ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

পাঁচটি সবুজ পাপড়ি, মধ্যখানে লাল বৃত্ত। ’বিজয়ফুল’। এই ’বিজয়ফুল’ ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে পুরো ডিসেম্বর মাস বাংলাদেশীরা নিজেদের জামা, ব্লাউজ, শার্ট, পাঞ্জাবি, টিশার্টে পরে বের হবেন। এই ’বিজয়ফুল’ হবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রতীক। কাগজের তৈরী হলেও এটি বহন করবে আমাদের ঐতিহাসিক একাত্তরের বিজয়ের স্মৃতি। বিশ্বযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারীদের স্মরণে বৃটেনে চালু থাকা পপি ফুলের আদলে ’বিজয় ফুল’ চালু করার ধারণা মূলত বৃটেন প্রবাসী কবি শামীম আজাদের। পপি ফুল যেমন বিক্রি করে সে অর্থ যুদ্ধে আহত কিংবা যুদ্ধে নিহত পরিবারের হাতে তুলে দেয়ার রীতি; বিজয়ফুল বিক্রি করে সেই অর্থও আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে। বৃটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইতোমধ্যে বিজয়ফুল কর্মসূচি চালু করে দিয়েছেন।

বিজয়ফুলের ধারণা কীভাবে এলো? কবি শামীম আজাদ তাঁর একটি লেখায় তা উল্লেখ করেন এভাবে- ক’বছর আগের এক শীতার্ত নভেম্বর। হুইল চেয়ারে করে ব্রিটিশ রয়্যাল লিজিওনের হয়ে মহাযুদ্ধের স্মারক টুকটুকে লাল কাগজের পপি বিক্রি করছিলেন ইংরেজ বৃদ্ধ টেড স্টকওয়েল। নিজেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ফেরত আহত সেনা। তার কাছেই শুনেছিলাম প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর প্রাণহীন বিশুষ্ক ভূমিতে প্রথম ফোটা ফুলের নাম ছিল পপি। সেই থেকেই হাতে তৈরী পপি বিক্রি করে এক ক্যানাডিয়ান নারী তার বিক্রয়লব্ধ অর্থে মৃত সৈনিকদের সন্তানদের জন্য কিনেছিলেন প্রথম ক্রিসমাস উপহার। সেইতো শুরু। তারপর খুব জানতে ইচ্ছে করে, একাত্তরের ডিসেম্বরের সেই বিস্ময়কর সময়ে গাছে গাছে অথবা কাননে ছিল কি অনুরূপ কোন লাল ফুল? না হলেও ক্ষতি কি? ডিসেম্বরেইতো ফুটেছিলো বাংলাদেশের সবচাইতে সুন্দর ফুল। পতাকার ঘন সবুজে যে রক্তিম সূর্য উঠেছিল, তারই রূপকল্পেইতো হতে পারে আমাদের ’বিজয় ফুল’।

এই হচ্ছে কবি শামীম আজাদের ভাবনা। আর এই ভাবনা থেকে শুরু হয়েছে পুরো ইউরোপে কাগজে তৈরী বিজয় ফুলের চাষ। ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালী, ফ্রান্সেতো ইতোমধ্যে বাঙ্গালীদের অনেকেই এই বিজয় ফুল পরা শুরু করে দিয়েছেন। পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়ে থাকছে বিজয় ফুলের কার্যক্রম। নব প্রজন্ম যারা দেখবে তাদের মা বাবাদের জামায় বিজয় ফুল, স্বভাবতই প্রশ্ন জাগবে। মা বাবারা তখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা তাদের বলবেন, বিজয়ের কথা বলবেন। ভিনদেশীরাও কৌতুহলী হবে এবং তাদের জানানো যাবে আমাদের বিজয়গাঁথা একাত্তরের কাহিনী।

বাংলাদেশেও কি এমনটি শুরু করা যায় না? জাতীয়ভাবে বিজয় ফুল কার্যক্রম চালু করতে হলে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। নামমাত্র মূল্যে বিক্রিত বিজয় ফুলের অর্থ দিয়ে মুক্তি যুদ্ধে শহীদদের পরিবার বা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সামান্য হলেও উপহার কিনে দেয়া যেতে পারে। বিজয় ফুল হোক আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রতীক।

সূত্র ও ছবি: