ক্যাটেগরিঃ জানা-অজানা

“মানুষেরে ঘৃণা করি
ও’ কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কেতাব সেই মানুষেরে মেরে ।
পুজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল !–মুর্খরা সব শোনো
মানুষ এনেছে গ্রন্থ,–গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো । ”
—–মানুষ — কাজী নজরুল ইসলাম

প্রশ্ন: বানর থেকে যদি মানুষ হয় তাহলে কেন আমরা বানর থেকে মানুষ হতে দেখি না?
আপনি এই প্রশ্নটা করবেন যদি বিবর্তন সম্পর্কে আপনার প্রাথমিক গিয়াণ না থাকে।আর আপনি যদি প্রাইমারি স্কুল এ পরেন তাহলে প্রশ্নটা করা ঠিক আছে। আপনি কেন মনে করেন যে দুনিয়ার বড় বড় বিজ্ঞানীরা এই প্রাথমিক একটা প্রশ্নের উত্তর না জানিয়া বিবর্তন কে গ্রহণ করেছে? আপনি কি মনে করেন যে ওরা সত্যি খুব আহমক? আপনি হয়ত দুনিয়ার বিজ্ঞানীদের আহমক মনে করতে পারেন কিন্তু সেটা টিক না। আপনি যদি তাদের আহমক মনে করেন সেটা আপনার গিয়ানের দুর্বলতা হবে।


Ape, মানুষ, শিল্পান্জির পূর্বপুরুষ

এবার আপনার প্রশ্নটার উত্তর দিচ্ছি।

প্রথমেই বলি মানুষ বর্তমান বানর থেকে আসে নাই। মানুষ ape নামক বানর সদৃশ প্রাণী থেকে বিবর্তিত হয়েছে। এই ape থেকে মানুষ, গরিলা, শিল্পানজি, বানর সহ আরো কিছু প্রাণী বিবর্তিত হয়েছে।Ape যখন বর্তমান প্রজাতিগুলোতে বিবর্তিত হয়ে গেছে তখন ওই ape আর থাকে না। কারণ নতুন প্রজাতিতে পরিবর্তন হয়ে গেছে। আর যেসব ape পরিবর্তিত হতে পারে নাই ওরা জীবন সংগ্রামে টিকতে না পেরে ধংশ হয়ে গেছে।

বর্তমান প্রজাতিগুলো ও এখন বিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমান প্রজাতিগুলো এখন বিবর্তিত হচ্ছে তাহলে কেন আমরা দেখি না?
বিবর্তন অত্যান্ত সময় সাপেক্ষ বেপার। ছোট একটা পরিবর্তন হতে হাজার বছর লাগে। আমাদের জীবন মাত্র ৬০/৭০ বছরের। এই ৬০/৭০ বছরে বিবর্তনের কারণে যে পরিবর্তন আসে টা খুব ছোট। খুব ছোট পরিবর্তন হয় বলে আমরা দেখতে পাইনা। ধরেন আপানর হাত ও পায়ের নখ বিবর্তনের মাধ্যমে যদি পরিবর্তিত হয়ে লাল রঙের হওয়া শুরু করে তাহলে সম্পূর্ণ লাল রঙের হতে কমপক্ষে ১০০০ বছর দরকার।

যারা বিবর্তনে বিশ্বাসী নয় তারা কি নিচের প্রশ্নগুলোর যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে পারবে?
১. সব প্রাণী ও উদ্ভিদ একটা সাধারণ উপাধান DNA দিয়ে তৈরী। কেন?
২. কেন ফসিলগুলো মাটির নিচে পাওয়া যায়? কেন এগুলোকে সারিবদ্ধভাবে সাজালে বর্তমান প্রজাতিগুলো পর্যন্ত ধারাবাহিক বিবর্তন পাওয়া যায়?
৩. কেন প্রানীগুলোর মধ্যে জেনেটিক মিল আছে? মানুষের সাথে শিল্পান্জির জেনেটিক মিল ৯৬%, বিড়ালের সাথে ৯০%, গরুর সাথে ৮০%, ইদুরের সাথে ৭৫%।
৪. কেন প্রানীদের মধ্যে এত মিল? সব প্রাণীর রক্ত আছে, মাংশ আছে, চামড়া আছে, হাড্ডি আছে, হাত-পা-মুখ-মাথা ইত্যাদি আছে।
৫. যদি ঈশ্বর মানুষকে আলাদাভাবে তৈরী করতেন তাহলে কি মানুষের সাথে প্রানীদের মিলগুলো না থাকায় কি অধিক যুক্তিসঙ্গত ছিল না?

বিবর্তনের একটি সাধারণ উদাহরণ:
এন্টিবাযোটিক্স ব্যাকটেরিয়া কে ধংশ করে। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া বিবর্তিত হয়ে এন্টিবাযোটিক্স প্রতিরোধী হয়ে যায়। তখন এন্টিবাযোটিক্স আর ব্যাকটেরিয়া কে আর ধংশ করতে পারে না। ব্যাকটেরিয়া দুইভাবে এন্টিবাযোটিক্স প্রতিরোধী হতে পারে। ১. জেনেটিক পরিবর্তন ঘটিয়ে, ২. অন্য ব্যাকটেরিয়া থেকে প্রতিরোধী ক্ষমতা অর্জন করে।
১. ব্যাকটেরিয়া এন্টিবাযোটিক্স কে প্রতিহত করতে দিয়ে তাদের ডিএনএ পরিবর্তন করে ফেলে। যেহেতু ডিএনএ প্রোটিন তৈরী করতে নির্দেশনা দেয়, সেহেতু ডিএনএ তে পরিবর্তন হলে প্রোটিন তৈরির নির্দেশনায় ও পরিবর্তন হবে। তাই নতুন প্রটিন তৈরী হবে যা এন্টিবাযোটিক্স চিনতে পারবে না।
২. প্রতিটা ব্যাকটেরিয়া তে প্রকৃতিগত ভাবে কিছু antibiatic প্রতিরুধি জিন থাকে। একটা ব্যাকটেরিয়া কয়েকটা পদ্ধতিতে অন্য ব্যাকটেরিয়া থেকে antibiatic প্রতিরোধী জিন গ্রহণ করতে পারে। একটা সাধারণ পদ্ধতি হলো conjugation । এই পদ্ধতির সাহায্যে একটা ব্যাকটেরিয়া তার এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন সহ জেনেটিক বস্তুগুলো কে অন্য ব্যাকটেরিয়া র মধ্যে স্তানান্তর করতে পারে। নতুন এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন পেয়ে অন্য একটা ব্যাকটেরিয়া তখন শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে যায়। তাছাড়া একটা ব্যাকটেরিয়া আরেকটা ব্যাকটেরিয়া র DNA ও গ্রহণ করতে পারে। একটা ব্যাকটেরিয়া যখন মারা যায় তখন সে তার এন্টিবায়োটিক প্রতিরুধি জিনযুক্ত ডিএনএ মুক্ত করে দেয় আর সেগুলো অন্য ব্যাকটেরিয়া গ্রহণ করে আরো বেশি এন্টিবায়োটিক প্রতিরুধি ব্যাকটেরিয়া তে পরিনত হতে পারে।

মানব দেহে বিবর্তনের কিছু চিন্হ এখনো আছে।


Appendix

১. এপেন্ডিক্স: এপেন্ডিক্স এ কোনো প্রবলেম হলে ডাক্তার রা খুব সহজে এপেন্ডিক্স কে কেটে ফেলে দিতে পারেন কারণ মানব শরীলের জন্য এপেন্ডিক্স দরকারী নয়। তাহলে কেন এই অঙ্গটি আমাদের শরীলে যেটার দরকার নেই? বিজ্ঞানীরা ডার উইন এর সাথে একমত যে মানুষ যখন তৃনভুজি ছিল তখন ঘাস জাতীয় খাবারের মধ্যে cellulose নামক একটা উপাধান কে প্রক্রিয়াজাত করার জন্য এই এপেন্ডিক্স এর দরকার ছিল। কিন্তু এটা এখনো বিলুপ্ত হচ্ছে না কারণ বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে এপেন্ডিক্স এখন শরীলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে ও কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। তাই বলা যায় যে অদূর ভবিষ্যতে এপেন্ডিক্স বিলুপ্ত হবে না।


Coccyx

২. Coccyx: বানরের মত আমাদের ও লেজ ছিল। বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে আপনার মেরুদন্ডের প্রায় শেষ মাথায় একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করুন।
মেরুদন্ডের শেষ মাথায় বিলুপ্ত লেগের যে অবশিষ্টাংশ সেটাই হলো Coccyx । মানুষের যখন লেজ ছিল তখন এই Coccyx লেজকে শরীলের সাথে সংযুক্ত করে রাখত। লেজের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে লেজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে, রয়ে গেছে Coccyx । কেন Coccyx বিলুপ্ত হচ্ছে না? এটা এখন কিছু পেশির কাজে সহায়তা করে। তাছাড়া এটা বসতে ও হেলান দিতে ও সাহায্য করে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।


Darwin’s tubercle

৩. Darwin’s tubercle: কানের উপরের প্রায় মধ্যভাগের ছোট এক টুকরা মাংশ পিন্ড হলো Darwin’s tubercle | এটা আসতে আসতে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এখন প্রায় ১০.৪% মানুষের মধ্যে দেখা যায়। এটা বানর সহ কয়েকটি প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়। এটা সাধারনত কোনো শব্দের উত্স চিন্নিত করতে প্রানীদের সাহায্য করে বলে ধারণা করা হয়।


তৃতীয় নেত্রপল্লব
৪. তৃতীয় নেত্রপল্লব (Third Eyelid): তৃতীয় নেত্রপল্লব হলো চোখের উপর একটা পর্দা যা প্রয়োজনে খোলা ও বন্ধ করা যায়। এটা স্তন্যপায়ী প্রানীদের মাঝে দেখা যায় না কিন্তু পাখি, সরীসৃপ ও মাছের চোখে আছে। মাছের চোখে যখন কোনো শক্ত কিছু পড়ে তখন মাছ এটার সহজে ওই বস্তু কে দুরে সরাতে পারে। পাখি যখন তার বাচ্চাদের খাবার দেয় তখন ক্ষুধার্থ বাচ্চারা পাখির চোখে টুকর দিলে তৃতীয় নেত্রপল্লব পাখির চোখ কে রক্ষা করে। কিন্তু মানুষের চোখে তৃতীয় নেত্রপল্লন খুব সামান্য পরিমানে আছে।


আক্কেল দাত
৫. আক্কেল দাত (Wisdom Teeth): মানুষের পূর্বপুরুষ রা যখন তৃনভুজি ছিল তখন শরীলের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য তাদের প্রচুর পরিমানে খেতে হত। আর একারণে তখন আক্কেল দাতের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম। কিন্তু এখন যেহেতু মানুষের খাবার ভিন্ন তাই আমাদের চুয়াল ছোট হয়ে যাচ্ছে ও আক্কেল দাত অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছে। কিছু মানুষের আক্কেল দাত এক্কেবারে নেই, আর কিছু মানুষের ১-৪ টা আছে।

আমরা বিবর্তিত হচ্ছি:
১.ল্যাকটোজ সহনশীলতা (Lactose tolerance): পৃথিবীর বেশিরভাগ জায়গায় প্রাপ্ত বয়স্করা দুধ খেতে পারে না। কারণ মানুষের শরীল lactase নামক একটা enzyme তৈরী করা বন্ধ করে দেয়। এই enzyme দ্বারা দুধের চিনি হজম হয়। এ জন্য অনেক মানুষ দুধ খেলে ডায়রিয়া, বমি, পেট-ফাঁপা ইত্যাদিতে ভোগে।
কিন্তু প্রায় ৭০% ইউরোপিয়ান রা সহজে দুধ খেতে পারে। তাদের শরীল lactase তৈরী করে এখনো। এটা এই কারণে হতে পারে না সূর্যালোক ইউরোপে কম তাই তারা সূর্য থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পায়না বলে তাদের দুধের ভিটামিন ডি খুব প্রয়োজন। আবার যেহেতু দুধ পানির একটা উত্কৃষ্ট বিকল্প সে কারণে ও হয়ত ইউরোপের মানুষের কাছে দুধ সহনশীল। যখন খাদ্য সংকট দেখা দেয় তখন মানুস দুধ কে বিকল্প খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। এই কারনেও হয়ত ইউরোপের মানুষ দুধ সহজে খেতে পারে।
যাইহোক গবেষণায় দেখায় গেছে যে মানুষের শরীলে দুধের সহনশীলতা আসতে আসতে বাড়ছে।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: ২০০৭ সালে একদল গভেষক দেখলেন যে মানুষের সরিলে ১৮০০ জিন ৪০০০০ বছর ধরে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। তাদের বেশিরভাগ সংক্রামক রোগ (যেমন মেলেরিয়া) প্রতিরোধ করে। আরেকটা গবেষণায় দেখা গেছে যে শহরের মানুষ তুলনামূলকভাবে বেশি যক্কা ও কুষ্ঠব্যাধি প্রতিরোধী।
caspase-12 জিন আরেকটা সুন্দর উদাহরণ।২০০৫ সালে Wellcome Trust Sanger Institute এর গবেষকরা দেখলেন যে caspase-12 জিন টা আমাদের শরীলে আসতে আসতে অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে।তার কারণ হলো এই জিন টা অকার্যকর থাকলে bacterial ইনফেকশন কে বেশি প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু কার্যকর থাকলে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন থেকে যায়। যদি এই জিন টা অকার্যকর হলে ভালো হয় তাহলে কেন আমাদের শরীলে এটা কার্যকর ছিল। তার কারণ হতে পারে যে পূর্বে হয়ত কোনো কারণে এই জিন টার কার্যকর থাকা বেশি দরকার ছিল।
আমরা আসতে আসতে ডায়াবেটিকস, এইডস, হৃদ রোগ প্রতিরুধি হচ্ছি।

