ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

শিরীন আপা, লেখাটা আমার ভাল লেগেছে।

আপনার লেখায় প্রতিক্রিয়া দেখানোর সাহস আমার নেই। তবে একটা বিষয় আমি আপনার সাথে শেয়ার করতে চাই। আর তা হল …

আমিও আপনার কথার সাথে তাল মিলিয়ে বলতে চাই, স্ব-নামে লিখতে যেয়ে, কি যে ভেজালে আছি তা আপনাকে লিখে বোঝাতে পারবো না! একদিন শখ হল তাই ব্লগের সদস্য হিসেবে নিজ নামটাকেই বেছে নিলাম। ভাবলাম, বাবা’র দেওয়া নামটাকে কেন বিকৃত করবো? যেই ভাবা সেই কাজ। লগইন করে ফেলে টুকটাক লিখতে শুরু করলাম। জানিনা লেখাগুলো কোন মানে পড়ছে কিনা! যদিও এই বিষয়ে আমার আগ্রহ একেবারেই কম!

লিখতে যেয়েই পড়লাম বিপদে! চারিদিকে দেখি বেনামি নামের ছড়াছড়ি। অবশ্য এদের বেনামী না বলে বর্ণচোরা বলাই ভাল। যদিও অনেক আগে থেকেই আমি নিয়মিত ব্লগ পড়তাম কিন্তু নাম-বেনামের বিষয়টা যে এত জটিল তা কখনো খেয়াল করিনি। দুই-একটা পোষ্ট করতেই ব্লগের ঝাঁজ টের পেলাম।

কোন লেখা পছন্দ না হলেই দেখছি, একটি বেনামির দল, দলবেঁধে লেখকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। যদিও এদের বেশির ভাগই মন্তব্যকারী এবং নিজেদের পোষ্ট নেই বললেই চলে। আমার ধারণা একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন নামে মন্তব্য করে লেখার মুল বিষয় থেকে পাঠককে সরিয়ে নিচ্ছে এবং লেখার উদ্দেশ্যকে বিকৃত করে দিচ্ছে। যদিও বেনামে লেখা দোষের কিছু না এবং এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। কিন্তু ব্লগে দেখছি বেনামে লগইন করার সুযোগটাকে একশ্রেণীর মানুষ তাদের গোষ্ঠিগত স্বার্থে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে লেখাটা যদি হয় স্বাধীনতা বিরোধীদের তথা রাজাকারদের বিপক্ষে, তাহলে তো কথাই নেই। প্রথমেই লেখকের উপর দায় চাপানো হবে ধর্মের অবমাননার, তারপর মুল বিষয়টা বাদ দিয়ে চলবে লেখকে নাস্তানাবুদ করার পাঁয়তারা, হয়তবা জুটে যাবে দুই-একটা হুমকি ধামকিও!

আমি সবসময় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। কিন্তু জ্ঞানের অভাবে ধর্মীয় বিষয়টা এড়ানো আপাতত সম্ভব হলেও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় রাজনৈতিক বিষয়টা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনার চক্করে পড়ে মাঝে মাঝেই মাথায় রক্ত উঠে যাচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে দুই-একটা পোষ্ট দিয়েও ফেলেছি। কতক্ষণ আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, বলেন?

ভাবছি, ব্লগে আমিও “খাইছি ত্বরে” “মারমু শালারে”, “ঠ্যাঙ ধইরা ঘুরামু”, “কান্ধে তুইলা মারমু আছাড়” এই রকম বাংলা সিনেমা স্টাইলে কয়েকটি বেনামে একাউন্ট খুলে ফেলি। তারপর গিট্টু-ভুত মামাদের দেখাই কত ধানে কত চাল? কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার ফন্দী করছি আপা। যদিও এটা এখনো আমার মাথায় চিন্তা আকারেই আছে কিন্তু ব্লগের পরিবেশ নষ্ট হবে আর কূটবুদ্ধি মাথায় বেশীক্ষণ স্থায়ী হয় না বলে এখনো এটাকে বাস্তবে আনিনি কিন্তু গিট্টু মামা’রা যদি বেশি বেশি গিট্টু লাগাইতে থাকে আর ভুত মামারা বেশী বেশী ভয় দেখাতে থাকে, তাহলে তা খোলার ও ছাড়ানোর ব্যবস্থা তো করতেই হবে! কি বলেন আপা?

আপনার লেখাটাতে কমেন্টস দিতে যেয়ে বার বার এরর দেখলাম তাই একটা পোষ্টই দিয়ে ফেললাম !!!

ভাল থাকুন! সুস্থ থাকুন! আর বেশী বেশী লিখতে থাকুন!