ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

চাইনিজ ভাষা, পৃথিবীর অন্যতম কঠিন ভাষা, কিন্তু আন্তর্জাতিক ভাষা না । অন্তত ১৯৯০ এর আগে তো নয় ই । যখন চীন সদ্য উন্নতি শুরু করেছে তখনও চীন তাদের ভাষার উপর কোন হস্তক্ষেপ সহ্য করেনি। আজও করে না। অফিস, আদালত, আদালতের রায় থেকে গাড়ির জরিমানার রসিদ, সবকিছু নিজেদের মাতৃভাষায়, আজও কঠিন ভাবে নিষিদ্ধ কোন বই, পুস্তকে চাইনিজ ভাষার ‍সাথে বিদেশী ভাষার মিশ্রন । মহাকাশ গবেষনার প্রকাশনা, সুপার কম্পিউটার এর কোড, সফটওয়ার শিল্প, পণ্যশিল্প, থেকে শুরু করে ‍সাহিত্য , চীনারা মাতৃভাষার সাথে আপোষ করেনি । তারা কি উন্নতি করেনি ? বেয়াদব ব্রিটিশ আর খলচতুর মার্কিনীদের কি চীনে এসে কাজ করতে বাধ্য করেনি ? তাদের তথ্য প্রযুক্তি উন্নত না?

বলা বাহুল্য, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের ভাষায় ক্লাস; নোট, বই-পত্র , পরীক্ষা সবই নিজেদের ভাষায় । তারপরও কি তারা ইংরেজী না শেখার অপরাধভোগে ভুগছে? উন্নয়নশীল রাষ্ট্র যদি নিজেদেরকে তাবেদার না ভেবে নিজেদের ভাষায় নিজেদের দাম বাড়ায় তাহলে কি বিশ্বব্যাংক টাকা দেবে না ? বা যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রভিসা বন্ধ করে দেবে?

আমার জানতে ইচ্ছা করে আমাদের মাতৃভাষা কি বাংলা নাকি ইংরেজি! ইংরেজির যথেচ্ছ ব্যবহার আর বাংলার প্রতি অবহেলা আমাদের কে কোথায় পৌছে দিচ্ছে বা দেবে সে প্রশ্ন জাগতেই পারে। আমরা এই দেশে, এই সমাজে যেখানে ভাষা শহীদরা সমাহিত, সেই দেশে তাদেরকে বেশি সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি যারা ইংরেজীতে পক পক করে কথা বলে যান; আর সেই ‍বাংলার শিক্ষক যিনি শুদ্ধ বাংলা বলেন এবং শেখানোর চেষ্টা করেন, তিনি হয়ে যান সেকেলে, একগুয়ে গোঁয়ার। সমাজ আর দেশের অভ্যন্তরীন সভ্যতাতেই যে ভাষা দৈন্য, দরিদ্র, তার ভবিষ্যত কি?  

১৯৫২ সালে রক্তের বিনিময়ে ইতিহাস সৃষ্টি করা পৃথিবীর ৬ষ্ঠ বৃহত্তম বাংলা ভাষা তার নিজের দেশের অফিস আদালতে আজও নিগৃহীত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজীর দাসত্ব, আর সাহিত্য সংস্কৃতি বা মিডিয়াতে নতুন ধরনের বাংলিশ সংস্কৃতি কি আমাদের প্রাপ্য ছিল? আমার জানতে ইচ্ছা করে ভিন্নমতগুলোও। আমার জানতে ইচ্ছা করে, সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিকভাবে আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজের রাষ্ট্রভাষা বাদ দিয়ে ‍অন্য রাষ্ট্রভাষাকে বিশেষ ভাবে বিজ্ঞাপিত করার দায় বহন করে কিনা?