ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

প্রাচীন চীনের সম্রাটদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনার উদ্ভব হয় ভারত ও নেপাল থেকে আসা বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে দিয়ে । তার আগে যার যার মত করে নানা রকম উৎস থেকে ঈশ্বর বা ঐরকম মহাশক্তির পূজা করতে দেখা যেত সম্রাটকে । আর তার ‍অনুগামীরা সম্রাটকে খুশি করতে সেই শক্তিকেই মনেপ্রাণে স্থান দিত ।  তো, বৌদ্ধধর্মের আগমনের ফলে নানাভাবে ধর্মর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট অনুসারে , সাম্রাজ্যভিত্তিক রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করে চীনের ধর্মগুরুরা । যার মধ্যে অন্যতম তিব্বতের দালাইলামা , বা আরও অনেক বৌদ্ধনেতা । 


ছিং সাম্রাজ্যের সম্রাট তখন ছিয়েনলোং, দালাইলামা ‍নামক বিশাল এক প্রভাবক তখন তিব্বত সহ চিনের মূল ভূখন্ডে খুব জনপ্রিয় । সম্রাট দেখলেন সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা এবং এর ব্যপ্তির জন্য লামাদের নেতাকে ঠান্ডা রাখা দরকার । রাজধানী থেকে একটু দূরে হ,পেই প্রদেশের ছাংদা নামক জায়গায় ৬৭ বছর ধরে নির্মিত বাগান প্রাসাদ যা সম্রাটরা গ্রীষ্মকালীন সময়ে আমোদের জন্য ব্যবহার করতেন , সেখানে আমন্ত্রণ জানালেন দালাইলাম‍াকে । নানা রকম আমোদ প্রমোদের সাথে প্রাসাদে দিন কাটাতে লাগলেন দালাই লামা। ‍তাকে আরও খুশি করতে ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হল মিনি পোতালা প্রাসাদ । 

যার নির্মাণশৈলী তিব্বতের দালাইলামার বাসভবন ও রাজনৈতিক মূলভবনের একেবারেই কাছাকাছি । যদিও সবাইকে বলা হল সম্রাটের মায়ের জন্মদিন উপলক্ষে সেই প্রাসাদ গড়া হয়েছে । কিন্তু সেখানে স্থান পেল বৌদ্ধধর্মের নানান রসদ,প্রার্থনা পতাকা , সোনার টালি বসানো প্রাসাদের চূড়া আর সব কুঠুরি ভর্তি করে গৌতম বুদ্ধ নিজে আসিন হলেন মিনি পোতালা প্রাসাদে । 

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় দালাইলামা সহ তার সফরসঙ্গীরা গ্রীষ্মকালীন অনেকটা সময় এখানেই কাটাতেন সম্রাটের আতিথেয়তায় , প্রাসাদের সর্ব রকম সুবিধা নিয়ে । অন্যান্য লামাদের বিবাহ নিষিদ্ধ জীবনে সুরাপাত্র ,নারী, ও বিনোদন নিষিদ্ধ হলেও, প্রাসাদ এর খাস কামরা স্বাক্ষ্য দেয় নারী, মদ সহ সর্ব রকম আনুসঙ্গিক প্রাচীন বিনোদনের ।

আধুনিক চীনের মাও সে তুং কেন তিব্বত দখল করেছিলেন বা কেন দালাইলামা বা তার যত্রতত্র বেড়ে ওঠা অপদার্থ লামাগণকে কারখানার কাজে যেতে ও সন্তান উতপাদনে বাধ্য করেছিলেন তার কোন উত্তর দেবার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করছি না আমি । শুধু এটুকুই অনুভব করার চেষ্টা করেছি , পৃথিবীতে বিনা পূজির বৃহত ব্যবসা ঈশ্বর কেন্দ্রিক ব্যবসা , কতটা তার প্রার্থনা আর কতটা ভান সে বিচারের দায়ভার সময়ের ।

আমার যাবার সুযোগ হয়েছিল এই মিনি পোতালা প্রাসাদে। যেখানে স্বর্ণ দিয়ে মোড়া বেশ কয়েকটি চূড়া দেখিছি , অপরূপ নির্মাণশৈলী দেখেছি , দু’চোখ ভরে দেখেছি পাহাড়ের সূর্যাস্ত । আর কল্পনা করেছি এখানে একদিন অনেক অনৈতিকতার আড়ালে জনসমুদ্রের মানুষ গুলো ঘন্টা দুলিয়ে পড়ত , ওম মণিপদ্মে ওম, ওম মণিপদ্মে ওম ।