ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

মাসুদ কইল, দাদা মিশর হইয়া টার্কি যামু ক্যাম্নে কি? একটু বুঝাইয়া কন?

কইলাম, গদ্যে কমু না পদ্যে? নাকি ছড়ায়?

ও কইল, যাতেই কন না ক্যান বুঝলেই হইলো!

আমি কইলাম, তয় শোনো-

কি হচ্ছে এসব? চারদিকে দেখি বিমানের মড়ক লাগচ্ছে!

এদ্দিন ভাবতাম, কুফা বোধহয় শুধু মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সেই লাগছে-

এখন দেখছি না, সব ভুল, মনের বিভ্রম!

মালয় দুইখানকে ফলো করছে তাইওয়ান আর আলজেরিয়ার বিমানও!

সবই ফেবুর বাতাস! ফলোয়ার হও, না হলে বাড়াও!

একা চলতে পারে না কেউ, বন্ধু বিহীন জীবন; অচল!

আমি বললাম, বুঝলা?

ও কইল, কিছু বুঝলাম, আর কিছু মাথার উপ্রে দিয়া গেল। তয় এটা হাইব্রিড হইলো মানে খচ্চর টাইপের হইলো আর কি! মাইন্ড খাইয়েন না? তয় আর একটু পরিষ্কার হইলে ভাল হইত!

আমি বললাম, তবে তুমি শোন, তুমি ওই দেশ গুলোতে বেড়াইতে যাইবা, নিশ্চয় বিমানে যাইবা? এটা বিমানের জন্য অসময়, এই ধর প্রথমে মালয়েশিয়ার MH 370 টা গুম হইলো আকাশ থিকা। ওখানে কিন্তু লুকানোর কোন জায়গা নাই, তারপরেও ওটা নাই হইয়া গেছে। ওটা খুঁজতে খুঁজতেই MH 17 গুলি খাইয়া উইড়া গেল, তয় ভাগ্য ভাল যে এটা হারাইয়া যায় নাই। ভাঙ্গাচুড়া কিছু জিনিষ পাওয়া গেছে আর পাওয়া গেছে মানুষের পোড়া দেহ। খুবই দুঃখের কথা! কারা তাদের মারলো এটা যেমন ওরা জানলো না, আমরা যারা গ্রাইডে আছি, আমরাও এটা জানি না, হয়ত কোনদিনও জানবোও না! এবার খুনিরাই গুম হইয়া যাইবো দেখবা।

আবার দেখো, বিমানের এক্সিডেন্টের ধুম লাইগা গেছে, এত অল্প সময়ের মধ্যে আগে কখনো এত বিমানের এক্সিডেন্ট হইতে দেখছো? মালয়েশিয়ার দুইখানের পর তাইওয়ানেরটা গেল, এরপর গেল অালজেরিয়ারটা। তাই বলছি ওরাও ফলোয়ার আর ফলোয়িং খেলা শিখা গেছে; মানে ফেসবুকের বাতাস লাগছে ওদের গায়েও! বুঝলা?

বুঝলাম! মালয়েশিয়ার দুনম্বরটার সাথে আমি একমত না, ওটা কাউকে ফলো করে নাই, ওটাকে ফলোয়ার বানানো হইছে। আর প্রথমটা হাওয়া হয় নাই, ওটা সাগরে ডুইবা গেছে!

আমি বললাম, তয় শোন-

নয়া দুশমন ইউক্রেনের দুই গ্রুপের বিমান গুলার কথা না হয় বাদই দিলাম-

ওরা নিজেরা নিজেরা ফ্যাসাদ কইরা একে অপরের গুলা খাইতেছে।

ফাঁকতালে বেচারা মালয়েশিয়ার একখান খাইছে!

এমনিতেই একখান হারাইয়া; ওরা সাগরে আগে থিকাই ডুইবা আছে!

