ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

‘আমাদের হাতে মোবাইল এসেছে বা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে’ এটা আলোচনার কোন টপিক বলে মনে হয় না। কারণ মানুষ একটু স্থৈর্যের সাথে চিন্তা করলে বুঝতে পারে এটা কাদের সফলতা। পুঁজিবাদের সফলতা নাকি কোন রাজনৈতিক দলের।

অনেকে দাবি করেন এদেশে গণতন্ত্র চলছে। আবার অনেকে দাবি করেন গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদ উভয়ের সমান ক্বদরের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে; অর্থাৎ গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদের সমন্বয়ে দেশ চলছে। বস্তুত, দৃশ্যমান সব কিছুই কালো ধোঁয়া। ধোঁয়া কাটিয়ে উঠলে যা বেরোয় তা হচ্ছে, দেশ পুঁজিবাদের মাধ্যমেই চলছে। তবে পুঁজিবাদের বিপ্লব বলা যাবে না কেননা বিপ্লব আসতে অনেক দেরি। যদি পুঁজিবাদের বিপ্লব ঘটে তবে মানুষের অধিকার চরমভাবে বিঘ্নিত হবে। সকল অর্থের একচ্ছত্র মালিক হবে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আর সাধারণ জনগণ অতি নিম্ন জনগণে রূপ নিতে বাধ্য হবে। রোলারের চাকা লালে লাল হবে সর্বোচ্ছ হাড়ে; জনগণের রক্তে। নদীতে কৃষকের কান্নারা মিছিলে মিছিলে ভেসে যাবে। একটি রুটির জন্য বিকিয়ে দিবে গৃহবধূ তার মহা-মূল্যবান ইজ্জত। কিন্তু এই খবরগুলো কোন পত্রিকাওয়ালা ছাপাবে না। তাদের ছাপানোর সাহস লুণ্ঠন করা হবে অনেক আগেই; লুন্ঠনের কাজ শুরু হল মাত্র।(ডিজিটাল আইন দ্রষ্টব্য)

কিছু ভাইকে দেখা যায় শিল্প উন্নয়নের নামে ভোরের দাড়কাকের ন্যায় চিৎকার করতে; কিন্তু এখন আর দাড়কাকের চিৎকারে অশুভ কিছু ঘটে না। তেমনি শিল্প উন্নয়নের নামে মানুষকে আর ভ্রমে রাখা যাবে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে না; সেটা বলা যাবে না। পূর্বেই বলেছি, এসব উন্নয়ন, এগিয়ে যাওয়া বা উন্নতির জন্য দায়ী পুঁজিবাদ। হ্যা, এখন প্রশ্ন বটে, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি কি মিথ্যা? এর সঠিক উত্তর হল, রাজনৈতিক দলগুলো পুঁজিবাদের চাকর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তাদের সফলতা হল, প্রথমে তারা চাকর থাকে। কিন্তু সময়ের যাঁতাকলে জনগণকে পিষ্ট করে একসময় তারাও এক একজন পুঁজিবাদীতে রূপ নেয়। এটাই তাদের সফলতা।

‎এটাকে শিল্প উন্নয়ন তখন বলা যেত, যখন শিল্প কারখানার ব্যাপকতা তৈরি হত কেবল জনগণের স্বার্থে। কিন্তু কারখানা তৈরি হচ্ছে না তা নয়; তৈরি হচ্ছে, তবে পুজিবাদের ভূরিভোজনের স্বার্থে। এই ভোজনের জোগান হচ্ছে জনগণের মাংস ও হাড় আর পানীয় হচ্ছে জনগণের রক্ত।

যদি শিল্পকে তার সঠিক রাস্তার দিয়ে এগিয়ে নেয়া হত, তবে আমাদের দেশ উন্নয়নের উচ্চ শিখরে পৌঁছানো কোন কল্পনা থাকতো না। বাস্তবেই আমরা উন্নয়নশীল দেশের গর্বিত নাগরিক হতে পারতাম। সময়ের সাথে ভৌগলিক সুবিধাকে যদি আমরা কাজে লাগাতে পারতাম, তবে শিল্প তার সফলতা পেত আর আমরা পেতাম শান্তি। ভৌগলিক ভাবে আমাদের দেশ হচ্ছে কৃষিনির্ভরশীল দেশ। দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আমাদেরকে প্রথমে কৃষি শিল্পের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। আর এই উন্নয়নের মাধ্যমেই কারখানা তৈরিতে মনোযোগী হতে হবে; যেমনটা ঘটেছে চীনে। আমাদের অনেককে দেখা যায়, ভারতীয় সরকার ব্যবস্থা ফলো করতে। বস্তুত, ভারতীয় সরকার ব্যবস্থাও পুঁজিবাদী ও ধর্মান্ধ সমস্যায় জর্জরিত। আর তাই, আমাদেরকে ফলো করতে হবে চীনের দিকে। বর্তমানে যে কারখানাগুলো হচ্ছে বা চলছে, তা কেবলই পুঁজিপতিদের অর্থবৃদ্ধির কারণে। লেন সুবিধার ক্ষেত্রে তাদের পূজা করার জন্যই। যদি কৃষি থেকে উন্নয়ন শুরু হত, তবে শেখর থেকেই দরিদ্র বিমোচন হয়ে যেত। আমাদের একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। যেখামে একজন ছাত্রের পেছনে সরকারের খরচ হয় তিন লাখের উপরে। ছাত্রদের নিজের ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে কতটাকা খরচ হয় সেটা তো বর্ণনাতীত। এতো বিপুল খরচের পর একজন কৃষি গবেষককে যখন বিসিএস পরীক্ষার জন্য দৌঁড়ঝাপ দিতে দেখা যায় বা ব্যাংকে চাকরির জন্য নাকের ও চোখের পানি এক করতে দেখা যায় তখন আমাদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। এই বিষয়গুলো সরকারের নজরে এনে দীর্ঘমেয়াদী একটা প্লান নেয়া প্রয়োজন। যদি এই গবেষকদের কৃষিকর্মে লাগানো যায় আর কৃষি খাতে সল্প মূল্যে আধুনিক যন্ত্র পাতির ব্যপকতা বৃদ্ধি করা যায় তবে নিশ্চিত দেশের উন্নয়ন ঘটবে।