর প্রতিষ্ঠিত। একটি নাক্ষত্রিক বৎসরের দৈর্ঘ্য ৩৬৫.২৫৬৩ সৌরদিবস।

নিখুত নাগরিক ক্যালেন্ডার ঃ
সভ্যতা বিকাশিত হয়েছে। কম্পিউটার প্রযুক্তি সমৃদ্ধ নতুন সভ্যতার যুগে একটি নিখুত নাগরিক বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডার অপরিহার্য। নতুন অত্যাধুনিক সভ্যতার জন্য বর্তমানে ব্যবহৃত ক্যালেন্ডার বা বর্ষপঞ্জিকে ঢেলে সাজিয়ে সংস্কার করা প্রয়োজন। ক্যালেন্ডার তৈরির সমস্যা গুলো খুজে বের করে এর সমাধান করা উচিৎ। যদিও হাজার হাজার বছর ধরে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে শত শত ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে এসেছে মানুষ এবং এর সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়েছে। ঐতিহাসিক প্রয়োজনে এসবের সংশোধন করতে এগিয়ে এসেছিলেন কালে কালে রোমুলাস, নুমা পম্পিলিয়াস, জুলিয়াস সিজার, পোপ গ্রেগরীর মতো প্রতাপশালী নিয়ামক। পরিবর্তন সাধন করেছেন মালিক শাহ সেলজুক ও সম্রাট আকবর। তার পরও সমস্যা গুলোর সম্পূর্ণ সন্তোষষজনক সমাধান অদ্যাবদি মেলেনি।

বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত বর্ষপঞ্জি ঃ
অতিপ্রাচীন কাল থেকে ক্যালেন্ডারের ব্যবহার শুরু হয়ে হাজার হাজার বছর ধরে আজকের এই দিন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকৃতির ক্যালেন্ডার মানুষ ব্যবহার করে আসছে তার মধ্যে প্রধান কয়েকটি ধরন হচ্ছে : বিশুদ্ধ সৌর, বিশুদ্ধ চান্দ্র, সৌর-চান্দ্র সংকর বা নক্ষত্র পঞ্জি। বিশুদ্ধ চান্দ্র, সৌর-চান্দ্র সংকর বা নক্ষত্র পঞ্জির সবচেয়ে বড় অসুবিধা এই যে, এসব ক্যালেন্ডার ঋতুর হিসাবের সঙ্গে মিলেনা। জ্যোতির্বিজ্ঞান ভিত্তিক পর্যবেক্ষণলব্দ উপাত্ত থেকে পাওয়া তথ্য মতে সৌর বৎসর অর্থাৎ ঋতুসমূহের বৎসরই (ণবধৎ ড়ভ ঃযব ঝবধংড়হ) প্রকৃত বৎসর। ফলে ধর্মীয় উৎসব ছাড়া নাগরিক জীবনে বিশুদ্ধ চান্দ্র, সৌর-চান্দ্র সংকর বা নক্ষত্রিক বর্ষপঞ্জির ব্যবহার হয়না কিন্তু সৌর ক্যালেন্ডার ঋতুর সাথে তাল মিলিয়ে চলায় বর্তমান নাগরিক জীবনে এর ব্যবহার পৃথিবীর সর্বত্র।

বর্তমানে সারাবিশ্বে বহুল ব্যবহৃত বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডারের নাম ‘গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার’। যা প্রমান ক্রান্তি বৎসরের (৩৬৫.২৪২২ সৌর দিবস বা ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড) হিসাব অনুযায়ী চলে। গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার হচ্ছে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের সংষ্কারকৃত রূপ।

গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার ঃ
খৃষ্টপূর্ব ৪৬ অব্দে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার তৎসময়ে প্রচলিত ক্যালেন্ডার সংস্কার করেন। তিনি তার বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডারে বৎসরের ব্যাপ্তি ধরেন ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা (৩৬৫.২৫ সৌর দিবস) যা ১২ টি মাসে বিভক্ত ছিল। এর আগে রোমান ক্যালেন্ডারে ছিল ৩০৪ দিনের বছর। যার প্রচলন শুরু হয়েছিল উত্তর ইউরোপিয় অর্ধ বর্বর জনগোষ্ঠীর মধ্যে। কথিত আছে রোম সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রোমুলাস রোমের এই প্রথম পঞ্জিকার প্রবর্তক যার বছর শুরু হতো বসন্তের প্রথমে ১লা মার্চ থেকে; ৩০৪ দিনের বছরে ছিল ১০ মাস, আর বছর শেষ হতো শীত কালীন ক্রান্তি বিন্দুতে ডিসেম্বরে। বাকী ৬১ দিন ছিল তাদের নিষ্কর্ম কাল (ঐুনবৎহধঃরড়হ), তখন শীতের প্রচন্ডতায় কোন কাজ কর্ম করা হতো না। এ সময়ের ১০ মাসের নাম যথাক্রমে: ১. মার্চ মাস, ২. এপ্রিল মাস, ৩. মে মাস, ৪. জুন মাস, ৫. কুইন্টিলিস মাস, ৬. সিকসটিলিস মাস, ৭. সেপ্টেম্বর মাস, ৮. অক্টোবর মাস, ৯. নভেম্বর মাস ও ১০. ডিসেম্বর মাস। এরপর গ্রীক জ্যোতির্বিদ নুমা পম্পিলিয়াস (৭১৫ – ৬৭২ খৃষ্টপূর্ব) প্রথম বারো মাসের বৎসর চালু করেন। তিনি পুরানো ১০ টি মাসের সাথে জানুয়ারী ও ফেব্র“য়ারী মাস যুক্ত করে ক্যালেন্ডার সংস্কার করেন। ১২ টি মাসের বৎসর হলেও বৎসরের পরিধি এক এক সময় এক এক রকম ছিল। কারণ ঐ সময়ের রোম সম্রাজ্যে মাস বা বৎসর হিসাব করতে চাঁদের উপরই নির্ভর করতে হতো। জুলিয়াস সিজার যখন রোমের সম্রাট তখন একবার দেখা গেল প্রকৃত সৌর বৎসরের সাথে পঞ্জিকার হিসেবে গরমিল প্রায় ৮০ দিন। পঞ্জিকা অনুযায়ী যখন হবার কথা বসন্তকাল তখন আসলে প্রচন্ড শীত। জ্যোতির্বিদদের পরামর্শ নিয়ে জুলিয়াস সিজার খৃষ্টপূর্ব ৪৬ অব্দে নির্দেশ দিলেন এখন থেকে বৎসর ধরা হবে ৩৬৫ দিনে; যে বছর চার দিয়ে বিভাজ্য হবে তাকে গণ্য করা হবে ‘অধিবর্ষ’ (খবধঢ় ণবধৎ) হিসেবে এবং সে বৎসর ফেব্র“য়ারী মাসে অতিরিক্ত ১ দিন যোগ করা হবে। এরপর এই ক্যালেন্ডারের ৫৭৮ বৎসর পেড়িয়ে গেলে ডাইও নিসিয়াম এক্সিগুয়াস নামের এক খৃষ্টান পাদ্রি একে তখনকার সময় থেকে ৫৩২ বৎসর পূর্বে যীশু খৃষ্টের জন্মের বৎসরকে ধারনা করে ৫৭৮ সালকে পরিবর্তন করে ৫৩২ (ক্রিশ্চিয়ান এরা) খৃষ্টাব্দ প্রবর্তন করেন। যদিও পরবর্তীতে দেখা যায় যীশু খৃষ্টের জন্ম বৎসর তারও চার বছর পরে।

