ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

ছোটবেলায় বাংলা সিনেমায় ধর্ষনের চিত্র আসলে আমরা তাড়াহুড়ো করে বলতাম (FF) ফাস্ট ফরোয়ার্ড দাও। সেটা সম্ভব না হলে অনেকে বাধ্য হয়ে অস্বস্তিতে টিভি রুম ত্যাগ করতাম। কারণ এ ধরনের চিত্র আমাদের কাছে সহজ বা স্বাভাবিক ছিল না। আরেকটু বড় হবার পর হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের মিনি স্কার্ট পড়া দেখেও আমরা লজ্জায় মুখ লুকাতাম। আমাদের সংস্কৃতি বা সমাজ ব্যবস্থা এত খোলামেলা নয়। তাই স্বভাবতই এগুলা আমরা সহজে মেনে নিতে পারতাম না। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষন থাকে তীব্র। তাই আরেকটু বড় হওয়ার পর যখন রুমে একা থাকার অনুমতি মিলত তখন দেখে নিতাম অবশিষ্টটুকু।

 

পারিবারিকভাবে আমাদের যৌনশিক্ষা দেয়ার কোন রেওয়াজ নেই এখানে। আর প্রাতিষ্টানিকভাবেও এখন পযর্ন্ত পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি এই বিষয়টি। হয়তো উন্নয়নশীল দেশ বলেই এই সাহসটুকু করতে পারেনা কেউ। যা বাকি একটু ধর্মশিক্ষাতেই সবাই আটকা। একটা বিষয়ে পূর্ণজ্ঞান থাকার পরি মানুষ সেই বিষয়ে ভুল করতে গেলে দুইবার ভাবে। শুধুমাত্র ধর্মীয় মূল্যবোধ বা ভয়ভীতি কি সব অপকর্ম হতে মানুষকে বিরত রাখতে পারে! অনেক ধূমপায়ী জানে ‘তামাক সেবন পাপ’, কিন্তু কজনা সেটা মানে।

 

আবার আসি বাংলা সিনেমা প্রসঙ্গে। অনেক বাংলা সিনেমায় আমরা দেখতে পাই, বিভিন্ন অপকর্ম যারা করে তারা কোন না কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আশ্রয়ে থাকে। তারা জেলে গেলেও দুনিয়ার কোন শক্তি নেই তাদের আটকে রাখে! চিত্রনাট্য কাল্পনিক হলেও অদ্ভুতভাবে এরকমটাই বাস্তবে আমাদের এখানে ঘটে থাকে । গ্রাম-মফস্বল-শহরে মেয়েদের ওড়না ধরে টান দেয়ার সাহস কারা পায়?

 

সমকামিতার ব্যাপারে কোন নিউজ কোন অনলাইন পত্রিকায় শেয়ার করলে, সেটার কমেন্ট সেকশনে মানুষের ফিডব্যাক দেখে মাঝে মাঝে ‘মাননীয় স্পীকার’ বনে যাই। মনে মনে ভাবি এই মানবসম্পদ দিয়ে জাতি কি করবে? হুমায়ুন আহমেদ ‘ঘেটুপুত্র কমলায়’ যেটা দেখিয়েছেন, এরকম ঘটনা কি এ অঞ্চলে ঘটে না? ঢের ঘটে। আমাদের এ অঞ্চলে সমকামিতা অবৈধ আর ধর্মীয় বাধানিষেদের কারনেই হয়তো অনেকটা গোপনে ঘটে। জোর-জবরদস্তি করে কি মানুষের জৈবিক চাহিদা বন্ধ করে রাখা যায়! তাই শিক্ষাটা হোক যথাযথ।