ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কাদের? পুলিশ না আ’লীগের? অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যে কেউ বলবে- মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি। অর্থাৎ যাদের দায়িত্ব; তাদের থেকে অন্যদের নাক গলানোটা খুব বেশি স্পষ্ট। বাংলাদেশ পুলিশ- এ বাহিনী আসলেই হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে আমাদের দেশে। যে দল ক্ষমতায়, সে দলের হয়ে কাজ করা তাদের দায়িত্বের মধ্যে যেন পড়ে! আসলেই তাদের কিছু করার নেই! কিছু করতে হলে সাময়িক বরখাস্ত ছাড়াও পাহাড় পর্বতে স্থানান্তর হওয়ার সম্ভাবনা। মূল প্রসঙ্গে আসি। আওয়ামীলীগকে ভুললে চলবে না, তারা কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়; বাংলাদেশ সরকার পরিচালনাকারী দলও। যখন বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার (!) হরতালে বলা হবে- আওয়ামীলীগ রাজপথে থাকবে! এর মানেটা পানির মতো সোজা- অনিবার্য সংঘাত! সরকারের এই সংঘাত ডেকে আনার কারণটা কি? হরতালে আওয়ামীলীগ কি রাজপথে না থাকলেই নয়? রাজপথে থাকায় সংঘাতের বলি নিরীহ বিশ্বজিৎ। দেশের মানুষ কি এতই বোকা! বিশ্বজিতকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে- ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার বদৌলতে দেশের মানুষ দেখলো কিভাবে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা নির্মমভাবে হত্যা করলো বিশ্বজিতকে। এই সংবাদ যারা টিভির পর্দায় দেখেছেন কিংবা পত্রিকার পাতায় দেখেছেন তাদের গা শিউরে উঠেনি, নিজেকে মানুষ দাবী করে, এমন কেউ নেই। সবাই যখন জানলো, বুঝলো হত্যাকারী আওয়ামীলীগেরই অঙ্গসংগঠনের; তখন এ হত্যার দায় আওয়ামীলীগ নেবে না বলে হুঙ্কার করলেন সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। অবশেষে সংবাদ মাধ্যমে ছবি আসার বদৌলতে ছাত্রলীগের কয়েকজনকে ধরা হলো। এদিকে বিশ্বজিতের পরিবার ভয়ে থানায় মামলা পর্যন্ত করতে যায়নি। এই যদি হয় অবস্থা, তখন বাংলাদেশ কেমন আছে? প্রশ্নটা বড় দীর্ঘশ্বাস হয়ে বের হবে উত্তর হিসেবে। সরকারকে মানুষ বন্ধু হিসেবে ভাবতে চায়। শত্র“ নয়। আর বিরোধী দল বিএনপি’র অন্যতম প্রধান দাবী- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন। এই দাবী মেনে না নিলে আসন্ন নির্বাচন যে সফল হবে না, তা সাধারণ জনগণ বুঝে। যেমনটি একসময় বিএনপিও করেছিল। সফল হয়নি। আওয়ামীলীগের যে অবস্থা; মনে হচ্ছে সেই দাবী তারা মেনে নেবেন না। আর মেনে না নেয়ার মানে সঙ্কট, সংঘাত। সেই সঙ্কট কিংবা সংঘাতের মানে অনেক প্রাণহানী। আমি সেই অবস্থা কল্পনা যখন করি; তখন গা শিউরে উঠে। অনেক বিশ্বজিতই প্রাণ হারাবেন!
২.
বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী দল জামাতের জাল থেকে বিএনপি সরে আসলে বাংলাদেশে এই সংগঠন রাজনীতি করার অধিকার হারাতো। এখনই কিন্তু মোক্ষম সময়। বিশেষ করে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা করুণ; তাতে বোধহয় আওয়ামীলীগের ক্ষমতায় যাওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে। তাছাড়া ইতিহাস বলে, পরপর দুইবার একই দলের ক্ষমতায় যাওয়া হয়নি। আওয়ামীলীগ সরকারের বিভিন্ন কৃতকর্মের ফলে বিএনপি’র প্রতি জনগণ তাকাতে পারে। এক্ষেত্রে জামাত এখন ফ্যাক্টর নয়। এককভাবে নির্বাচন করলে বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে- অবস্থা পরিপ্রেক্ষিতে তাই মনে হচ্ছে। জামাত থেকে সরে আসলে তরুণ প্রজন্মের ভোট বিএনপি’র বাক্সে ঢুকতে পারে। আর যেহেতু আওয়ামীলীগ জামাতের রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করার ইচ্ছে পোষণ করে; বিএনপিও যদি সেই দলকে নিষিদ্ধ করার প্রতি সমর্থন দেয়; তাহলে আমাদের দেশ রাজাকার আলবদরদের সংগঠনমুক্ত দেশ হবে। কিন্তু বিএনপি তা করছে না। করবে বলেও মনে হচ্ছে না। বরঞ্চ যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবীতে জামাতের হরতালকেও নৈতিক সমর্থন দেয়। এখন যারা জামাত করছে, তাদের অধিকাংশেরই একাত্তরের যুদ্ধে রাজাকার ছিল না, আলবদর ছিল না কিংবা তখন জন্মই হয়নি। এমন হাস্যকর যুক্তি প্রায়ই শুনি। বিষয়টা আসলে সেটা না। বিষয়টা ’অতীত’ এর। আমাদের অতীত ভুললে চলবে না। একাত্তরের ঐ অতীতই আমাদের শিকড়। ঐ রাজাকার আলবদরদের সংগঠনইতো জামাত। সেই জামাতকে বিএনপি নৈতিকভাবে সমর্থন জানায়!