হ, দাদা! আপনার কথাই ঠিক, ইউক্রেন আসলেই এখন দুনিয়ার জন্য দুঃখ! ওদের সুখে থাকতে ভূতে কিলাইছিল! আমেরিকার পামে ভুইলা নিজেরে বাঘ ভাবছিল। এখন পুতিনের ঠ্যালায় ক্রিমিয়া তো গেছেই, আরো কয়টা প্রদেশ যাই যাই করছে। তয় আপনার দুশমন কথাটা ঠিক বুঝলাম না?

আমি কইলাম- শোন, ইউক্রেনে এখন একদেশে দুই সরকার চলছে। এর একটা চলছে ওবামা’র কথায়, আর একটা চলছে পুতিনের কথায়। দুই দলই অস্ত্র চালাতে আর ক্রিমিনালীতে সমান দক্ষ। ধর এমনও হইতে পারে, ইউক্রেনের আমেরিকা পক্ষ জানে বাশিয়ার পক্ষের কাছে হ্যাভী বিমান মারা অস্ত্র আছে। আর জানে কোন এলাকা দিয়া প্যাসেঞ্জার প্লেন ওড়ে। সেগুলো জাইনাই নিজেরদের বিমান দিয়ে ওই এলাকা গুলোতে কিছু প্রক্সি ফ্লাইট চালাইছে। মানে রাশিয়ার পক্ষকে খোছাইছে। আর রাশিয়ার পক্ষেরও মাথা মোটা প্লেন দেইখাই মেশিন চালাইয়া দিছে। ফলাফল তো তুমি জানই। আর এটা মনে হয় জাননা যে, এই কর্ম এর আগেও রাশিয়ার বড় ভাই- সোভিয়েত ইউনিয়ন করেছিল কোরিয়ার প্যাসেঞ্জার প্লেনের উপর আর আমেরিকা করেছিল ইরানের সেম প্লেনের উপর। দুইটারই কোন বিচার হয়নি। উল্টা যারা তখন মেশিন চালাইছিল তারা প্রোমোশন পাইছিল।

তাই নাকি দাদা? তাইলো তো আপনার কথাই ঠিক। ওরা আসলেই নয়া দুশমন। আমরা দেখি ইউক্রেনকে; আসলে কাম সারতাছে বড দুই ভাইডি। তয় মালয়েশিয়ার প্রথমটা? ওটার কি হইলো?

ওটার কিছুই হয়নি মানে এক্সিডেন্ট হয়নি। প্যাসেঙ্গারসহ কোন জায়গায় নামাইয়া গুম করা হইছে আর মালয়েশিয়াকে ভাওতা দিয়ে সাগরে খোজাইতেছে। এই আর কি!

কিন্তু আমি যামু মিশরে আর টার্কিতে সে বিষয়ে তো কিছু কইলেন না?

কইলাম শোনো তাহলে-

এদিকে শুনলাম, হামাসও নাকি ইসরাইলের একখান ফালাইয়া দিছে-

তাও আবার সেইখান বস আমেরিকার সাপ্লাই করা F-16, বাঘা ফাইটার!  

এমন একখান পাকিস্তানও হারাইছে, নিজেদের উপ্রেই বোমাইতে যাইয়া

লালায়েক গুলার যা কাম, তাও আবার নিজ জানি দোস্ত- তালেবানের হাতেই!

যদিও ইহারা সবগুলাই ছিল, বিশ্ব মোড়ল আমেরিকার ভয়াবহ গর্বের প্লেন!

এ কি কইলেন, বুঝলাম না কিছুই?