কিন্তু জুলিয়াস সিজার প্রবর্তিত জুলিয়ান ক্যালেন্ডারেও রয়ে গেল কিছুটা ভুল। কারণ জুলিয়াস সিজার যেখানে বৎসরের ব্যাপ্তি ধরেছেন ৩৬৫.২৫ সৌরদিবস (৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা), আসলে সেখানে হবে ৩৬৫.২৪২২ সৌর দিবস (৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড) যা জুলিয়ান ক্যালেন্ডার থেকে ১১ মিনিট ১৩ সেকেন্ড বা ০.০০৭৮ দিন কম। এই সামান্য গরমিল পাঁচ দশ বছরে কোন প্রভাব না পড়লেও জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৪৮৩ বৎসরে ১১ দিন অতিরিক্ত হয়। ১৫৮২ খৃষ্টাব্দে দেখা যায় বসন্ত বিষুবন পড়েছে ২১ মার্চের পরিবর্তে ১১ মার্চে। ঐ বছর রোমের ত্রয়োদশ পোপ সেন্ট গ্রেগরী (৮ম) ১৫৮২ সালের হিসাব থেকে ১০ দিন বাদ দিয়ে পঞ্জিকা সংশোধন করেন এবং জুলিয়ান পদ্ধতি সংস্কার করে সংশোধনীতে বলেন, যে শতবর্ষীয় সাল গুলো ৪০০ দ্বারা বিভাজ্য নয় সে সাল গুলোকে ‘অধিবর্ষ’ বা লিপইয়ার হিসেবে গন্য করা হবেনা। কারণ বৎসরের দৈর্ঘ্য ৩৬৫.২৪২২ সৌর দিবস হলে প্রতি চারশত বৎসরে লিপইয়ার প্রয়োজন ৯৭ টি ১০০ টি নয়। তাই প্রতি চার বৎসরে যে অধিবর্ষ বা লিপইয়ার ধরা হয় চার শত বৎসরে তার মধ্যে ৩টি বাদ দিতে হয়। গ্রেগরীয়ান নিয়ম অনুযায়ী চারশত বৎসরের চারটি শতবর্ষীয় লিপইয়ার সাল থেকে যে সালটি ৪০০ দ্বারা বিভাজ্য সেটিকে লিপইয়ার ধরে বাকী ৩টিকে লিপইয়ার হিসেবে গণ্য করা হবেনা।

এই পদ্ধতি অনুসারে ইংল্যান্ডে ১৭৫২ সালের হিসাব থেকে ১১ দিন বাদ দিয়ে পঞ্জিকা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডারই আন্তর্জাতিক বা ওয়েস্টার্ণ ক্যালেন্ডার হিসেবে খ্যাত আমাদের কাছে যা ইংরেজী বা খৃষ্টাব্দ হিসেবে পরিচিত।

বিশ্বে ব্যবহৃত ক্যালেন্ডার সমূহ (উইকিপিডিয়া অনুসারে) ঃ

নং ক্যালেন্ডারের নাম খৃষ্টীয় ২০০০ সালে চলমান সাল
১ গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার ২০০০
২ অনঁৎনব ঈড়হফরপধ ২৭৫৩
৩ আরমেনিয়ান ক্যালেন্ডার ১৪৪৯
৪ বাহা’ই ক্যালেন্ডার ১৫৬ – ১৫৭
৫ বাংলা ক্যালেন্ডার ১৪০৭
৬ বারবার ক্যালেন্ডার ২৯৫০
৭ ইৎরঃরংয জবমহধষ ণবধৎ ৪৮ – ৪৯ এলিজা:
৮ বৌদ্ধ ক্যালেন্ডার ২৫৪৪
৯ বার্মিজ ক্যালেন্ডার ১৩৬২
১০ ইুুধহঃরহব ঈধষবহফবৎ ৭৫০৮ – ৭৫০৯
১১ চাইনিজ ক্যালেন্ডার ৪৬৩৫/৪৬৯৫ – ৪৬৩৬/৪৬৯৬
১২ কোপটিক ক্যালেন্ডার ১৭১৬ – ১৭১৭
১৩ ইথিওপিয়ান ক্যালেন্ডার ১৯৯২ – ১৯৯৩
১৪ হিব্র ক্যালেন্ডার ৫৭৬০ – ৫৭৬১
১৫ বিক্রম সম্বাত ২০৫৬ – ২০৫৭
১৬ ভারতীয় জাতীয় ক্যালেন্ডার ১৯২২ – ১৯২৩
১৭
১৮ ঐড়ষড়পবহব ঈধষবহফবৎ ১২০০০
১৯ ইরানিয়ান ক্যালেন্ডার ১৩৭৮ – ১৩৭৯
২০ ইসলামিক ক্যালেন্ডার (হিজরী)
২১ জাপানিজ ক্যালেন্ডার ঐবরংবর – ১২
২২ কোরিয়ান ক্যালেন্ডার ৪৩৩৩
২৩ থাই সৌর ক্যালেন্ডার ২৪৪৩
২৪ ইউনিক্স টাইম