ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমাদের এই সোনার দেশকে তিনটি রাজনৈতিক দল প্রতিনিয়ত পিষ্ট করে খাচ্ছে। এটা যেন জনগণ বুঝতে না পারে সে জন্য তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে। তবে এই ব্যস্ত রাখার ধরনও একটু ভিন্ন। কখনো নির্যাতনের মাধ্যমে, কখনো ধোঁকাবাজি প্রভৃতির মাধ্যমে। এটা বুঝতে না পারার জন্য সুকৌশলে জনগণকে মাজারের দিকে নতজানু করানোর চেষ্টা চলছে। এতে জনগণের বিশ্বাসকে এতো নিচে নামানো হয় যে, তারা দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির বিপক্ষে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারায়।

এটা সর্বজন স্বীকৃত যে, মানুষ ধর্মের বিপরীত কোন বিষয় সহজে মেনে নিতে পারে না। যখন তাদের ধর্মকে চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি করে রাখা হয় তখন আর সেই ধার্মিকেরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। তারা বিশ্বাস করে এটা তাদের ধর্মের মধ্যে পরে না। তারা কেবল তাদের দেয়ালের ভেতরে ডাল-পানি নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আপনি কখনো তাদের মধ্যকার মারামারির খবর কোন পত্রিকায় পাবেন না। এতে তারা ঝগড়া-ফাসাদ মুক্ত ফেরকা বলে দাবি করতে দেখলে লজ্জিত হবেন না। এদের অধিকাংশ খানকায় মালের গন্ধে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। তারা মাল-পানি খেয়ে তাদের বাবাদের ধ্যানে এতই মত্ত থাকে যে, যদি দেশে আবারো যুদ্ধ বেধে যায় তবু বলতে পারবে না কে কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে! অতি সুকৌশলের মাধ্যমে জনগণকে এদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গত বৃহঃস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮) মাজার ভক্ত সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান জনাব এরশাদ সাহেব এসে নতজানুর মাধ্যমে বাবা শাহজালালের নিকট দু’আ চেয়ে নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার ঘোষণা দিয়ে গেছেন। তার আগমনের পূর্বে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও একই ভাবে মাজার জেয়ারতের মাধ্যমে উনার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে গেছেন। আর বিএনপি তো প্রতিবার মাজারের মৃত বাবার কাছ থেকে দু’আ নেয়ার মাধ্যমে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে। এগুলো নিয়ে কলমের শ্লোগান তেমন কর্ণগোচর হয় না। বলা যায়, নিরবতার সাথেই এগিয়ে চলছে ধর্মের নামে এই অন্ধকারে মাছিমারার খেলা।

অনেকে এরশাদ সাহেবের বাণী শুনে (বাবা দু’আ কবুল করবেন) অবাক হন। অনেক সাংবাদিক ভাইদেরকেও দেখা যায় এই অবাক হওয়ার দলে। আমি এরশাদের কথা শুনে অবাক হই না, আমি অবাক হই সাংবাদিক ভাইদের অবাক হওয়া দেখে। যে মানুষটা ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রতিসাপ্তাহে ভণ্ড আটরশির মাজারে গিয়ে জিলাপি বিতরণ করে আসে; তার ব্যাপারে সুশিক্ষিত নাগরিকের অবাক হওয়ার তো কোন কারণ দেখি না। তার সময়কালে ভদ্রলোক যে হারে মাজারের দিকে যাওয়া আসা করতো এতে অনেক রাজনীতিবিদরা ভাবতেন, হয়ত এরশাদ সাহেব রাষ্ট্র পরিচালনার টিপস ওখান থেকেই অর্জন করছেন। ভদ্রলোক জনাব এরশাদ সাহেব এতো করে বলেছেন ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু করবেন না। তারপরও তার পীরসাব ধর্ম রক্ষার নামে তার সহায়তায় ‘জাকের পার্টি’ গঠন করলেন। এতে বুঝা যায়, তার পীরও তাকে বিশ্বাস করে না। মাজার পূজারী এই ভদ্রলোককে নিয়ে সুশিক্ষিত নাগরিককের আফসোসে মনে হয় কিছুদিন পূর্বে ভদ্রলোকের ছিনাছাক (অন্তর বের করে ধৌত করে আবার প্রতিস্থাপন) করা হয়েছে। দয়ালের নিকট প্রার্থনা করি, যেন এমনটা না হয়; বেচারা বয়োঃবৃদ্ধ রোগে ভোগছেন, এমনটা ঘটলে কখন কী হয় বলা যায় না। আমাদের বাকি দু’দলের নির্বাচনী প্রচারণা কোন দিক দিয়ে শুরু করে কোন দিকে এগুনো উচিত- এই বিষয়ে বিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের গঠনমূলক সমালোচনা কাম্য।