শোন, তুমি যে যায়গায় যাইতেছ, আমি সেই জায়গার কথাই কইতাছি। দেখো, বোয়িং আর F-16,  দুইটা প্লেন নিয়েই আমেরিকা বাহাদুরি দেখায়, গর্ব করে। আজ সেই গর্ব খান খান হইয়া যাইতেছে। এই কারেন্ট যুদ্ধে হামাস তাদের কমদামী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়াই ইসরাইলের একটা F-16 ফাইলাইয়া দিছে, এখন যদি রাশিয়া দুষ্টামি কইরা হামাসের হাতে আরো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র তুইলা দেই আর ওরা যদি তোমাদেরটাই টার্গেট করে তাহলে তুমি আর তোমাদের বাহী প্লেনটা গেছে। আর আমেরিকাকে বিশ্ব মোড়ল কইছি কারন পৃথিবীতে যাই ঘটুক না কেন দেখা যাবে ইনি কোন এক পক্ষে আছেই। কখনো বা দুই পক্ষেই থাকে! আমাদের গ্রামের ভিলেজ পলিটিশিয়ানদের মতই এনার আচরণ, খালি একে অপরের সাথে প্যাঁচ লাগায়!

ওইদিকে পাকিস্তানের একটা F-16 ও নিজ ভায়েরা মানে তালেবানরা ফালাইয়া দিছে। আর জান তো পাকিরা হল পৃথিবীর স্বঘোষিত সেরা সেনাবাহিনী যারা শুধু নিজ দেশেই যুদ্ধ করতে পারে আর নগদে হারে, তারপরেও তারাই সেরা এই পৃথিবীতে! এই জন্যই ওদের লালায়েক কইছি।এরা একটা বড় যুদ্ধ করছিল তাদেরই নিজ ভূমি পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৭১ সালে যেটাতে হেরা গোহারা হারছিল শুধু  নয়; বাংলার বিচ্ছু বাহিনীর ভয়ে ওদের মূল কমান্ডার, তাদের জাতশত্রুর কাছে অস্ত্রসমেত ৯৩ হাজার সৈন্য সহ সারেন্ডার করেছিল- যার নমুনা তুমি এই আধুনিক যুগে কোথাও পাইবা না।আর ওরা বর্তমানে যুদ্ধ করছে নিজ ভূমি বেলুচিস্থানে- সেটাতেও হারবে ধইরা রাখো। পাকিসেনারা হইলো নিরাপরাধ মানুষ মারা আর ধর্ষণে ওস্তাদ বাদবাকি আইওয়াশ যা এখনো বর্তমান। তামিল টাইগারের কমান্ডার প্রভাকরনের কথাই ধর? মাত্র হাজার পাঁচেক গেরিলা যোদ্ধা লইয়া শ্রীলঙ্কান প্রায় এক লক্ষ সৈন্যের সাথে ফাইট কইরা যুদ্ধের ময়দানেই শহীদ হইছে। এই শহিদকে কিন্তু তুমি আবার আমাগোরে শহিদ প্রেসিডেন্টের শহিদের সাথে মিলাইও না, দুই শহিদে অনেক পার্থক্য একটা হল রিয়েল যা হয়েছে যুদ্ধের ময়দানে আর একটা হল হাইব্রিড যা হয়েছিল সরকারী বাসভবনে ঘুমন্ত অবস্থায় ফাইভ স্টার ফ্যাসিলীটিতে। আর বিশ্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধাই যদি কও তাইলে জাপানের সামুরাই আর নেপালের গোর্খাদের ইতিহাস পড়, দেখবা তারা যুদ্ধের ময়দানে কখনো পিছায় না। যদি কখনো সারেন্ডারের মত অবস্থা হয় তখন তারা ওটা না করে আত্মহত্যার নামে যুদ্ধের ময়দানে জীবনদানকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে এবং নিজ ছুরিটা দিয়ে তাই করে যা করার জন্য তারা সব সময় প্রস্তুত থাকে; আর ছুরিটাও সব সময় সাথে সাথেই রাখে।

ইসরাইলের ক্ষতিতে মাসুদ যতটুকু খুশি হইছিল, পাকিস্থানের কথায় সে চরম দুঃখ পাইয়া কইল, দাদা বিমান তো ভারতেরও এক্সিডেন্ট হয় তাইলে কি ওরাও খারাপ?

