ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

 

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিএনপি’র যে তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়েছিল এবং সংসদ নির্বাচনে যে ভরাডুবির সম্মুখীন হয়েছিল, দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি এখন সেই অবস্থান থেকে অনেকটা সরে এসেছে এবং হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ। সাম্প্রতিক সময়ের দু’টি রোড মার্চে জনতার ঢল দেখে তাই মনে হয়েছে। এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে কেন্দ্রীভূত করার এটি একটি ভালো মাধ্যম। হরতাল করে দেশকে অচল করা আর দেশের অর্থনীতিকে থমকে রাখার চেয়ে এরকম রোড মার্চে জনগণকে জনসভার মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে সচেতন করার প্রক্রিয়া নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। আন্দোলনের চরম ভাষা হরতালকে উপেক্ষা করে জনগণের সংস্পর্শে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উচ্ছেদ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারের দুরবস্থা, পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতিসহ সরকারের এরকম বিভিন্ন কার্যাবলী তুলে ধরে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারে রোডমার্চের মতো কার্যক্রম। তবে সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হবার পূর্বে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান কতটুকু যুক্তিযুক্ত; তা রাজনৈতিক বোদ্ধারাই ভালো বলতে পারবেন। বাংলাদেশের ইতিহাস বলে- কোন নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব নয়; যতক্ষণ পর্যন্ত অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্য ভাবাচ্ছে আমার মতো সাধারণ জনগণকে। এই দুই নেত্রীকে ভুলে গেলে চলবে না যে তাঁরা যা বলবেন, সেটা কেবল তাঁদের দলের বক্তব্যই নয়; বাংলাদেশের মানুষের আশা আকঙ্খার প্রতিচ্ছবিও। বিভিন্ন উপমা মাখিয়ে শেখ হাসিনা যখন খালেদা জিয়া সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলেন; কিংবা যখন বলেন- মাঝে মধ্যে হরতাল দরকার আছে, এতে জনগনের বিশ্রাম হয়! তখন আমাদের কীইবা বলার থাকে। আর খালেদা জিয়ার রোডমার্চে সাম্প্রতিক বক্তব্যও আমাদের ভাবায়। তিনি যখন বলেন, গোলাম আযম, সাঈদীরা যুদ্ধাপরাধী নয়; এমনকি আওয়ামীলীগকেও মুক্তিযোদ্ধের বিপক্ষের শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন, তখন সত্যিই আমাদের চোখে আশ্চর্যের ছানি পরায়। জামায়াত শিবিরকে ছাড়া কি বিএনপি চলতে পারেনা? আমিতো মনে করি বিএনপি একাই যথেষ্ট। রোডমার্চে যদিও চারদলের কথা বলা হয়েছে; তথাপি মূলত বিএনপিকে দেখেই জনগণের সমাগম হয়েছে। এই জামায়াতকে সংঘবদ্ধ করা কিংবা তাদের আস্ফালনের জন্য বিএনপি দায়ি। এর খেসারত দিতে হয়েছে বিএনপিকে বিগত জাতীয় নির্বাচনে। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের কথা বলে তরুণ প্রজন্মের ভোট কেড়ে এনেছিল আওয়ামীলীগ। জামায়াত ছাড়া বিএনপি নির্বাচন করলে কি খুব প্রভাব পড়তো বিগত নির্বাচনে? এমন প্রশ্নের উত্তর যদি খোঁজেন বিএনপি’র নীতি নির্ধারকেরা; তখন ঠিকই তারা বুঝতে পারবেন- জামায়াত ছাড়া বিএনপি চলতে পারে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে জামায়াত নেতাকে মন্ত্রী পর্যন্ত পদবীতে নিয়ে এসে মূলত নিজেদের ক্ষতিই সাধন করেছে। যে পতাকাকে মুক্ত আকাশে উড়তে না দেয়ার জন্য যারা কাজ করেছিল; তারা সেই পতাকা সামনে রেখে গাড়ি দৌড়িয়েছে গর্ববোধ করে!
জামায়াত ছাড়া বিএনপি চলতে পারবে। এই জামায়তকে আর দয়াকরে প্রশ্রয় দেবেননা। বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ কিছুটা হলেও যদি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানে, মুক্তিযোদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তি সম্পর্কে জানে- তাহলে নি:সন্দেহে জামায়াতকে ঘৃণা করবে। আর সেই জামায়াতকে নিয়ে এগুবে বিএনপি, বলবে তারা যুদ্ধাপরাধী নয়; তা সত্যিই দু:খজনক।

***
ফিচার ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ ঢাকা, অক্টোবর ২৭, ২০১১