ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

অনেকদিন ধরে কোয়ান্টাম মেথডের পক্ষে-বিপক্ষে পড়তে পড়তে মন্তব্যও অনেক করেছি।যারা পক্ষে লিখেন তারা যেমন কোর্স করেছেন, আবার বিপক্ষের ব্লগাররাও কিন্তু সবাই কোয়ানটাম গ্রেজুয়েট। আর যারা মন্তব্য করেন তাদের বেশীর ভাগই এই কোর্স করেছেন। আমিও এই কোর্স করেছি ২০০৯ সালে ৭০০০টাকা ফি দিয়ে, যেহেতু আমি একজন দুবাইওয়ালা ৭০০০টাকা তেমন বড় মনে হলনা। এখন শুনছি কোর্স ফি নাকি ৯০০০টাকা। যেই দেশে বেশীর ভাগ মানুষের জীবনের অবস্থা অনেকটা ”নুন আনতে পান্তা ফুরাই” সেই দেশে ৪ দিনে শুধু মুখের কথা শুনার জন্য ৯০০০টাকা !!! পাঠকরা একটু বুঝিয়ে দিলে উপকৃত হব।

এইরকম মেডিটেশন কোর্স দুবাইতেও রয়েছে। মাত্র ২০০ দিরহাম (৪০০০টাকা)দিয়ে যে কেও এই কোর্স করতে পারে। এখানে আমরা এককেজি চাউল কিনি ৫ দিরহাম(১০০টাকা) দিয়ে, আর একই চাল বাংলাদেশে ৫০টাকা,সেই হিসাবে বাংলাদেশে এই কোর্সের ফি হওয়ার কথা ২০০০টাকা। কোয়ান্টাম মেথড কিভাবে ৯০০০টাকা নেয় তা আমার বোধগম্য নয়। এখানে আরবীদের কাছে নিয়মের বেশী দিরহাম দাবী করলে এরা বলে হারাম -হারাম -হারাম, ওয়াল্লা হারাম। অর্থাৎ নিয়মের বেশী নেয়াটা হারাম। সেই হিসাবে কোয়ান্টাম হারামখোর নয় কি? দয়া করে জানালে খুশী হব।

আমি কেন এই কোর্স করলাম?

এর উত্তরে বলতে হয়, আমার কোর্স করার পেছনে দু`টা কারণ, (১) আমি একজন বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম,”সাইন্স অব লিভিং” কথাটার কৌতুহল জানার জন্য। (২) দুবাইতে ”ট্রেইন ইউর ব্রেইন” নামের কোর্সটির ব্রশিউর দেখেছিলাম ভেবেছিলাম এটাও এই রকম কিছু হবে।(৩) প্রবাসীরা একটু বেশী স্ট্রেস ও ডিপ্রেশানে থাকে, আমিও ঐরকম কিছু অনুভুতি করছিলাম, তাই এই কোয়ানন্টাম ব্রেইন ওয়াস।

এখন কথাহল, এটাকে কেন বর্জন করা দরকার তা দেখি, কোনকিছুর ভাল-খারাফ দুটা দিক থাকে যদি খারাফের দিক ভালোর চেয়ে বেশী হয়, তাহলে তা অবশ্যই বর্জনীয়।

(১) উপরে লিখা রয়েছে কোর্স ফি এরা অন্নান্য দেশের তুলনায় কতগুন বেশী নিচ্ছে, নিয়মের বেশী নেওয়াটা হারাম, তাই এই কোর্স বর্জনীয়। অবশ্যই যাদের হারাম আয় আছে তাদের অন্যকথা।

(২) মেডিটেশনের অপর নাম ”ব্রেইন ওয়াস”,যার কারনে সামাজিক অনেক কাজ থেকে আপনি বিরত হয়ে যাবেন। সাইনটিফিক জীবন প্লাস হবে সোশ্যাল জীবন মাইনাস হবে।যেহেতু মানুষ সামাজিক জীব আর সাইনটিফিক জীবন হল অনেকটা রোবটিক জীবনের মত।রোবটিক জীবন বর্জনীয়।

(৩) জীবনের অনেক সামাজিক সফট ওয়ার ডিলিট হয়ে নতুন নতুন রোবটিক সফট ওয়ারের সাথে কোয়ান্টামী সফট ওয়ার (ট্রজান ভাইরাসের মত)আপনার ব্রেইনে ইনস্টল হয়ে যাবে। আর যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি ইসলামী এন্টিভাইরাস দিয়ে এটাকে না সরান, ততক্ষণ ক্ষতি হতেই থাকবে।

(৪) সবাই বলে মেডিটেশনে নামাজে মনযোগ বাড়ে।নামাজে মনযোগ বেশী হওয়ার চেয়ে বিশ্বাসী বেশী হওয়া দরকার। কোয়ান্টাম তকদীরে বিশ্বাসী নয়, নামাজের পুর্বশর্ত হচ্ছে ঈমান আর তকদীরে বিশ্বাস না রাখার অর্থ হল ঈমান পন্গু। সুতরাং বর্জনীয়।

(৫) এই ”মাইন্ড-সাইন্স”কে কাজে লাগিয়ে টেররিজমের মাস্টার মাইন্ডরা আত্বঘাতী বোমা হামলাকারীকে এভাবে সফট ওয়ার তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়, যার কারনে এরা নিজের জীবন দিতে এবং অন্যের জীবন নিতে কুন্ঠাবোধ করেন না।

—————————————————————————-
(চলবে।)

এই বিষয়ে আরো জানতে নিচের লিন্কে দেখুন।
http://blog.bdnews24.com/Haqq/30468