ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

তাহলে অবস্থা এই? আমরা তাহলে ভবিষ্যতে জন ঘাটতিতে ভুগতে যাচ্ছি? আজকের নিউজটা পড়ে কিন্তু আমার তাই মনে হচ্ছে! যেখানে শুনতে পাচ্ছি নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ভূমির পরিমাণ এক রেখে জনসংখ্যা হতে যাচ্ছে ২৫ কোটি! অপরদিকে আরও শুনতে পাচ্ছি গ্লোবাল ওয়ারমিং-এর কারণে দেশের এক তৃতীয়াংশ ভূমি সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছে, হতে যাচ্ছে উদ্বাস্তু কোটি দুয়েক মানুষ নিজ দেশেই। সেখানে আরও জনসংখ্যাবৃদ্ধির উৎসাহ দেওয়ার মানে কি? তাহলে কি উপরে যে দুটো প্রেডিকশনের কথা বললাম, তা কি ভুল তথ্য? তাহলে কি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে ক্ষতির আশংকা করা হয় তা নিছক অলিক কল্পনা? বিদেশের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের নামে টাকা নেওয়ার কায়দা?

আমার মাঝে মাঝে মনে হয়- এই দেশের সবকিছু যদি আমাদের নেত্রস্থানীয়দের দুই-একজনই ভাল বোঝেন  তাহলে তো আর দেশে বিশেষজ্ঞ মানুষের প্রয়োজন পড়ে না! সবচেয়ে ভাল হত যদি একজন-দুজন বাদে দেশের আর সব মানুষের মাথায় ঘিলু বাদ দিয়ে অন্যকিছু থাকতো! কিন্তু সেটা তো আর হয় নাই – এটাই দুঃখের কারণ!

জনসংখ্যার চাপে দেশে মানুষের এমনিতেই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা! রাস্তায় পা ফেলা যায় না, বাসে লঞ্চে ওঠা দায়, কৃষি জমি কমে যাচ্ছে দিন দিন, নদী-খাল দখল হয়ে যাচ্ছে, নাই বাচ্চাদের পড়ার মত পর্যাপ্ত স্কুল-কলেজ! নাই আরও কত কিছু! আর আমরা তুলনা শুনছি চিন, জাপানের? কিন্তু বিবেচনা করছি না- চিন-জাপান যেখানে আছে সেখানে আমাদের পৌছাতে কতদিন লাগবে বা আদৌ পৌঁছাতে পারবো কিনা? অপরদিকে চিন-জাপানের প্রতি বর্গমাইলে কত জন মানুষ বাস করে আর আমাদের এখানে কতজন করে এবং ভবিষ্যতে কতজন করবে? আর ওদের পার ক্যাপিটা ইনকাম কত আর আমাদের কত? সেটাও বিবেচনা করছি না!

আমি মনে করি দেশে বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির যে হার এখানে দেখানো হয়েছে, মানে ১.৩৭ শতাংশ; তাতে একটা শুভঙ্করের ফাঁকি আছে; আর সেটা হল দেশ থেকে প্রতিবছর যে পরিমাণ মানুষ বিদেশে চলে যাচ্ছে বা গিয়েছে তা জনসংখ্যার মুল বৃদ্ধি থেকে বাদ পড়েছে, যার কারণে গড়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কম দেখা গেছে গাণিতিকভাবে। আর এই জনস্রোত বিদেশমুখী না হলে এই দেশের মানুষের সংখ্যা হত প্রায় ২০ কোটি! এখানে একটা সংখ্যা উল্লেখ করতে চাই আর তা হল- আমরা জানি বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের সময়, মানে ১৯৭১ সালে এদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের হার ছিল মোট জনগোষ্ঠীর ২২% আর বর্তমান ২০১৪ সালে ১০%। তাহলে এই ১২% মানুষ গেল কোথায়? তাদের কি জন বৃদ্ধি হয়নি? অপরদিকে ইউরোপ- আমেরিকায় বাংলাদেশি নাগরিকের স্থায়ীভাবে বসবাস করার হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম সেখানেই বেড়ে উঠছে। তাহলে এই জনসংখ্যা কি দেশের মোট জনসংখ্যার সাথে যোগ হত না?

আমি আশংকা করছি, এখন এই উৎসাহ মূলক বাতচিত শুনে দেশে জনসংখ্যা প্রোডাকশনের জোশ বেড়ে যাবে বহুগুণে! আর আমাদের প্রতিবেশী দেশ দুটি বাংলাদেশী চিহ্নিত করে পুশব্যাক করার তোড়জোড় শুরু করবে নতুন করে!

তখন ???

২০/০৬/২০১৪, ৩.০০ বিকাল