ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

অনেকের একটা প্রশ্ন যে মুক্তমনা হও সমস্যা নাই, কিন্তু ধর্মের বিপক্ষে কেন লিখবে? মুক্তমনারা সমাজের সবাই বিজ্ঞান ও যুক্তি কে গ্রহণ করুক। বর্তমানে বিজ্ঞান ও যুক্তি কে গ্রহণ করার প্রথম বাধা হলো ধর্মীয় অন্ধ বিশ্বাস। আর তাই মুক্তমনারা যখন বিজ্ঞান ও যুক্তি নিয়া কথা বলে তখনি সেটা ধর্মীয় অন্ধ বিশ্বাসের মূলে আঘাত করে।

একজন ধার্মিক প্রথমেই বলেন যে তার ধর্ম বিজ্ঞান সম্মত। এটার চাইতে বড় মিথ্যা ও অযৌতিক কথা কি আর আছে? ধার্মিকরা তাদের নিজ নিজ ধর্মকে বিজ্ঞান সম্মত প্রমান করার জন্য মারিয়া। তারা বিজ্ঞান সম্মত প্রমান করতে গিয়া মানুষের কাজে বিজ্ঞানকে বা তাদের নিজের ধর্মীয় কথাকে ভুলভাবে তুলে ধরে। ধর্মীয় কোনো কিছু যদি বিজ্ঞান সম্মত নাও হয় তখন ধর্মকে বিজ্ঞান সম্মত করতে তারা তখন বিজ্ঞানকে পরিবর্তন করে দেন। উদাহরণ হিসেবে বিবর্তন বাদকে আনা যায়। কোনো ধর্ম বিবর্তনবাদ গ্রহণ করে না বলে ধার্মিকরা বিবর্তনবাদ নিয়া ভুল তত্ত্ব দিয়ে বিবর্তনবাদকে ভুল প্রমান করতে চায়। অতথ বিবর্তনবাদ আজ প্রমানিত একটা মতবাদ ও প্রায় ৯৫% বিজ্ঞানী (দুনিয়ার প্রথম শ্রেনীর বিজ্ঞানীরা প্রায় সবাই) বিবর্তনবাদ কে এক বাক্যে গ্রহণ করেছে।

এরূপ যখন অবস্থা তখন মুক্তমনারা কী করবে? যেহেতু মুক্তমনারা চায় সবাই সঠিক বিজ্ঞান গ্রহণ করুক, সত্যকে জানুক তাহলে কি তারা ধার্মিকদের মিথ্যা তত্ত্বগুলোকে কি যুক্তি, তর্ক ও প্রমানের মাধ্যমে ভুল প্রমান করবে না? আর যদি ধার্মিকদের কথা তারা মেনে নেই তাহলে তারা কেমনে মুক্তমনা হলো?

ধার্মিকরা যখন বিজ্ঞান, মুক্তচিন্তাকে আঘাত করে সমাজে ভুল তত্ত্ব প্রচার করবে তখন কি মুক্তমনারা বসে বসে আঙ্গুল চুষবে? কিন্তু যখনি তারা যুক্তি ও বিজ্ঞান দিয়া ধার্মিকদের ভুল প্রমান করবে তখন কি স্বাভাবিকভাবে যুক্তি ও কথাগুলো ধর্মের বিপক্ষে যাবে না? ধার্মিকরা বিজ্ঞান ও ধর্ম নিয়া হাজার হাজার ভুল তত্ত্ব দিবে আর মুক্তমনাদের যুক্তি ও বিজ্ঞান দিয়া তাদের কথা ভুল প্রমান করা যাবে না সেটা তো ঠিক হতে পারে না।