ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশের মানুষের বহু প্রত্যাশা ছিল আওয়ামীলীগের কাছে। নির্বচনের পূর্বে যে কথাগুলো আমরা শুনেছি আওয়ামীলীগের কাছে; সে কথাগুলো এখন বড়ই পানসে মনে হয়। ১০ টাকা কেজি দরে চাল, প্রতিটি ঘরে ঘরে চাকরি দেয়া, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি রোধ … আরো কত কী! সবচেয়ে বড় কথা- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। একথাগুলো দীর্ঘ আড়াই বছরে কতটুকু প্রাপ্তিতে এনেছেন- তা আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকদের আর বলার প্রয়োজন নেই; বাংলাদেশের জনগণই তা বুঝতে পারছে। আওয়ামীলীগ সরকারের মধ্যে কেমন জানি সমন্বয়হীনতা, সমন্বয়হীনতা ভাব। সরকারের মন্ত্রীরা কোন একটি বিষয়ে এক একজন একেক কথা বলেন! উপদেষ্টারাও বলেন একেক কথা। দায়িত্ব গ্রহণের এ দীর্ঘ সময়ে এমন কী আওয়ামীগ করেছে; যা পরবর্তী নির্বাচনের জন্য ভালো ফল নিয়ে আসবে?

আগামীকাল বহু আলোচিত নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। শামীম ওসমানকে সমর্থন দেয়া থেকে শুরু করে সেনা মোতায়েন না করায় আওয়ামীলীগ আসলে কী চায়, তা আমার বোধগম্য হচ্ছেনা। শামীম ওসমানকে সমর্থন দেয়ায় স্পেনে আমার এক বন্ধু (যিনি নিজেকে বাংলাদেশের রাজনীতি বোদ্ধা বলে গর্ববোধ করেন!) আমাকে যা বলেছিলেন, তা আমার মাথায় কিছুটা ঢুকলেও সেনা মোতায়েন না করায় আমি দ্বিধায় পড়ে যাই।

শামীম ওসমান নামটা ’গডফাদার’ হিসেবেই সুপরিচিত। ডা: সেলিনা হায়াত আইভি ভালো জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইতিমধ্যেই সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। শামীম এবং আইভি দু’জনই আওয়ামীলীগ ঘরণার। আইভি আওয়ামীলীগের সমর্থন পাবেন, এমন ধারণা ছিল সবার। অন্তত দলের সম্মানের কথা চিন্তা করে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? শামীমকে সমর্থন দিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে আওয়ামীলীগ। আমার বন্ধু যুক্তি হিসেবে দাঁড় করালেন, শামীমকে সমর্থন দিলেও আওয়ামীলীগ জানে আইভি ই নির্বাচিত হবেন! এতে শামীমকে বুঝানো যাবে- দল আপনাকে সমর্থন দিয়েও আপনি জয় আনতে পারেননি। এতে করে শামীম ওসমানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বিলুপ্তির দিকে যাবে। পরবর্তীতে শামীম বড় আবদার রাখতে পারবেন না দলের কাছে। আইভি পাশ করলে তিনিতো আওয়ামীলীগেরই থাকছেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ দাবী করার সুযোগও থাকবে। এমনকি নতুন ইলেকট্রনিক ভোট প্রক্রিয়াকেও সঠিক দাবী করার সুযোগ থাকবে।

শামীম ছাড়া বাকী দুই মেয়র প্রার্থীর দাবীর প্রেক্ষিতে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার নির্বাচন কমিশনারের সেনা মোতায়েন চাওয়াকে আমলে না নেয়ায় আমার বন্ধুর মুখে দীর্ঘশ্বাস- আওয়ামীলীগ আসলে কী চায়? বলা মুশকিল। বিরোধী দলকে আন্দোলনের ক্ষেত্র কি নিজেরাই তৈরী করে দিচ্ছেনা আওয়ামীলীগ? নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করলে কী এমন হতো। জনগণও এখন বিশ্বাস করতে শুরু করবে- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন দিলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনা!

এখন প্রশ্ন- আওয়ামীলীগ সত্যি আসলে কী চায়? জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার পন্থা? না কি, জনগণের জন্য ভালো কাজ করে জনগণের ভোটে আবারো ক্ষমতায় যাওয়া? যদি, প্রথমটা হয়- তাহলে এর পরিণতি ভালো হয়না, ইতিহাসতো তাই বলে। আর দ্বিতীয়টা হলে- এখনো সময় আছে। এই দীর্ঘ সময়ে জনগণের কাছে যাওয়ার জন্য কাজ করতে হবে। সরকার এবং দলের সবার মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় তৈরী করতে হবে। প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডকে এড়িয়ে চলতে হবে। নতুবা আওয়ামীলীগকে আগামী নির্বাচনে বড় ধরণের প্রায়শ্চিত্ত দিতে হবে।