ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশে নির্বাচনের মৌসুম প্রায় চলে এসেছে, সামনের বছরেই নির্বাচন! চারিদিকে তার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।

যদি আমাকে বলেন, নির্বাচন যে আসছে সেটা কিভাবে বুঝলেন?

তাহলে বলি, শুনুনঃ

ভোরের কুয়াশা দেখেই যেমন আমরা শীতের আগমনী টের পাই, কাশফুল ফুটছে দেখেই বুঝি শরৎ আসছে, শরীরের ঘাম ঝরা অনুভব করলেই বুঝি গ্রীষ্মকাল আসন্ন, যেমন করে ভরা নদীই বলে দেয় বর্ষা কতদূর!

তেমনি অনেক দিন পর তেল চিকনাই চেহারা নিয়ে বড় নেতা, হবু নেতা, ক্ষমতাবান নেতা, বলবান নেতা, পারিবারিক নেতা, অস্ত্রবাজ নেতা, ঝাড়িবাজ নেতা, খামাখা নেতাদের ঘন ঘন “বাবার গ্রামের বাড়ী”, “শশুরের মামা বাড়ি” বেড়াতে আসা যাওয়া করতে দেখেই আমরা টের পাচ্ছি।

যখন দেখি এতদিনের প্রিয় ও বহু ব্যবহৃত; “শালার পুত”, গাধার বাচ্চা”, “ফকিরনীর পোলা” শব্দগুলো বেমালুম ভুলে যেয়ে “জনগণ”কে সেইসব নেতারা “ভাই/দাদা” বলে ডাক দিচ্ছে, নিজ থেকেই সালাম/আদাব দিচ্ছে, চা খাওয়ার দাওয়াত করছে। ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়ে দানের নামে লুটের টাকা থেকে যত সামান্য খয়রাতি দিচ্ছে এবং সেই ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপিয়ে এলাকা ঢেকে ফেলছে।

ব্যানার-পোস্টার-ফেস্টুনে যখন দেখি পাতি নেতা, ছ্যাঁচড়া নেতা, বেকার নেতা, চাঁদাবাজ নেতা, কানা নেতা নামধারীরা, এলাকায় নতুন আনাগোনা করা সেইসব নেতাদের ছবির পাশাপাশি নিজেদেরও চাঁদ মুখখানা ছেপে মোড়ে মোড়ে, গাছের ডালে, রাস্তার মাঝখানে, অন্যের দোকানের সামনে টাঙ্গিয়ে বা লাগিয়ে দিচ্ছে, আর নেতাদের ও নিজেদের নামের সামনে বিশেষণ হিসেবে লাগাচ্ছে “কারা নির্যাতিত”, “পুলিশের ডান্ডাখেকো”, “ত্যাগী” “জন-দরদি” শব্দগুলোকে।

যখন দেখি গ্রাম-মহল্লার টাউট-বাটপার’রা একেক জন একেক নেতার পক্ষ নিয়ে চায়ের দোকানগুলো গরম করে ফেলছে। র্যা বের ভয়ে এতদিনে ইঁদুর বনে যাওয়া খুনি, ছ্যাঁচড়, বোমাবাজ, মাগিবাজ লোকগুলো বুক ফুলিয়ে, জোড়ে শব্দ তুলে, একযোগে মোটর সাইকেলে করে পাড়া-বাজার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে …

গ্রাম্য এলাকার এসব কর্মকাণ্ড দেখেই আমরা বুজতে পারি নির্বাচন আসন্ন!

এবার দেখা যাক, আমাদের শহুরে বা কেন্দ্রীয় কর্মকাণ্ড দেখে কিভাবে বুঝবো নির্বাচন আসছে?

হটাৎ করেই সরকারী-বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসগুলো রমরমা হতে দেখলে বা এতদিন পুলিশের লাঠির ভয়ে বিরোধী দলের যেসব দামী নেতা রাজনীতিকে “রাবিশ” নামে আখ্যায়িত করে, গত টার্মে মন্ত্রী-এমপি থাকা অবস্থায় মেরে দেওয়া ও লুট-কৃত টাকা দিয়ে নিজ ব্যবসা-কর্মে নিয়োজিত থাকাকেই শ্রেয় মনে করতেন, তাদের পার্টি অফিসে ঘন ঘন যাতায়াত করতে দেখলে।

স্যুট-টাই পড়া সাবেক আমলা, দল বদলকারী, পক্ষত্যাগী, দল থেকে বহিষ্কার-কৃত, নির্যাতিত-ত্যাগী-জ্ঞানী নামধারী, চেনা-অচেনা ব্যক্তিবর্গের বিভিন্ন টিভির টক-শো গুলোতে বড় বড় কথা বলার পাশাপাশি তেলবাজী-দলবাজি বেড়ে গেলে বা টক-শোতে একটা সুযোগ পাওয়ার আশায় টক-শো’র উপস্থাপক, পরিচালকদের ঘন ঘন ফোন করে অনুষ্ঠানের প্রশংসা করতে দেখা গেলে।

রাজপথে জ্বালাও–পোড়াও, বক্তৃতাবাজী, মঞ্চে প্রধান নেতা-নেত্রীর পাশে বসা নিয়ে ঠেলা-ঠেলি বেড়ে গেলে, উঠতি, মাঝারী নেতাদের টিভি ক্যামেরার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকতে দেখা গেলে বা কবর জিয়ারত-মিছিলের সামনের কাতারে থাকার জন্য দুই হাতের কনুই দিয়ে গুঁতা-গুঁতি করতে দেখা গেলে।

দিনে মারামারি, লাঠালাঠি করে সন্ধ্যায় টক-শোতে “টক” এর বদলে “চোখ তুইলা ফালামু, খাইয়া ফালামু, জিহ্বা টাইনা ছিঁড়া ফালাইমু, টাইপের গালাগালি শেষ করে, মধ্য রাতে “বাম-ডান মর্জিনা”দের বাসায় একসাথে ডিনারে সারাদিনের কর্ম ক্লান্ত শরীরে একটু চাঙ্গা ভাব আনতে দলের আদর্শ ভুলে বোতলে-বোতলে থ্রি চিয়ার্স বেড়ে গেলে।

বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের দৌড়াদৌড়ি, নেতাদের ঘন ঘন বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে যাতায়াত, বিদেশ সফর বেড়ে গেলে বা কথায় কথায় “আমরাই ক্ষমতায় আসছি” বলতে শোনা গেলে।

বাজেটে কাবিখা, চুরি করে খা, গম খা, চাল খা টাইপের প্রজেক্টে বরাদ্দ বেড়ে গেলে এবং বিরোধী দলকে না পড়েই “নির্বাচনী বাজেট” আখ্যায়িত করে বাজেট প্রত্যাখ্যান করতে দেখা গেলে …

বুঝতে হবে বাংলাদেশে নির্বাচন আসছে!