৩. আমরা ধীরে ধীরে চুল হারাচ্ছি: আমাদের পূর্বপুরুষ ছিল লোমে ঢাকা। আমাদের চাচাত ভাই শিল্পানজি সহ প্রায় সব স্তন্যপায়ী প্রাণী দের শরীল লোমে ঢাকা। আমাদের ও শরীল লোমাবৃত ছিল কিন্তু আমরা হারিয়ে ফেলেছি।
লোমহীন শরীল বেশি যৌন আকর্ষণ তৈরী করে। মেয়েদের সরিল বেশি আকর্ষনীয় হবার জন্য তাদের সরিলে লোম পুরুষদের চেয়েও কম।
তাছাড়া মানুষ যখন কাপড় পরা শিখল ও বিভিন্ন ভাবে শরীল কে প্রয়োজন মত ঠান্ডা ও গরম রাখা শিকল তখন আমাদের শরীলের লোমের প্রয়োজনীয়তা রইলো না।আমাদের মাথার চুল রয়ে গেছে তার কারণ হতে পারে যে সূর্যের আলো ও ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাবার জন্য চুলের প্রয়োজন রয়েছে।

৪. আমরা লম্বা হচ্ছি: গত দুই শতাব্ধি ধরে আমরা ধীরে ধীরে লম্বা হচ্ছি। গত ১৫০ বছরে মানুষের গড় উচ্চতা প্রায় ১০ সেন্টিমিটার (প্রায় ৪ ইঞ্চি) বেড়েছে। একটা গভেসনায় দেখা গেছে যে ১৫ টি ইউরোপিয়ান দেশে ১৮৭০ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত পুরুষদের গড় উচ্চতা ১১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ১৮৭০ সালে ব্রিটেনে ২১ বছর বয়সী পুরুষের গড় উচ্চতা ছিল ১.৬৭। ১৯৭১-১৯৭৫ সালে সে দেশে ২১ বছর বয়সীদের গড় উচ্চতা বেড়ে ১.৭৭ সেন্টিমিটার হয়েছে।
কেন এই হটাত উচ্চতা বৃদ্ধি? উচ্চতা বৃদ্ধিতে পুষ্টিকর খাবার খুব প্রয়োজন। যেহেতু দিনে দিনে মানুষের পুষ্টিকর খাবার গ্রহনের সুযোগ বাড়ছে, মানুষ আগের চাইতে বেশি পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে তাই মানুষের গড় উচ্চতাও বাড়ছে। তাছাড়া এখন মানুষ শারীরিক অসুস্থতা কে আগের চাইতে সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। উন্নত স্যানিটেশন সিস্টেম ও ছুট পরিবার মানুষের উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

৫. ক্ষুদ্রতর দাত: আমাদের আক্কেল দাত উটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে অনেক মানব জাতিতে আক্কেল দাত প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাছাড়া আমাদের দাতগুলো আসতে আসতে ছোট হয়ে যাচ্ছে। মিশিগান উনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানীদের মতে গত ১০০০০ বছর ধরে আমাদের দাত দিগুন গতিতে ছোট হচ্ছে। বরফ যুগের শুরু থেকে প্রতি ২০০০ বছরে শতকরা ১ ভাগ হারে আমাদের দাতগুলো ছোট হচ্ছে। যখন মানুষ রান্না করতে শিখল তখন মানুষের পক্ষে খাওয়া আরো সহজ হয়ে গেল আর তাই দাতের বেবহার ও তুলনামূলকভাবে কমে গেল। তাছাড়া মানুষ আগের তুলনায় অধিক পুস্তি সমৃদ্ধি খাবার খাচ্ছে যার কারণে পরিমানে কম খাবার খেয়েও অধিক পুস্টি পাচ্ছে। আর তাই দাতের বেবহার ও কমে যাচ্ছে।

কিছু প্রাণী যেগুলো আমাদের চোখের সামনে বিবর্তিত হচ্ছে:

ছোট একটা পরিবর্তন হতে প্রায় ১০০০ হাজার বছর সময় লাগে। আর তাই আমাদের চোখের সামনে সবকিছু বিবর্তিত হচ্ছে কিন্তু আমরা সহজে বুজতে পারি না।


হাতি তার দাত হারাচ্ছে: হাতি শিখারী থেকে হাতিদের রক্ষা করার জন্য শুধু সচেতন মানুষরাই সচেতন নয়, প্রকৃতি ও সচেতন।ধারণা করা হয় যে ১৯৭০ সালের শেষের দিকে ১.২ মিলিয়ন আফ্রিকান হাতি ছিল কিন্তু এখন আছে মাত্র ৫ লক্ষের মত। হাতির মূল্যবান দাতের জন্য প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ হাতি হত্যা করা হয়।
শেষ পর্যন্ত হাতি নিজেই নিজেকে রক্ষা করার জন্য বিবর্তিত হচ্ছে। গত ১৫০ বছরে হাতির দাতের আকার খুব বেশি ছোট হয়ে গেছে। আফ্রিকান জার্নাল অফ ইকোলজি তে প্রকাশিত একটা গভেষনা মূলক লেখায় দেখা গেছে যে South Luangwa National Park, Zambia তে দাত্হীন মহিলা হাতির সংখা শতকরা ১০.৫ থেকে শতকরা ৩৮.২ ভাগে বেড়ে গেছে।এশিয়ান হাতির কেতরে ও একই বেপার লক্ষ্য করা গেছে। আগে শতকরা ২-৫ ভাগ পুরুষ হাতি ছিল দাতহীন। কিন্তু ২০০৫ সালের পূর্বে দাতহীন হাতির সংখা শতকরা ৫-১০ ভাগে উন্নীত হয়েছে।


অস্ট্রলিয়ান বেঙের বিবর্তন: ১৯৩০ সালে দক্ষিন আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া কিছু বেঙ আনলো যাতে বেঙ গুলো অস্ট্রলিয়ার আখ বাগানের পোকা মাকড় খাবার জন্য। অস্ট্রলিয়ার নতুন পরিবেশে বেঙ গুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেতে লাগলো। কয়েক বছর পরে অস্ট্রলিয়ান গভেষকরা দেখলেন যে ওই বেঙ গুলোর পিছনের পা তাদের সজাতি দক্ষিন আমেরিকার বেঙ গুলোর পা থেকে অনেক বেশি লম্বা হয়ে গেছে। ওরা আরো দ্রুত লাফাতে পারে।


হাডসন নদীর মাছের বিবর্তন: ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত জেনারেল ইলেকট্রনিক্স প্রায় ১ মিলিয়ন পাউন্ড PCBs হাডসন নদীতে ফেলে দিয়েছিল। PCBs মাছ ও পাখিকে মেরে ফেলতে পারে ও মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটা মানুষের সরিলে ক্যান্সার সহ মারাত্মক রোগ তৈরী করতে পারে। ১৯৭৯ সালের দিকে PCBs নিষিদ্ধ করা হয় কিন্তু হাডসন নদীর নিচে অনেক PCBs থেকে যায়। এখন বিজ্ঞানীরা দেখলেন যে গত ৬০ বছর ধরে The Atlantic Tomcod বিবর্তিত হয়ে PCBs প্রতিরোধী হয়ে গেছে।


টিকটিকির বিবর্তন: ১৯৩০ সালের দিকে সম্ববত আলাবামা বন্দর হয়ে দক্ষিন আমেরিকা থেকে fire ants USA তে আসে। টিকটিকি ওই fire ants গুলোর কাছে ছিল বড় অসহায়। ১২ টা fire ants তিন ইঞ্চি লম্বা একটা টিকটিকিকে মিনিটেই মেরে ফেলতে পারে। যখন fire ants টিকটিকি কে আক্রমন করত তখন টিকটিকি চুপচাপ বসে থেকে আত্মরক্ষা করতে চাইতো। কিন্তু fire ants এর কাছে টিকটিকি সহজে ধরা পরত।
কিন্তু তখন কিছু টিকটিকি একটা নাচ শিখল যার দ্বারা fire ants আক্রমন প্রতিহত করলো। আবার সেই সাথে তাদের পা লম্বা হয়ে গেল যাতে দ্রুত দুরে সরে যেতে পারে। এই দুইটা নতুন প্রতিরক্ষা কৌসল তারা তাদের পরবর্তী বংশধরদের কে দিয়ে দিল।

কিভাবে বিবর্তন সংঘটিত হয়:

১. প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection): দুনিয়াতে প্রতিটা প্রাণী বেছে থাকার জন্য সবসময় যুদ্ধে লিপ্ত। বেছে থাকার এই যুদ্ধে সেই জয়ী হয় যে সর্বাধিক যুগ্য। দুনিয়াটা যুগ্গদের জন্য।
যেসব প্রাণীর বৈশিষ্টগুলো (traits) প্রাকৃতিক পরিবেশে বেচে থাকার উপযুগী হয় তারাই যুগ্গতম।

