ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীজীবীদের জন্য পেনশন চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আব্দুল আল মুহিত। আমি সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি দাবী জানাই সরকারের এই উদ্যোগ যেন শুধুমাত্র কথার ফুলঝুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তা বাস্তবায়িত হয়। এটাও দাবী জানাই, এটা যেন আবার কোনরকমের রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি না হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে একটা বড় জনগোষ্ঠী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকুরী করছে। যাদের মধ্যে যেমন আছে উচ্চ শিক্ষিত দক্ষ কর্মী বাহিনী তেমনি আছে অশিক্ষিত নারী-পুরুষ। যারা তাদের কাজের মাধ্যমে নিজ প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতির সাথে সাথে প্রকান্তরে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আজ আমরা যে মধ্য আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি, সেই স্বপনের প্রধান কারিগরই কিন্তু এই জনগোষ্ঠী।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা চাকুরী করছেন তাদের জন্য অবসর কালীন পেনশনের ব্যবস্থা করা হলে এথেকে দেশের একটা বড় জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশের অধিকাংশ বেসরকারকারী প্রতিষ্ঠানেই এই সুযোগ নেই। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে থাকলেও তা যথাযথ ভাবে বাস্তবায়িত হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একজন কর্মীর চাকুরী যাওয়ার পরে বা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে সে স্বেচ্ছায় চলে গেলে বা অবসর নিলে প্রতিষ্ঠানটি তার প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করে না বা করলেও নানারকমের টালবাহানা করে টাকা আটকিয়ে রাখে।

এমনিতেই যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন তারা সব সময়ই একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে কিন্তু শুধুমাত্র একজন কর্মীই থাকেন না, থাকেন তার উপর নির্ভরশীল পরিবার পরিজন তথা স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, বাবা, মা সহ সকলে।

এই প্রসঙ্গে এটা উল্লেখ না করলেই নয় যে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা চাকুরী করেন তাদের প্রায় সবসময়ই চাকুরী  হারানো জনিত একটা ভীতির মধ্যে থাকতে হয়। তা প্রতিষ্ঠান যত ভালই হোক, একটা অনিশ্চয়তা সব সময়ই থাকে। যদিও আমি মনে করি এই ভীতি সবসময় একজন কর্মীকে তার কাজের প্রতি সৎ থাকতে বাধ্য করে পাশাপাশি একটা প্রতিযোগিতার মধ্যে সে নিজেকে আপগ্রেড করতে পারে বা বাধ্য হয়। প্রকান্তরে এটা একজন কর্মীকে দক্ষ করে তোলে এবং প্রতিষ্ঠান ও দেশ এগিয়ে যায়। তাই এই ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য একটা আর্থিক নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা আবশ্যক যা প্রকান্তরে দেশকেই লাভবান করবে এবং দেশের অর্থনীতিকে সুস্থ ও সবল রাখবে।

তাই আমি মনে করি, সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে একটা ভাল আইন তৈরী করে তার যথাযথ প্রয়োগ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু আছে এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য আয়করের ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট হারে ছাড়ের ব্যবস্থা করলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এটা বাস্তবায়ন করতে উৎসাহিত হবে।

০৭/০৪/২০১৪