ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ও বাংলাদেশের বাস্তবতায় ‌‘এজেন্ট ব্যাংকিং’ সেবার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যত করণীয় বিষয়ে আলোচনার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‌‘একসেস টু ইনফরমেশন’ (এটুআই) প্রোগ্রামের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে ‘Agent Banking’: Global Trend and Bangladesh context শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

21151132_1473022739451802_1903437958_n

.

কর্মশালায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ‘এটুআই’ প্রোগ্রামের ‘ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ল্যাব’ এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তহুরুল হাসান টুটুল বলেন, “রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে জনগণের দোরগোড়ায় সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে সেবা পৌঁছে দেয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আর্থিক সেবা অর্ন্তভূক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতের ব্যাপক অগ্রগতির কারণে আর্থিক সেবা প্রদানে প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ‘‌ব্যাংকিং সেবা’ তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ‘এজেন্ট ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার প্রচলন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বর্তমান সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ‘এজেন্ট ব্যাংকিং’ তৃণমূলের মানুষের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৭ টা ব্যাংক এখন এজেন্ট ব্যাংকিং করার জন্য প্রস্তুত।”

দেশের যেসব জনগণ ব্যাংকিং সেবাভূক্তির আওতাভুক্ত নয় এবং যাদের এখনও কোন ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নেই, তাদের কিভাবে ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এর আওতাভুক্ত করা যায়, এ বিষয়টির সমাধান করা এই কর্মশালার একটি অন্যতম লক্ষ্য।”

এছাড়া গ্রাহকদের সচেতনতার জন্যে বছরের একটি দিনকে ‘ব্যাংকিং দিবস’ হিসেবে পালন করার আহবান জানিয়ে তহুরুল হাসান বলেন, “দেশের সকল ব্যাংকসমূহ দেশের সর্বত্র, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষগুলোকে আর্থিক বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে বছরের একটি দিনকে বিশেষ দিন হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে, এক্ষেত্রে সকল ব্যাংকসমূহ কে এগিয়ে আসতে হবে।”

21175677_1473022889451787_873627566_n

কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংক (ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশান বিভাগ) এর মহাব্যস্থাপক মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, “ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের আওতাভুক্ত নয় এমন ব্যাক্তিদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় অর্ন্তভূক্ত করাকেই ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশান বলে। এজ়েন্ট ব্যাংকিং হল লিমিটেড স্কেল ব্যাংকিং সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। এজ়েন্ট ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে ভ্যালিড এজ়েন্সি কন্ট্রাক্ট থাকা অত্যাবশ্যক।”

“বিশ্বব্যাংক অনুসারে, বাংলাদেশে ১৫ বছরের উপরে ৬৯% শতাংশের বর্তমানে ব্যাংক একাউন্ট নেই, অন্যদিকে মাত্র ১৫ শতাংশের ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে। ‘সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’ এর ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার ৬টি লক্ষ্যমাত্রাই ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশানের সাথে সরাসরি জড়িত। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণ সুসজ্জিত ব্যাংক ব্রাঞ্চে গিয়ে ব্যাংকিং লেনদেন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। সেক্ষেত্রে, জনগণের দোরগোড়ায় এজ়েন্ট ব্যাংকিং এর ভূমিকা অতুলনীয়।”

“দেশের ১৭টি ব্যাংককে ইতিমধ্যে এজ়েন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে, ইতিমধ্যে ১৪ টি ব্যাংক এজ়েন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার এর মাধ্যমে এজ়েন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমকে প্রসারিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৩৪০ ইউডিসি ৫০০০ ইউডিসির মধ্যে এজ়েন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ডিজ়িটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রদান করছে। ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করছে এবং ইতিমধ্যে ১০২২টি ইউডিসিতে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত করছে। এনআরবিসি ব্যাংক ১৯২টি ইউডিসি হতে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে। মধুমতি ব্যাংক ১০০টি ইউডিসি হতে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে।”

কর্মশালাটিতে ‘মাইক্রোসেইভ’ এর গ্লোবাল টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ডেভিড ক্রেকনেল আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কেনিয়া, ইউগান্ডা, ইন্ডিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এজেন্ট ব্যাংকিং এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ শেষে বাংলাদেশের বাস্তবতায় এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার বিষয়ে আলোচনা তুলে ধরেন।

এজেন্ট ব্যাংকিং মূলত বৃহৎ ট্রাঞ্জেকশনের উপর নির্ভরশীল। সেক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিং এ নতুন নতুন সেবাভোগী নথিভুক্তকরণ অত্যাবশ্যক। বর্ধনশীল এজেন্ট ব্যাংকিং মোবাইল বেসড ব্যাংকিং ট্রাঞ্জেকশনের ক্ষেত্রে অতি প্রয়োজনীয়। এজ়েন্ট ব্যাংকিং এ সাফল্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদী দূরদর্শিতা অত্যাবশ্যক। এজেন্ট ব্যাংকিং হল একটি চ্যানেল, যেটা ব্যবসাকে সহজতর করে। মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে এজেন্ট ব্যাংকিং এর ভূমিকা অতুলনীয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে কিভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালিত হবে, তা যেমন একদিকে নির্ধারণ করতে হবে অন্যদিকে নতুন নতুন ব্যাংকিং প্রোডাক্ট এবং সার্ভিসেসকে কিভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেল সামগ্রিকভাবে সহায়তা করতে পারে তা বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইনক্লুয়েশন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জোদ্দার এর সভাপতিত্বে ইউএনসিডিএফের (UNCDF)এর ক্যান্ট্রি প্রোজেক্ট সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আরফান আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারিসি কে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ হতে সাধারণ জনগণের সাথে যোগাযোগ কে অতি জরুরী বলে মতামত দেন। এজেন্ট ব্যাংকিং সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হতে প্রচার প্রসার ও সাধারণ জনগণকে অবগত করার প্রতিও আহ্বান জানান।

কর্মশালায় দেশের ১৮ টি ব্যাংকের কর্মকর্তা, দেশের বিভিন্ন জেলার ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যেক্তাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।