যুক্তরাজ্যে হালকা ও গাঢ় রঙের peppered moth পাওয়া যেত। শিল্প বিপ্লবের সময় গাছের গুড়িতে বসবাস করা পতঙ্গগুলোর উপর ধূলো পড়ায় সেগুলোর রঙ গাঢ় হয়ে গিয়েছিল, এতে করে তারা সহজেই শিকারীর হাত থেকে নিস্তার পেত। এভাবে গাঢ় রঙের peppered moth বেশি করে সন্তান রেখে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। প্রথম গাঢ় রঙের পতঙ্গটি ধরার পঞ্চাশ বছর পর কারখানা-সমৃদ্ধ ম্যানচেস্টার এলাকায় প্রায় সব পতঙ্গ গাঢ় রঙের ছিল। কিন্তু ১৯৫৬ সালে Clean Air Act পাস হওয়ার পর পরিবেশ অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় গাঢ় রঙের পতঙ্গগুলো দৃষ্টিকটু হয়ে পড়ায় শিকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হয়েছিল। এতে করে গাঢ় রঙের পতঙ্গগুলো আবার দুর্লভ হয়ে পড়ে। এটি প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটি বাস্তব উদাহরণ।
চিতাহ বাঘ তুলনামূলকভাবে অন্যান্য মাংসাশী প্রাণীর চেয়ে শারীরিকভাবে দুর্বল। সিংহের মত তার চুয়ালে এত শক্তি নাই। শারীরিক শক্তির দিক দিয়েও দুর্বল। কিন্তু চিতাহ এখনো টিকে আছে কারণ তার আছে অবিশ্সাস্য গতি।কিন্তু তার এই দুর্দান্ত গতির মধ্যে ও একটা দুর্বলতা আছে। চিতাহ তার সর্বুচ্চ গতি মাত্র ৩ সেকেন্ড রাখতে পারে। ৩ সেকেন্ড এর বেশি সময় যদি সে এই গতিতে দৌড়ে তাহলে তার সরিলে উত্তাপ প্রচন্ড বেড়ে যায় ও সে মারা যেতে পারে। তাকে ৩ সেকেন্ড এর মধ্যে কোনো শিকার ধরতে হয় আর শিকারের পিছনে দৌড়ানোর সময় প্রতিটা মুহূর্ত তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সামান্য ভুল হলেও শিকার পালাবে। চিতা কে যদি জীবন সংগ্রামে ঠিকতে হয় তাহলে তার জরুরি একটা বিবর্তন দরকার।

প্রাকৃতিক নির্বাচন কয়েক ধরনের হতে পারে।

ক. স্থিরকারী নির্বাচন (Stabilizing selection) : দুইটা চূড়ান্ত বৈশিষ্টের নির্বাচন যদি বেছে থাকার প্রতিকূলে হয় তখন স্থিরকারী নির্বাচন কার্যকরী হয়ে যায়। যেমন একটা গাছের উচ্চতা স্থিরকারী নির্বাচন হিসেবে কাজ করতে পারে। একটা গাছের উচ্চতা কম হলে সূর্যালোক পাবার জন্য অন্য গাছগুলোর সাথে প্রতিদ্ধনিতা করে টিকতে পারবে না। আবার উচ্চতা বেশি হলে প্রতিকুল আবহাওয়ায় টিকতে পারবে না। একত্রে মধ্য উচ্চতার গাছের সংখা বৃদ্ধি পাবে।

খ. নির্দেশমূলক নির্বাচন (Directional selection) : যদি একটা পরিবর্তন প্রকৃতিতে টিকে থাকার অনুকূলে হয় তখন ওই পরিবর্তিত বৈশিষ্টের অধিকারীরা টিকে থাকতে সমর্থ হয়। একটা শক্ত খোসাযুক্ত শামুক একটা হালকা খোসাযুক্ত শামুকের চেয়ে বেশি টেকসই।

গ. ধ্বংসাত্মক নির্বাচন (Disruptive selection) : যখন পরম বৈশিষ্ট মধ্যম বৈশিষ্টের চাইতে বেশি সুবিধাজনক হয় তখন ধ্বংসাত্মক নির্বাচন কার্যকরী হয়।
মনে করুন একটা সাদা ও কালো পাথরের পাহাড়ে তিন রঙের খরগুশ আছে। সাদা, কালো ও ধুসর রঙের। তখন সাদা খরগোস রা সহজে সাদা পাথরে ও কালো খরগোশ রা কালো পাথরে লুকিয়ে সহজে শিকারী প্রাণী থেকে আত্মরক্ষা করতে পারবে। কিন্তু ধসর রঙের খরগোশরা তুলনামূলকভাবে বেশি শিখারী প্রানীদের শিখরে পরিনত হবে। আসতে আসতে ওই পাহাড়ে সাদা ও কালো খরগোস সংখায় বৃদ্ধি পাবে ও ধুসর রঙের খরগোস রা সংখায় কমবে।

