ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

অফিসের ফিরতি গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা পারের জন্য ডানদিকের ফুট ওভার ব্রিজে না উঠে হাতের বামে কাঁচা বাজারের রাস্তা ধরতেই মঞ্জু ভাই জিজ্ঞাসা করলেন, দাদা কই জান? আমি বললাম, আসেন মাথার জ্যাম ছাড়িয়ে আসি, তাহলে চা খেয়ে মজা পাওয়া যাবে! বুঝলাম না? মঞ্জু ভাই বললেন। আমি বললাম আসেন আপনাকে বুঝিয়ে দেই। বলেই মঞ্জু ভাইকে নিয়ে কাঁচা বাজারে ঢুকলাম।

ঢুকেই প্রথম যে মাছের দোকান পরে; সেখানে দাঁড়িয়ে, পরিচিত দোকানি ছেলেটিকে তার শেষ বাজারের অবশিষ্ট ট্যাঙরা মাছের দিকে নজর আকৃষ্ট করে জিজ্ঞাসা করলাম, দাম কত? দোকানি উত্তর দিলো, চারশো টাকা কেজি। আড় মাছের দিকে তাকিয়ে বললাম, এর দাম কত? উত্তর পেলাম, পাঁচশো টাকা। এত টুকুটুকু আড় মাছ পাঁচশত টাকা কেজি? আমি স্বগক্তি করতে করতে বাজারের পথের উপর রাখা, বড় ঝাঁকায় পলিথিন দিয়ে বানানো ছোট আকারের চৌবাচ্চায় অতি যত্নে পোষা জ্যাতা (জ্যান্ত) রুইয়ের দিয়ে তাকিয়ে তার বিক্রেতাকে চোখ দিয়ে ইশারা করলাম, কত? উনি সেই চৌবাচ্চার জলে ক্রমাগত থাপরিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করতে করতে উত্তর দিলেন, জ্যাতা পাঁচশো আর ডালারগুলা চারশো, আপনি নিলে সাড়ে চারশো আর সাড়ে তিনশোতে দিব। আমি মনে মনে বললাম, হ’ আমি তো তোর দুলাভাই, তাই এত খাতির! এর আগে একদিন শালা, তুমি খাতির করে একটা পচা রুই মাছ গছিয়ে দিয়েছিলে, আর আমি তোমাদের এই লাল, নীল, হলুদ, সবুজ বাতির ভেল্কীতে পড়ে সেটা না বুঝতে পেরে বাসায় নিয়ে যেয়ে বউয়ের ঠ্যাঙ্গানি খেয়েছি। পরে সেই কাঁটা মাছটি ফেরত দেওয়ার নাম করে বাইরে নিয়ে এসে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে তবেই রক্ষা পেয়েছিলাম। আজ আবার সেই তাল?

মঞ্জু ভাইকে বললাম, আজ আর মাছ কিনবো না, চলেন! বলেই সবজির দোকানের দিকে হাঁটা ধরলাম। আজ আমিও মাছ কিনবো না, বলে মঞ্জু ভাইও আমাকে অনুসরণ করলেন।

শীতের তাজা সবজিতে দোকানগুলো ঠাঁসা। কি নেই তাতে? হরেক রকমের শাক থেকে শুরু করে গফর গাওয়ের লোফা বেগুন পর্যন্ত, সবই থরে থরে সাজানো আছে। সাদা বড় বড় ফুলকপির দিকে তাকিয়ে এক দোকানী জিজ্ঞাসা করলাম, কত? পঞ্চাশ। আর পাতাকপি? ত্রিশ টাকা। এত ছোট ছোট পাতাকপি ত্রিশ টাকা? আমি দোকানির দিকে ত্যাড়া চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম। দোকানিও আমাকে পাত্তা না দিয়ে অন্য কাস্টমারের দিকে তাকালেন। আমিও অন্য দোকানের দিকে ঘুরে আলুর দাম জিজ্ঞাসা করলাম, নতুন চল্লিশ আর পুরাতন ত্রিশ স্যার। অল্প বয়সী দোকানির উত্তর পেয়ে, লোফা বেগুন আর টমেটোর দাম জিজ্ঞাসা করার সাহস পেলাম না।

মঞ্জু ভাইকে বললাম, চলেন, অনেক হয়েছে, আজ কিছুই কিনবো না, এবার বাইরে যাই। বের হওয়ার পথ ধরতে ধরতে মঞ্জু ভাই বললেন, হ দাদা! চলেন, আজ আমিও কিছুই কিনবো না। আমার মাথা ভন ভন করে ঘুরছে। মনে হচ্ছে আমার নেশা হয়েছে। লন এবার চা খাই। এখন চা খেলে নিশ্চয় মজা পাওয়া যাবে? আমি বললাম, অবশ্যই পাওয়া যাবে, আর সেই জন্যই তো মাথার জ্যাম ছাড়াতে বাজারে ঘুরলাম যাতে বাজারের তাপে জ্যাম গলে একটু তরল হয়, না হলে আমাদের চিনি ছাড়া লিকার চা পানে ব্রেনের মধ্যে যে ট্র্যাফিক জ্যাম লেগে আছে তা কাটবে না।

খালি হাতে বাজার থেকে বের হতে হতে মাথা ক্রমাগত ঘুরছে। মনে হচ্ছে নেশা হয়েছে। খালি মনে হচ্ছে, কখন যে কার মাথায় বাড়ি দেই!