ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

১/ সাধারনের মনে একটা ধারনা মুক্তমনা মানেই ধর্মকে গালি দেয়া। পৃথিবী সৃষ্টি শুরুর কল্পকাহিনী বিভিন্ন ধর্মমতে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই কল্পকাহিনী অন্ধভাবে বিশ্বাস করা একান্তই আপনার নিজস্ব ব্যাপার। যেহেতু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বেশীরভাগ বিজ্ঞানের আশীর্বাদ সেহেতু কেউ যদি বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী হয় এতে তো দোষের কিছু না। কেউ যদি তার খাদ্যাভাসে ফুড-সাইকেল অনুযায়ী গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগী-কাছিম-শুয়োর-পোকামাকড় খায় এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। সে অবশ্যই এই খাদ্যাভাসের পিছনে একটা যুক্তি দাঁড় করিয়েই এসব গ্রহন করে। যেহেতু এই খাদ্যাভাস ধর্ম নির্ধারন করে দেয়, তাই এখানে একটা স্বচ্ছ ধারনা রেখেই এরা নিয়ম ভাঙ্গে, মুক্ত হয়। এই নিয়ম ভাঙ্গা মানেই ধর্মকে গালি দেয়া না। বিজ্ঞানচর্চা করা যদি ভুল হয়, তাহলে এখানে কেন বিজ্ঞানচর্চা নিষিদ্ধ করে দেয়া হয় না? বলা হয় শিক্ষার জন্য প্রয়োজনে সদূর চীনে যাও। তবে কেন পাশ্চাত্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান গ্রহনে আমাদের এতো সংকোচ।

২/ অনেকে বলে এসব লেখালেখির কি দরকার। এখানে একটা দায়বদ্ধতা আছে, যেটা বিবেক তৈরী করে দেয়। এখানে কোন স্বার্থ জড়িত নেই। এই দায়বদ্ধতা যারা এড়াতে পারেন না তাঁরাই প্রকৃত মানুষ। একজন রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বেগম রোকেয়া, কাজী নজরুল ইসলাম, তারেক মাসুদ এঁরা সাধারন ছিলেন না। দায়বদ্ধতা এড়াতে পারেননি বলেই এরা অনেক ভেবেছেন, ভেঙ্গেছেন অনেক অদ্ভুত নিয়ম। আগুনের স্ফুলিঙ্গ এঁরা অনুভব করতে পেরেছেন। এখানে একটা সুখ আছে, অন্যরকম প্রকৃত সুখ! এঁরা তো চাইলে দায়বদ্ধতা এড়িয়ে জীবনকে কোলবালিশের মতো কাটিয়ে দিতে পারতেন। এই সতীদাহ প্রথা, বিধবা বিবাহ প্রচলন, নারী শিক্ষার জাগরন এসব নিয়ম ভাঙ্গার দায় এড়াতে পারেননি বলেই এরা হয়েছেন প্রথাবিরোধী। আলো আর অন্ধকারের তফাৎ এখানেই!