ঘ. যৌন নির্বাচন (Sexual selection) : যৌন নির্বাচন একই লিঙ্গের প্রাণীদের প্রতিযোগীতার উপর যেমন কাজ করতে পারে, তেমনি একাধিক যোগ্য সঙ্গী থেকে সবচেয়ে যোগ্য সঙ্গীটির কোন একটি বিশেষ লিঙ্গ দ্বারা নির্বাচিত হওয়ার উপরও কাজ করতে পারে। সাধারণত স্ত্রী প্রাণীটি একাধিক পুরুষ প্রাণী হতে একজন যৌনসঙ্গী নির্বাচন করে। যেহেতু সন্তান লালন-পালনে স্ত্রী প্রাণীটির বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি, তাই সে সবচেয়ে উন্নতমানের জিনের ধারক পুরুষ প্রাণীটিকেই সঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করে।
যৌন নির্বাচনের জন্য সুন্দর একটা উদাহরণ হলো ময়ুর। সুন্দর পেখমের পূরুষ ময়ুর সহজে স্ত্রী ময়ুর কে আকৃষ্ট করে। আর তাই ময়ুরের পেখম এত সুন্দর।

পরিবেপ্তি বা মিউটেশন (mutation) : জীবদেহের ডিএনএ ক্রমবিন্নাসে স্থায়ী পরিবর্তন হলো মিউটেশন। কিছু মিউটেশন উপকারী, কিছু মিউটেশন অপকারী। তবে বেশীরভাগ মিউটেশন উপকার বা অপকারী কোনটাই নয়। একটা ক্ষতিকর মিউটেশন কোনো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কে অকার্যকর করে দিতে পারে বা অসুস্ততার সম্ভাবনা কে বাড়িয়ে তুলে। আবার উপকারী মিউটেশন উত্পাদনশীল ও পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ার উপযুগী করে তুলে। উপকারী মিউটেশন আর কারণে নতুন কোনো কাজ করার ক্ষমতা ও বাড়তে পারে।

মিউটেশন জেনেটিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে DNA এর বড় অংশের প্রতিলিপি তৈরী করতে পারে। নতুন জিন গুলো বিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন: মানুষের চোখ ৪ তা জিন বেবহার করে কোনো কিছু কিছু দেখতে। ৩ টা বেবরিত হয় বিভিন্ন রং দেখতে ও একটা রাতে দেখার জন্য বেবরিত হয়।

Germ line mutations ও somatic mutations এই দুই ধরনের মিউটেশন হতে পারে। Germ line mutations জননকোষে ঘটে ও পরবর্তী বংশধরের মধ্যে চলে যায়। কিন্তু somatic mutations জননকোষে হয় না বলে পরবর্তী বংশধরের মধ্যে যায় না। নিঃসন্দেহে, মিউটেশন জেনেটিক পরিবর্তনের একটা উত্স ও বিবর্তনের জন্য প্রধান সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

অধিকাংশ মিউটেশন প্রাকৃতিকভাবে হয়। যখন একটা কোষ নিজেকে ভাগ করে তখন কোষ DNA এর একটা কপি তৈরী করে। অনেক সময় তৈরিকৃত কপি টা সঠিক হয় না। এই সামান্য পার্থক্য DNA ক্রম ধারায় পরিবর্তন তৈরী করে দেয়। আবার অনেক মিউটেশন পরিবেশগত কারণে হয়। যেমন কিছু কিছু রাসায়নিক ও বিকিরণ DNA ভেঙ্গে দিতে পারে।

জেনেটিক নিষ্ক্রিয়তা (Genetic Drift) : জেনেটিক নিষ্ক্রিয়তা হলো উদ্দেশ্যহীন ঘটনা যা প্রকৃতিতে হঠাত ঘটে এবং এর কারণে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে নমুনা ত্রটির (sampling error) ফলে allele frequency তে পরিবর্তন ঘটে । জেনেটিক নিষ্ক্রিয়তার জন্য কোনো প্রজন্মে কিছু allele এক্কেবারে হারিয়ে যেতে পারে, এমনকি যদি ওগুলো এমন উপকারী ও হয় যা বিবর্তন ও উত্পাদনে সহায়তা করে।
Allele হলো এক বা তার অধিক ভিন্ন প্রকৃতির জিন যা mutaion এর কারণে ঘটে ও ক্রোমোসোম এর একই জায়গায় থাকে।

Population bottleneck ও founder effect হলো জেনেটিক ড্রিফট এর দুইটা উদাহরণ। এই দুইটা মূলত ক্ষুদ্র অধিবাসীদের মধ্যে হয়।

