ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

অনেক দিন ধরেই প্রশ্নগুলো আমার মনের মধ্যে ঘুরছে। ভাবছি বিডি ব্লগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সামনে রেখে আমার মনের মধ্যে ঘুরতে থাকা সেইসব প্রশ্নগুলোকে আমার প্রিয় ব্লগের প্রিয় ব্লগারদের সামনে তুলে ধরি।

সুযোগটা যখন এসেই গেছে, তাই আর দেরি করলাম না। সেই প্রশ্নগুলোকে কয়েকটি পর্বে এক এক করে বলছিঃ

প্রথম প্রশ্নপর্বঃ

আমেরিকার যেসব সৈন্য আফগানিস্তানে তালেবান ও আল-কায়দা যোদ্ধাদের সাথে সরাসরি ফ্রন্ট লাইনের পাথুরে জমিতে বন্দুকের ট্রিগার টিপে টিপে যুদ্ধ করছে, আর যেসব সৈন্য পেন্টাগনের এসি রুমের সোফায় বসে গরম কফির মগে চুমুক দিয়ে ড্রোনের বোতাম টিপে টিপে যুদ্ধ করছে- তারা কি সব একই ধরনের যোদ্ধা? তাদের ঝুঁকি কি এক? তাদের কি একই পাল্লায় মাপা উচিত?
আমেরিকা কি তার “বন্দুক চালানো যোদ্ধা” আর “ড্রোন চালানো যোদ্ধা”দের একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করবে? তারা কি ড্রোন চালানো যোদ্ধাদের সেনাবাহিনীর সামনের কাতারে, মানে সেরা দশে নিয়ে আসবে?

আমি যতদূর বুঝি, তা তারা করবে না, করলে আঁচিরেই আমেরিকার সৈন্যরা পোল্ট্রি মুরগি’র মত পোল্ট্রি সৈন্যতে রূপান্তরিত হবে আর আমেরিকার সেনাবাহিনীর নতুন নামকরণ হবে “পোল্ট্রি সেনাবাহিনী”!

শুনলাম বিডি ব্লগে নাকি “সেরা ব্লগার” বাছাই হচ্ছে? এর প্রক্রিয়া কি?

ধরুন! রাজাকার, আলবদর তথা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়ে যে ব্লগার ঢাকায় বসে লিখছে আর একই বিষয় নিয়ে যিনি নিউইয়র্কে বসে লিখছে- এই দুই জনের ঝুঁকি কি এক?

অবশ্যই না! ঢাকায় বসে যিনি লিখছেন, তিনি হলেন “ফ্রন্ট লাইনার” এনার ঝুঁকি শতভাগ। আর যিনি নিউইয়র্কে বসে লিখছেন, তিনি হলেন “ড্রোন লাইনার” এনার ঝুঁকি শূন্য! আমার বিবেচনায় এই দুজন কিছুতেই একই বাটখারায় মাপযোগ্য নয়!

মালালা সোয়াতে বসে না লিখে, যদি মেলবোর্নে বসে লিখত, তাহলে কি সে “মালালা” হতো বা হওয়ার সুযোগ পেত? আমি বলবো অবশ্যই না! তার মানে ওর ক্ষেত্রে ঝুঁকির দিকটা বিবেচিত হয়েছে সবার আগে।

বিডি ব্লগে কি এই বিষয়টা বিবেচিত হবে?

দ্বিতীয় প্রশ্ন পর্ব:

ঢাকায় দিনের আলোতে চাপাতির কোপে বিশ্বজিতের নির্মম মৃত্যু দেখে দেশবাসী যখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, ঠিক তখনই, ঢাকাসহ দেশে-বিদেশে বসবাসকারী ব্লগাররা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ব্লগ লেখার পাশাপাশি, খুনিদের চিহ্নিত করে তাদের বিচার দাবী করেছে।

এখন আমার প্রশ্ন হল, সেই সময়কার ওই সব সাহসী ব্লগারদের মধ্যে যারা দেশে থেকে লিখেছে তাদের লেখায় “ঝুঁকি মান” আর একই বিষয় নিয়ে সেই সময় যারা বিদেশ থেকে লিখেছে তাদের লেখায় “ঝুঁকি মান” কি এক হবে?

আমি নিশ্চিত! সেই সময় যারা ঢাকা থেকে লিখেছেন, তারা কেউই ঢাকার রাস্তায় নিশ্চিন্ত মনে হাটতে পারেননি। অপরদিকে যারা বিদেশ থেকে লিখেছে, তারা তাদের ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে অপেক্ষায় থেকেছে, তাদের নতুন পোষ্ট-কৃৎ লেখাটা ব্লগ টিমের ছাড়পত্র পেয়েছে কিনা!

এখন লেখাগুলো কি সব একই মানে মূল্যায়িত হবে? এক্ষেত্রে কি “ঝুঁকি মান” বিবেচিত হওয়া উচিত নয়?

তৃতীয় প্রশ্নপর্বঃ

অনেক সময় দেখেছি, কিছু কিছু পোষ্ট ব্লগ হাইলাইট করা হয়েছে, আবার বিডি নিউজের প্রথম পেইজে হেডলাইন সহ লিংক দেওয়া হয়েছে। যার কারণে সেইসব লেখা বেশি পাঠক পেয়েছে। এখন যদি লেখা বাছাইয়ে সর্বাধিক পঠিত লেখাগুলোকে বিবেচনা করা হয়, তাহলে কি যে সব লেখা হাইলাইট করা হয়নি তাদের সাথে অন্যায় করা হবে না?

আবার দেখেছি, কিছু কিছু ব্লগারের লেখা বেশি বার হাইলাইট করে বেশি পাঠক পেতে সহায়তা করা হয়েছে। যার কারনে ওইসব ব্লগারের লেখাগুলো সর্বাধিক বার “সর্বাধিক পঠিতের” তালিকায় থেকে গেছে। এখন যদি এই বিষয়টাকে মান হিসেবে ধরে সেরা ব্লগার নির্বাচন করা হয়, তাহলে কি সেই নির্বাচন সঠিক হবে?

অন্যদিকে আরও দেখেছি, আওয়ামীপন্থী বা সরকার পন্থী হিসেবে পরিচিত ব্লগাররা হাইলাইট হওয়ার বেশি সুযোগ পেয়েছে বিএনপিপন্থী বা সরকার বিরোধী পন্থী হিসেবে পরিচিত ব্লগাদের চেয়ে। এই বিষয়টা খুব বেশি দৃষ্টি কটু ছিল বছর ধরেই! আমি মনে করি এক্ষেত্রে বিএনপি পন্থী বা সরকার বিরোধী ব্লগারদের সাথে সঠিক আচরণ করা হয়নি বা তাদের লেখা যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা কি ঠিক হয়েছে?

চতুর্থ প্রশ্নপর্বঃ

উপরের প্রশ্নগুলোর বিষয় গুলো কি ২০১৩ সাল ধরেও চলবে? এবং আমি কি ২০১৪ সালের একই তারিখে একই প্রশ্নপর্ব নিয়ে পোষ্ট দেব?