আমি কইলাম-

ঐদিকে ইন্ডিয়ার MIG-21 এর তো কোনই ভরসা নাই, উড়লেই পড়ে!

‘উড়ন্ত কফিন’ বইলা নিজেরাই গাইলায়! ভারত জুড়ে চিল্লায়!

আমি অভাগা আর একে কি কমু?

আমার মুখে ও ভারতের দুর্দশার কথা শুইনা দ্বিগুণ খুশিতে কইল, দাদা এখন একটা গদ্যে আমাকে এডভাইস করেন, আমি এখন কি করমু? আমি কি বেড়াইতে যামু না?

আমি কইলাম,  যাইবা, অবশ্যই যাইবা। শুধু জাইনা রাখো, তুমি যেখানে যাইতেছ, সেখানে শুধু ইসরাইল না, হামাসও আছে, আর আছে ইরাকের নতুন খলিফার দল, সিরায়ার আসাদ বাহিনী। সব কিন্তু মাথা ছাড়া পাবলিক! খুব খেয়াল কইরা কইলাম! পারলে ব্যাগে কইরা একখান বড় পলি ব্যাগ লইয়া যাও, বিপদ দেখলে ফুলাইয়া বিমান থেকে লাফাইয়া পড়তে পারবা! আমরা নিচ থেকে তাকাইয়া দেখুননি আর ফেবুতে মায়াময় স্ট্যাটাস পোষ্ট দিয়া লাইক কামানোর ধান্দা করুমনি! কারণ মিশর বা টার্কি অথবা একেবারে সরাসরি ঐপারে যাওয়ার আর কোন বিকল্প রাস্তা আমার জানা নাই,  তাই তোমার জন্য ভাল কোন এডভাইসও নাইক্যা। আগেই কইয়া রাখলাম! বাই ব্রো!

কি কন দাদা, আমারে একেবারে বিদায় দিয়ে দিচ্ছেন? আমি না আপনার লগে এক হইয়া কট্টর ব্রাজিল সাপোর্ট করলাম? আমারে আপনি বিপদে ফালাইয়া ভাইগা যাইতেছেন?

আমি কইলাম, আমার কি দোষ? তুমি বিমানের এই মড়কের মধ্যে তাতে করেই দূর দেশে ভ্রমণে যাইবা এতে আমি কি করমু? পরে যাওয়ার কথা কইয়া কি আমি ফাইসা যামু? তখন তোমাকে ছুটি কে দিব? এমনিতেই আমি বিমান নিয়ে বড়ই টেনশনে আছি। মাইরি কইছি!

নিজে বাঁচলে বাপের নাম !!!

অফটপিকঃ তয় মাসুদ, যাওয়ার আগে একটা কথা শুইনা যাও! তুমি যে আমার গদ্য-পদ্য মিশানো হাবিজাবি এই গদ্য কবিতাটাকে খচ্চর কইছো, এটা কিন্তু আমার পছন্দ হইছে! এতক্ষনে আমি আমার ব্লগের মডুদের মনের অবস্থা বুজতে পারলাম। আমি তাই তো কই? ওনারা এত ভদ্র পোলা-মাইয়া; কিন্তু আমার লেখাটা ছাড়েনা ক্যান? তোমার কমেন্টসে আমার চোখ খুইলা গেছে। ভাল্লাগছে!

মাসুদ এই প্রথম মুচকি হাইসা কইলো, দাদা, খচ্চর কিন্তু আমি আপনার এই ফালতু কবিতাকে কই নাই!

আমি কইলাম, তাইলে কারে কইছো?

দাদা, আপনার মাথায় বুদ্ধি গজ গজ করে; আমি তা জানি, তাই আপনিই এটা বুইঝা লন! – এটা বইলাই ও হাইসা ফালাইলো!

আমিও আচ্ছা বইলাই চিন্তায় পইড়া গেলাম, আর মাসুদ মুচকি হাসতে হাসতে চইলা গেল !!!

২৪-২৫/০৭/২০১৪