ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

সিলেটিদের অন্যান্য অঞ্চলের অনেক মানুষ ক্ষ্যাত বলে। শিক্ষার অনগ্রসরতাই হয়তো এর প্রধান কারণ। অপ্রিয় সত্য কথা সবসময় বলতে নেই। তাই বলে নিজের দুবর্ল জায়গায় উন্নতি না ঘটিয়ে মূর্খের মতো সচেতনতা দেখিয়ে কী লাভ? এটিএন বাংলার চেয়্যারম্যান মাহফুজুর রহমান বেশ কিছুদিন আগে এ নিয়ে একটা কমেন্ট করে দারুন বিপাকেই পড়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সিলেটিরা এখন পড়ালেখা করে ভদ্র হয়ে গেছে’। ভদ্রতার খাতিরে এধরনের কমেন্ট করা হয়তো অশোভনীয়। প্রত্যেক সমালোচনার জবাব মুখে না দিয়ে কাজে দেখানোই সবচাইতে বড় কৃতিত্ব। কিন্তু আঞ্চলিক অন্ধত্ব এসব কি বুঝে! এখানে একদল সচেতন পার্টি দাঁড়িয়ে যায় প্রতিবাদ করবে বলে। শুধু কি প্রতিবাদ সিলেটের কিছু অঞ্চলে এটিএন বাংলার সম্প্রচার পযর্ন্ত বন্ধ হয়ে যায় তখন। ঈদে মাসুদ সেজানের একটা নাটক প্রচারিত হয় ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ । লন্ডন প্রবাসী একজন সিলেটির দেশে ফিরে অস্বাভাবিক অদ্ভুত আচরনি মূলত নাটকের মুল ভাষ্য। সত্যিকার অর্থে অপ্রিয় হলেও এ ধরনের আচরন অনেক বিলেত ফেরত সিলেটিরা করে থাকে। কিন্তু এখানেও বিপত্তি। সচেতনেরা এখানেও খাড়িয়ে যায়, বলে মাসুদ সেজানকে ক্ষমা চাইতে হবে এই নাটক বানানোর জন্য।

সর্বশেষ সচেতন সিলেটবাসীরা যেটা বললেন, জাফর ইকবাল স্যার নাকি সিলেট বিদ্বেষী। সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদ সামাদ কয়েস ইচ্ছাপোষন করেন জাফর ইকবাল স্যারকে কোর্টপয়েন্টে এনে চাবুক মারবেন। তিনি যে প্রেক্ষিতে একথাগুলো বলেছেন, এরকম ধারনা সিলেটের আরো অনেকে পোষন করে থাকেন। তাদের ধারনা জাফর ইকবাল স্যার শুধু অন্যান্য অঞ্চলের ছেলেদেরকেই সাস্টে ভর্তির সুযোগ করে দেন, সিলেটিরা এখানে চরমভাবে অবহেলিত হয়। আসলেই কি তাই? একজন মেধাবী সিলেটি ছাত্র যদি ভালভাবে ভর্তি পরীক্ষা দেয়, তাহলে জাফর স্যারের সাধ্য কই তাকে আটকাবার। যে বা যারা (সিলেটি) সাস্টে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সাস্টে পড়ালেখা করছে তাদের সাথে আলোচনা করলেই তো আপনার এই ভুল ধারনাটা ভেঙ্গে যেতে পারে।

খুব মজার ব্যাপার হল, এইসব সচেতন সিলেটিরা স্যারকে যে ট্যাগ দিয়ে সিলেট থেকে চলে যেতে বলে, সেই একি ট্যাগ দিয়ে এর আগেও আরেক অন্ধ দল স্যারকে বলেছিল সিলেট ছাড়ার কথা। তখন স্যারের অপরাধ ছিল, স্যার সাস্টে মুক্তিযুদ্ধের একটি ভাষ্কর্য বানাতে চেয়েছিলেন। অথচ সচেতনেরা এর নাম দিয়েছিল স্যার নাকি মূর্তি বানাতে চাচ্ছেন। অথচ আরব আমিরাতের অনেক শহরে তারা তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে অনেক যাদুঘর বানিয়েছে। যেখানে আছে বিভিন্ন নিদর্শনের ভাষ্কর্য। মনে করিয়ে দেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ।

 

 

 

বুর দুবাই মিউজিয়ামে আমার এক বব্দুর তোলা

বুর দুবাই মিউজিয়ামের ভাষ্কর্য।

 

বুর দুবাই মিউজিয়ামে আমার এক বব্দুর তোলা

বুর দুবাই মিউজিয়ামের ভাষ্কর্য।

 

 

 

অঞ্জন দত্তের গানের একটা লাইন আমার মনে দারুন দাগ কাটে ‘কোথায় তুমি টানবে বল দেশের সীমারেখা’ । ভেবে দেখলাম সত্যি তাই শুধু দাগ কেটেই কি দেশ/অঞ্চল আলাদা করা যায়। অনেক সিলেটিরাও অন্যান্য অঞ্চলের লোকদের আবাদী বলে গালি দেয়। শুধু দাগ কেটে সীমানা আলাদা করলেই কি মানুষ আলাদা হয়ে যায়! জাফর ইকবাল স্যার কি আমাদের লোক নন? উনি কি আমাদের জন্য ভাবেন না? নাকি উনার দোষ শুধু উনি জন্ম যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেন, মনে করিয়ে দেন ১৪ই ডিসেম্বরের কথা! উন্নয়নশীল এই দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা কী ভুল?