Population bottleneck : পরিবেশগত কারণে যদি কোনো অঞ্চলের জীবগুষ্টি হটাত কমে যায় তখন Population bottleneck ঘটতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন: ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি হটাত কোনো অঞ্চলের জীবগুষ্টি কমাতে পারে। একত্রে কিছু জিন হটাত কোনো কারণ ছাড়া ধংশ হয়ে যেতে পারে। পরিনামে এটা জেনেটিক বৈচিত্রতায় বিশাল একটা সংকুচন করে দেয়। ক্ষুদ্র জীবিত জীবগুষ্টি তখন তাদের আসল জেনেটিক গঠন থেকে অনেক দুরে সরে যায়।

Founder effect : যখন কিছু পৃথক সত্তা দাতা নতুন জীবগুষ্টি তৈরী হয় যারা পূর্বে কোনো বড় জীব্গুষ্ঠির অধীনে ছিল, তখন যে জেনেটিক পরিবর্তনের ক্ষতি ঘটে তা হলো Founder effect । এই নতুন জিব্গুষ্ঠী পূর্বের বড় জিব্ঘুষ্ঠির জেনেটিক বৈচিত্রতা পায় না। কারণ নতুন জিব্গুষ্ঠী খুব ক্ষুদ্র এবং ভৌগলিক ও সামাজিকভাবে তারা আলাদা। কিছু জেনেটিক বৈশিষ্ট ও তাদের মধ্যে প্রভাবশালী হচ্ছে। এই নতুন বৈশিষ্ট গুলো তাদের পরবর্তী প্রজন্মে কিছু নতুন রোগের তৈরী করতে পারে। কিছু কিছু কেতরে তারা নতুন প্রজাতি তৈরী করে।

বংশগতি
বাবা-মা থেকে যে সন্তানটি জন্ম নেয়, তার বৈশিষ্ট্যগুলো তার বাবা-মা’র খুব কাছাকাছি হয়। কারন, প্রজননের সময় বাবা-মা দুজনই তাদের DNA-এর প্রতিরূপ সৃষ্টি করে, যেটি তাদের সন্তানের মধ্যে গিয়ে পুনর্গঠিত হয়। ফলে সন্তানের DNA-এর গঠন তার পিতামাতা থেকে কিছুটা হলেও পৃথক থাকে। ফলে সেই সন্তানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও হয় পিতামাতা থেকে কিছুটা ভিন্ন। সন্তান কখনও তার পিতামাতার অবিকল প্রতিরূপ (ক্লোন, ইং: clone) হয় না; বাবা-মা আর সন্তান-সন্ততি প্রত্যেকেই ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হয়ে থাকে। যদি পিতামাতা আর তাদের সন্তানদের DNA হুবহু একই রকম হত, তাহলে জনগোষ্ঠী কখনও পরিবর্তিত হত না, অর্থাৎ বিবর্তন হত না।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে – DNA কেন হুবহু প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে না? কারণ DNA একটি অত্যন্ত জটিল অনু, আর প্রতিরূপের সময় সামান্য ত্রুটি (error) তথা মিউটেশন (mutation) বা পরিব্যপ্তি হলেও তা সন্তানের দেহে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়। জেনেটিক বৈচিত্র্যের প্রধান উৎস আসলে যৌন প্রজনন। এই প্রক্রিয়ায়, পিতামাতা হতে আগত অনেকগুলো DNA অনু এলোপাথাড়িভাবে বিন্যস্ত হয়ে সন্তানের দেহে সম্পূর্ণ নতুন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়। মায়োসিস (meiosis) বা হ্রাসমূলক বিভাজনের মাধ্যমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরির সময় যথাক্রমে বাবা এবং মা উভয়ের DNA ভাগ হয়ে যায়। এরপর শুক্রানু দ্বারা ডিম্বানুর নিষিক্তকরণের সময় এ পৃথক DNA তন্তু (strand) মিলিত হয়ে সন্তানের জন্য সম্পূর্ণ নতুন DNA গঠন করে। একারণেই যৌনপ্রজননক্ষম প্রজাতির মধ্যে অযৌন জননক্ষম প্রজাতির চেয়ে বেশি বৈচিত্র্য দেখা যায়। একই কারণে যৌনপ্রজননীয় প্রজাতি, অযৌন প্রজাতির চেয়ে দ্রুত বিবর্তিত হয়।

550 million years of human evolution in one minute [animation] on youtube.

Source:
1. https://en.wikipedia.org/wiki/Evolution
2. https://en.wikipedia.org/wiki/Genetic_drift
3. https://en.wikipedia.org/wiki/Natural_selection
4. http://www.livescience.com/7027-toxic-toads-evolve-long-legs-australia.html
5.http://nectunt.bifi.es/to-learn-more-overview/mechanisms-of-evolutionary-change/
6. Origin of Species – Charls Darwin
7. Life on Earth – David Atteuborough
8. National Geography
9. some more websites.